নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। তাই দেশে ১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আরও কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আট বিভাগীয় শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৬০ শয্যার সমন্বিত ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।
ভয় না পেয়ে দেশবাসীকে করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর জন্য আমরা ৩১ কোটি টিকার ব্যবস্থা করেছি। দেশের মানুষের সুস্থতায় এবং একজন মানুষও যেন টিকা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সারাদেশে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ছাড়াও বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলতে জনগণকে অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় ৮ শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে কেন এত ক্যানসার হচ্ছে? এজন্য চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণাও করতে হবে। রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি চিকিৎসকরা যদি কিছুটা সময় গবেষণায় ব্যয় করেন, দেশের আবহাওয়া-জলবায়ু, মানুষের কী কী ধরনের রোগ দেখা দেয়, প্রতিরোধ শক্তি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ রোগী পেটের সমস্যায় ভুগত।
ইতোমধ্যে আমরা গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। একইভাবে ইএনটি ইনস্টিটিউট, আই ইনস্টিটিউট, সব ধরনের ইনস্টিটিউট আমরা ধাপে ধাপে করে দিয়েছি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নতুন ১৫ তলা ক্যানসার ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটির কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামেই মিলবে ক্যানসারের বিশেষায়িত সব সেবা। চট্টগ্রাম জেলার ১ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ক্যানসার চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি। বিত্তবানরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কিংবা দেশের বাইরে ছুটে গেলেও সেবা থেকে বঞ্চিত হন স্বল্পআয়ের মানুষ। তাই বিলম্বে হলেও চমেক হাসপাতালে বিশেষায়িত এ ক্যানসার ইউনিট করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর বাইরেও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালেও ক্যানসার ইউনিট করার কথা রয়েছে।
জানা যায়, চমেক হাসপাতালের ক্যানসার ওয়ার্ডের পাশে ক্যান্টিন সংলগ্ন খালি স্থানে নতুন ১৫ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ক্যানসার ইউনিটের পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগ বিভাগও থাকবে। অন্তত দুটি ফ্লোর বরাদ্দ রাখা হবে কিডনি বিভাগ ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্য। সিসিইউসহ হৃদরোগ বিভাগের জন্য বরাদ্দ থাকছে আরও দুটি ফ্লোর। আর আটটি ফ্লোর বরাদ্দ পাচ্ছে ক্যানসার ইউনিট। ১৫তলা এ ভবনে প্রথম দিকে মোট ৪৬০ শয্যা থাকবে বলে জানা গেছে। থাকবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সুবিধা। ক্যানসারের চিকিৎসায় অপরিহার্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন ছাড়াও থাকবে সর্বাধুনিক লিনিয়ার এঙ্গিলেটর মেশিনও।
এর বাইরে থেরাপি নিতে অক্ষম রোগীদের জন্য থাকবে প্যালেটিভ কেয়ার (ব্যথা নিরাময়ে)। শিশু ক্যানসার রোগীদের জন্য থাকবে অন্তত পাঁচটি শয্যা। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চিকিৎসক ছাড়াও ক্যানসার ইউনিটে অন্তত তিনজন অ্যানেসথেসিস্ট, ক্যানসার সার্জন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাখার কথা রয়েছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রতিবছর ৫০ হাজার লোক নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও এ রোগের চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় চমেক হাসপাতালে ক্রমেই রোগীদের চাপ বাড়ছে। সে চাপ সামলাতেই নির্মাণ করা হচ্ছে ১৫ তলা ভবন। ক্যানসার ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রামেই মিলবে বিশেষায়িত সব সেবা। ময়মনসিংহ ব্যুরো জানায়, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪৬০ শয্যার ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম কিবরিয়া, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান, গণপূর্ত অধিদপ্তর ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্তরঞ্জন দেবনাথ, সিভিল সার্জন নজরুল ইসলামসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
গণপূর্ত অধিদপ্তর ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম কামরুজ্জামান জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ গেটে প্রবেশ মুখের বাম পাশে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা বেজমেন্টসহ ১৭ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলমান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
