নিউজ ডেস্ক।।
শিক্ষাবোর্ডের নামে টাকা আদায় ও অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক অভিভাবক। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে জমা হওয়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত সুপারিশ করেছেন চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। আর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিভাবকের দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন জসিম উদ্দিন নামে এক অভিভাবক। অভিযোগে তিনি খাগরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপম মহাজনের বিরুদ্ধে নথির তথ্য সংশোধনের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের নামে টাকা আদায়, শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম না মেনেই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া, সনদসহ বিদ্যালয় থেকে নথি সংগ্রহে এলেই শির্ক্ষাথীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী প্রতি অতিরিক্ত নেওয়া দুই হাজার টাকা থেকে ৪০০ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু বাকি ১ হাাজর ৬০০ টাকা এখনো ফেরত দেননি। করোনার কারণে বার্ষিক পরীক্ষায় মাত্র তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিক সময়ে নেওয়া ৮ থেকে ১১টি পরীক্ষার সমপরিমাণ ১৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদানের দুই মাস আগে থেকেই বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন অনুপম মহাজন। সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-অবহেলার কারণে ২০২১ সালে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। বাদ পড়া জেএসসি পরীক্ষার্থীদের পুনরায় ভর্তি না করায় ১৪ জন শিক্ষার্থী ২০২০ সালে সরকার নির্ধারিত অটোপাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার পরও নিজের ক্লাস অন্য শিক্ষকদের মাধ্যমে করান প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী জসিম উদ্দিন বলেন, আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক। আমার মেয়ে এই বিদ্যালয়ে পড়ে। কথায় কথায় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। কখনো সনদের নামে, কখনো পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে টাকা তোলেন। অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে আমি শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাগরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপম মহাজন বলেন, আমি অনিয়ম করে এক টাকাও আদায় করিনি। শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি হচ্ছে, প্রথমে বোর্ডের নির্দেশনায় আমরা টাকা নিয়েছিলাম, পরে বোর্ডের নির্দেশেই টাকা ফেরত দিয়েছি। আর যে অভিভাবক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, তিনি স্কুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি তার সন্তানের শিক্ষক হিসেবে যে সম্মান দেওয়ার কথা, তাও দেন না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে আমার নামে বদনাম ও গালিগালাজ করেন। তারপরও তিনি যখন বোর্ডে অভিযোগ দিয়েছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে সত্যতা পেলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, অভিযোগটি আমার হাতে এখনো পৌঁছায়নি। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঢাকায় আছেন। উনি আসলে অভিযাগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
