নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জট খুলছে: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার পর নীতিমালা তৈরিতে বিলম্ব ও মামলার কারণে দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে ছিল। ২০১৮ সালে নীতিমালা চূড়ান্ত করার পর ৪২০ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি চাকরি বিধামালা (বিএসআর) ১৯৮১ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি করতে হয়। গত এপ্রিলে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। পদোন্নতি যোগ্য শিক্ষকদের তালিকে চেয়ে মাউকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র তিন জন শিক্ষক ফিডার পদ পূর্ণ করায় তাদের তালিকা পাঠায় মাউশি।
ফের গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় ফের মাউশিতে চিঠি পাঠায়। প্রধান শিক্ষক শুন্য পদে পদোন্নতি দিতে ডিপিসি সভা আয়োজন করতে প্রধান শিক্ষক পদে শুন্য পদের সংখ্যা, পদোন্নতিযোগ্য ফিডার পদে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ২৭ মের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়। জবাবে মাউশি ২৩৩ জনকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুপরিশ করে।
পদোন্নতির শর্ত পূরণ না হওয়ায় শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, দীর্ঘ দিন পদোন্নতি আটকে থাকায় শিক্ষকরা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। যে কারণে তারা পদোন্নতির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে দীর্ঘ দিন চাকরি করায় সবারই প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতার রয়েছে। এসব যুক্তি দিলে তারা রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন চেয়ে পদোন্নতির দাবি করেন। শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রমার্জনের জন্য প্রস্তাব পাঠায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনের চিঠি পৌছায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
এরপরই আজ সোমবার ডিপিসি সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাউশি সূত্র জানায়, চাকরি বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে ২০ শতাংশ সরাসরি পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। সদ্য জাতীয়করণসহ সারাদেশে মোট সরকারি হাইস্কুলের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে পুরনো ৩৫১টি সরকারি হাইস্কুল রয়েছে।
এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে ২৪৪টি পদোন্নতি যোগ্য পদ রয়েছে। আর ১৮টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদ শুন্য রয়েছে। দুই পদে মোট ২৬৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ৪২০ জনকে প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
