গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়া প্রশ্ন তুলে ছিলো ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কি?’। এই প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন ওই শিক্ষার্থীর সাথে। তার বিরুদ্ধে আরো অন্যান্য অভিযোগ এনে বহিষ্কার করেন। জিনিয়ার এই বহিষ্কারাদেশের ঘটনায় সারাদেশেই সমালোচনা চলছে। সেই সাথে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিও – ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী?’
এই প্রশ্ন ধরেই উঠে আসছে নানা মতামত। প্রশ্নটিকে সামনে এনে বাংলা আলাপ করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামতে জানিয়েছেন কেমন হওয়া উচিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ। শিক্ষার্থীদের সেই মতামত তুলে ধরা হলো-
আলিফ আল আজাদ :
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উন্মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীন জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবথেকে বড় কাজ হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা নিশ্চিত করা। আমাদের হয়তো দৃশ্যমান বা অবস্থানগত অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলা তাদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলাতে কথা বলার পরিসর সংকুচিত হয়ে আসছে। ক্লাসরুম কিংবা আবাসিক হল সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের তাদের মত প্রকাশ বা নিজস্ব চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ট্রাডিশন সমাজকেও প্রভাবিত করছে। ফলে,সমাজে ও রাষ্ট্রে সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করার নৈতিক জোর আমাদের যুবসমাজ হারিয়ে ফেলছে।
(আলিফ আল আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী)
সাইমুম ইফতেখার :
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ হওয়ার কথা পাঠদান। এই পাঠদানের প্রক্রিয়াকে প্রায়োগিক জায়গায় সুসংহত করে গবেষণা। এই দুই কাজের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিমন্ডলে শিক্ষার্থীদের ওপর অহেতুক খবরদারি চালানোর মানে হলো বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি হোমোজেনিক মানুষ তৈরির কারখানায় পরিণত করা যেখান থেকে নতুন কিছু আশা করা দুষ্কর।
(সাইমুম ইফতেখার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী)
ইয়াসির আরাফাত বর্ণ :
বিশ্ববিদ্যালয়ের কখনোই রাষ্ট্র ও সমাজের বাইরে না,রাষ্ট্র ও সমাজের সমাাজিক রাজনৈতিক অবস্থা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ধরণ নতুন নতুন করে সংজ্ঞায়িত হতে পারে এবং এই দায়বদ্ধতা বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই এড়াতে পারে না। গতানুগতিক অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা তো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া,এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় কাজ এবং দার্শনিক দায়িত্ব হলো প্রশ্ন করতে শেখানো।
বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজ ও চারপাশের সামাজিক রাজনৈতিক ক্রিয়ার মধ্যে বিরাজমান অসংগতি,অসততা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে তার শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখাবে, এই প্রশ্নের যৌক্তিকতা সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে এবং যাবতীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
নিপীড়ন-আধিপত্যের উৎপাদন ও সমাজে তার টিকে থাকার ধরণ এবং কিভাবে তা প্রশমন করা যায় তার নিয়ে সর্বদা তুলনামূলক আলাপ আলোচনা জারি রাখবে যা কীনা সর্বজনের/জনগণের/আমজনতার স্বার্থরক্ষা করবে।
(ইয়াসির আরাফাত বর্ণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থী)
তানভীর আল আজাদ :
একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে মেশিন বা বস্তু তৈরি হয়। মানুষ প্রকৃতির সৃষ্টি। প্রকৃতির মতো হবে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উসকে দিবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ যুক্তিবাদী মানুষ তৈরি করা। গবেষণা কেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করা। এর মানে এই না প্রতিটি শিক্ষার্থী গবেষক হবে বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব মতামত থাকবে এবং যুক্তি দিয়ে সামাজিক সমস্যাগুলোকে বিশ্লেষণ, সমাধান ও সেগুলো নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা রাখবে। এই ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিবে। এখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেআইনের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়েছিলো বলেই আমরা ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ এমন ছাত্র তৈরি করা। এমন স্বভাবকে উস্কে দেয়া।
(তানভীর আল আজাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী)
শুভদীপ অধিকারী :
বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে খেয়াল করা প্রয়োজন জ্ঞান তৈরি হয়েছিল কোনো ব্যক্তির প্রয়োজনে নয় বরং সমাজের সকলের চেষ্টা ও সকলের প্রয়োজনেই। আবার প্রাচীন কালে মানুষ যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি তাগিদ অনুভব করে সেটাও সামাজিক স্বার্থেই। তাহলে আজকে আমাদের এই যে আন্তর্জাতিক জ্ঞান সঞ্চারনের যে প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ তার প্রধান কাজ হওয়া উচিত একজন শিক্ষার্থীকে এমন ভাবে গড়ে তোলা যাতে মনুষ্যত্ববোধ ও সংষ্কৃতিমনন নিয়ে সে সমাজের ও রাষ্ট্রের উৎকর্ষতা অর্জনে নিজেকে কাজে লাগাতে পারে।
কিন্তু এখানে আমরা সেই চিত্র মোটেই খুজে পাই না। একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। তাকে সিলেবাস নামক বাক্স ভর্তি চিন্তারই আটকে ফেলতে চাইছে যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। প্রশ্ন করার অধিকারকেই কেড়ে নিচ্ছে ক্ষমতা কাঠামোর চর্চায় মত্ত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের প্রশ্ন করা শিখাবে এবং উত্তরের অনুসন্ধান করতে শেখাবে সেখানে আমাদের প্রশ্ন করার চিন্তাকে আটকে ফলেছে এবং উত্তর খোঁজার আকাঙ্খা কে মেরে ফেলছে।
জ্ঞানচর্চার আতুরঘর বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক। নইলে প্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চার পথে সরে এসে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়ে যায়। উপরে যে উদ্ভূত সমস্যগুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো সবগুলোই সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় দখলের কারনে। শিক্ষাকে চাকুরিমুখী করে তোলা, শিক্ষাঙ্গনে সরকারদলীয় স্বৈরাচার, গবেষনার ফলাফল নির্ধারন, শিক্ষার ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষাবানিজ্যের পথ প্রসারন এই সবকটি কাজই রাষ্ট্র নিজ স্বার্থে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করে থাকে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন পথে ধাবিত হয়। এই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর অপছায়া থেকে দূরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিন্তা ও মত প্রকাশের মুক্তাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলাটাই এর প্রধান কাজ হওয়া উচিত বলে মনে করি।
(শুভদ্বীপ অধিকারী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বির্তীয় বর্ষের শিক্ষার্থী)
মো. শাহিন মিয়া :
বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান তৈরীর কারখানা’। যারা কথাটা বলেন তারা এখানেই দাঁড়ি টেনে দেন। কথাটা আমার কাছে খুবই অস্পষ্ট। কিভাবে জ্ঞান তৈরী হবে? জ্ঞান তৈরীর জন্য রিসোর্স কতটা বিদ্যমান? পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া চাই? যাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মানে শিক্ষার্থীদের মুক্ত বুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার জমিটুকু কতটা দখলমুক্ত? এসব কোনো আলোচনাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উঠে না। এখানে রাষ্ট্রের ঠিক করে দেয়া মানদণ্ডে যারা প্রশ্ন ব্যতীত নিজেদের মেরুদণ্ড মিলিয়ে নেয়, তারাই সফল। অন্যথায়, ‘বহিষ্কার’।
ক্ষমতার দাপটওয়ালা শিক্ষকদের একচ্ছত্র কর্তৃত্বপরায়নতা চলে, মর্যাদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ার চেয়ে বছর বছর রাষ্ট্র গ্র্যাজুয়েটেড অনুগত দাস তৈরি করা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে ছেলে-মেয়ে বিভেদ করা হয়; সান্ধ্য আইন করে রুমে বন্দি করে রাখা হয়; ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পন্ন’ এবং ‘সাধারণে’র মধ্যে বৈষম্য করা হয়; চাটুকারদের উন্নতি আর মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটা মানুষকে বঞ্চিত করা হয় সেখানে কিভাবে ‘মানুষ’ তৈরী হবে?
সর্বোপরি, রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, না সরালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বায়ত্বশাসন’ শব্দটা কাগজে-কলমেই রয়ে যাবে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কর্মচারী নিয়োগে হস্তক্ষেপ, সংস্কৃতিচর্চায় হস্তক্ষেপ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে হস্তক্ষেপ, একসাথে বসে আড্ডা দেয়ায় হস্তক্ষেপ, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনেও হস্তক্ষেপ। এতো কিছুর পর একজন শিক্ষার্থী নিজেকে খাঁচার পাখি হিসেবে আবিষ্কার করে। আর যাই হোক, খাঁচার পাখি শেখানো গান গাইলেও নিজের গান গাইবে না।
(মো. শাহিন মিয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী)
মুজাহিদ অনিক :
বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত স্বশাসিত কিন্তু আজকের দিনে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই কার্যত স্বশাসিত নয়। রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে সেখানে ক্রমাগত মত প্রকাশ, স্বাধীনতা সংকুচিত। একটি বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে প্রথমত তার স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করে।
(মুজাহিদ অনিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালযয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী)
জি. কে. সাদিক :
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অন্যতম একটা লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখিত লক্ষ্য পূরণের জন্য মুক্ত-জ্ঞানের চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য প্রয়োজন অনুকূল পরিবেশ ও প্রণোদনা। উচ্চ-শিক্ষার সাথে সমাজ-রাষ্ট্র তথা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গতিপথের সম্পর্ক ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। তাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিবে বা কোন দিকে যেতে পারে সেটা অনুমান করা যায় দেশটির উচ্চ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বীয় লক্ষ্যে কতটা সফল হতে পারছে সেটার উপর।
বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কী বুঝায় আমরা যদি এর সঠিক উত্তরের সাথে বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় ও সে দেশের গতিপথের দিকে তাকাই তাহলে উপর্যুক্ত কথাগুলোর সত্যায়ন দেখতে পাবো।
মোদ্দা কথা এই যে, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য পুরনের জন্য অনুকূল করে গড়ে তুলতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন গবেষণাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়া, গবেষণার উপকরণাদির পর্যাপ্ততা এবং সার্বিকভাবে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উৎসাহিত করা।
আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে যা বুঝায় সেই মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে যাবতীয় সহায়তা দেয়া। যাতে জাতীয়ভাবে আমরা সার্বিক উন্নয়নের পথে এগুতে পারি।
(জি. কে. সাদিক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী)
মোহাম্মদ রনি খাঁ :
হাজারো স্বপ্ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী আসে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে। লক্ষ্য একটাই নিজেকে মাতৃভূমির কল্যাণে নিবেদিত করার জন্য প্রস্তুত করা। নিজের স্বদেশপ্রেম, আচার-আচরণ সাবলীল করা, অন্যের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব ইচ্ছের প্রাধান্য কতটুকু? এইগুলো কি শুধুই আবেগ?
মানুষের নিরাপত্তা, মা-বোনের সম্মান, নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নিজ স্বার্থ রক্ষায় নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। অনেক শিক্ষক আবার যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব শিক্ষাই কি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল কাজ?
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জবাবদিহিতা বলে কোন শব্দ কি জানা আছে কারো? সরকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে হাজার হাজার অর্থের জোগান দিচ্ছে। কিন্তু একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে সেইসব অর্থ কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে এর জবাবদিহিতা দেওয়া হচ্ছে না। দেশকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে নিতে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা কতটুকু! তা আমার বোধগম্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মানে স্বাধীনতা! যে স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করার ক্ষমতা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ক্লাসে আসলাম আর ভালো রেজাস্ট করা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মানে নিজের মাঝে নৈতিকতা বন্ধন সৃষ্টি করা। বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কোন আবদ্ধ প্রাচীর নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা মহাকাশ।
বিশ্ববিদ্যালয় মানে কোন নেতার পিছন পিছন ছুটে চলা নয়, বরং আমার মাঝেও নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি রয়েছে তা খুঁজে বের করা। তবুও প্রশ্ন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ নিজেকে প্রশ্ন করা এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।
(মোহাম্মদ রনি খাঁ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী)
রিজভী:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজসমূহ হওয়া উচিত ,সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের ব্যাবস্থা করা, জ্ঞান চর্চার জন্য সকল প্রকার অবোকাঠামো তৈরি করা। অহিংস ও রাজনীতি মুক্ত রেখে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করা,ছাত্রদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া ও তা যথাযথ হলে মান্য করা। ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যাবস্থা রাখা ও পর্যাপ্ত লাইব্রেরী চালু রাখা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ও চর্চার ব্যাবস্থা রাখা। এছাড়া সকল প্রকার সামাজিক কর্মকান্ড সম্পাদন করার জন্য বিভিন্ন সংগঠন তৈরির অনুমতি দেওয়া ও উন্নয়ন মূলক কাজে যোগদানের অনুপ্রেরণা দেওয়া৷ সর্বোপরি একজন পরিপূর্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
(আবু বকর রিজভী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী) সুত্র বাংলা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
