বিএনপির অংশগ্রহণ আশা করে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক।।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত সোমবার সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনার মধ্যদিয়ে সংলাপ শুরু করেন তিনি। আজ  সংলাপে বসবেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জাসদের সঙ্গে। পর্যায়ক্রমে তিনি দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবেন। কিন্তু ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন তারা রাষ্ট্রপতির সংলাপে আগ্রহী নয় । ইসি গঠন নিয়ে বিএনপির তেমন আগ্রহ নেই। তারা আগে চায় তত্বাবধায়ক সরকার। পরে ইসি গঠন প্রক্রিয়া। এই ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপে বিএনপি যাবে না। আমি মনে করি দলেরও এই সিদ্ধান্ত। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখনো  পর্যন্ত সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ তারা পাননি। আর আমন্ত্রণপত্র পেলেও সেখানে যাবেন কি না সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী  লীগ প্রত্যাশা করে, বিএনপি রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে।  আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা গতকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্যে বিএনপিকে সংলাপে অংশ নেওয়ার আহবান জানান। তারা বলেন, সংলাপে অংশগ্রহণ না করা দায়িত্বশীল দলের কাজ না। দায়িত্বশীল দল হলে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ দল হলে সংলাপে অবশ্যই  বিএনপির যাওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,  গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের যে দায়িত্ব বিএনপি তা অনুসরণ করবে বলে প্রত্যাশা করি। আমরা আশা করি, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে বিএনপি তা অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের নীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি এবং সুস্থ রাজনীতির ধারায় ফিরে আসবে। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি প্রস্তুত করার জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে সংলাপে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক দলগুলোকে এ সংলাপে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে একটি নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও কার্যকর  নির্বাচন কমিশন গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রেডিসডিয়াম সদস্য  ড. আব্দুর রাজ্জাকও নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ মানুষ। নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব তার উপর। তিনি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সাথে সংলাপ শুরু করেছেন। বিএনপি বলছে সেই সংলাপে যাবে না। আমি বিএনপিকে বলব, সংলাপে অংশগ্রহণ না করা দায়িত্বশীল দলের কাজ না। আপনারা সুনাগরিক হলে, দায়িত্বশীল দল হলে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ দল হলে সংলাপে অবশ্যই যাবেন। নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে গঠনমূলক সুপারিশ প্রদান করবেন। এছাড়া বিএনপিকে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। হানিফ বলেন, আমরা অনুরোধ করবো, আপনারা (বিএনপি) রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিন। আপনাদের মতামত সেখানে পেশ করুন। আপনাদের যদি ভালো পরামর্শ থাকে অবশ্যই সেটা রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করতে পারেন। সে পরামর্শ আপনারা দিন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই নিয়ে রেখেছে বিএনপি। এই দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে চায় তারা। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত বিভিন্ন সভা সমাবেশে একই বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতি গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য ছিল, আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট, এই সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যাব না। নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো সংলাপে বিএনপি যাবে না।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.