কোভিড পরবর্তী শিখন ঘাটতি পূরণ

ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন।।

২০২০ সাল। ১৭ র্মাচ। শ্রেণি কাযক্রম শেষে মনেহল কোনদিকে যাচ্ছি। এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়-পুরো বিশ্ব গিয়েছে। ১৭ মাসের অধিককাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ছাত্ররা ক্লাসে আসেনি। ঘন্টা বাজেনি।

হৈ চৈ হীন নিরব জগতের বাসিন্দা হল প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একবুক শূণ্যতা নিয়ে প্রতিদিন লক্ষ্য করেছি কি হচ্ছে? কি হতে পারে? কি হবে? এভাবে ভাবতে ভাবতে ২০২০ শেষ করলাম। ২০২১ প্রায় শেষ হতে চলেছে একদিন ঘোষণা এল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ হতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯টি নিয়ম মেনে সপ্তাহে ১দিন করে ক্লাস চলবে। কোন কোনটি একাধিক দিনও চলবে-

রোহান ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল ২০২০ সালে। হাই স্কুল জীবনের প্রথম অধ্যায়। কতটা আনন্দ নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করেছল। শুরুতে ঠিক করল জীবনের লক্ষ্য সে একজন রাজনীতিবিদ হবে। কিন্তু ২মাস ক্লাস করার পর তার সকল লক্ষ্য যেন অন্যদিকে মোড় নিল। ২০২০ শেষ করে সে ২০২১ এল সে ৭ম শ্রেণির ছাত্র এখন। মাসের পর মাস ক্লাস নাই, বই নাই, পড়া নাই। একসময় সে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ে। এখন জীবন চলে আইফোনের গতিতে। নিজের কোন গতি নাই লক্ষ্য তো নাই-ই।।

করোনা মহামারীর এ সময়টা নিশ্চয়ই কেটে যাবে একদিন। আমাদের বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মুখর হয়ে উঠবে প্রতিটি ক্যাম্পাস। কিন্তু সময়টা আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে? করোনার কারণে তৈরি হওয়া অনলাইন আর অফলাইনের শিক্ষার এই বৈষম্য আমরা কি সমাধান করতে পারবো? সমাধান করতে গেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষায় উদ্ভাবনীয় ব্যক্তিদের ভূমিকা অথবা শিক্ষায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকাই বা কী হবে?

আমরা কীভাবে আগামীর বিশ্বে একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য পরিবেশন করতে পারি, মহামারী চলাকালীন এবং পরবর্তী মহামারীগুলোর জন্য প্রচেষ্টার সম্মিলিত বুদ্ধি গঠনের কিভাবে একটি সুযোগ হবে, শিক্ষায় কতটুকু সংস্করণ করা প্রয়োজন অথবা সংস্করণ করতে হলে কোন কোন বিষয়গুলো আমাদের ভেবে দেখা দরকার তা আলোচনায় উঠে আসে। শিক্ষা পুনঃসংস্ককরণে শিক্ষা কাঠামো, শিক্ষাক্রম, পাঠ্যক্রমসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জরুরী।

কারিকুলাম পুনঃসংস্করণ: আমাদের শিক্ষার সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক হল কারিকুলাম। কারিকুলাম শিক্ষার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। করোনা মহামারীর পর আগামী কারিকুলাম গতানুগতিক হবে না। বর্তমান সময় ও আগামীর কথা মাথায় রেখেই কারিকুলাম পুনঃসংস্করণ করা জরুরি। বর্তমানে প্রয়োজন কমিউনিটি বেইজড বা ক্রাউড সোর্স কারিকুলাম। যার মাধ্যমে শিক্ষা যতটুকু কমিউনিটির প্রয়োজন, ততটুকু কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিউনিটি বেইজড কারিকুলামের ফলে শিক্ষা বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। কারিকুলাম প্রস্তুতিতে অবশ্যই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয় করতে হবে। জরুরি অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। জীবনমুখী ও প্রাকৃতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে অনেক। দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলামের পাশাপাশি বাস্তবমুখী নানা কার্যক্রমও কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু তা কতটুকুন সম্ভব। আদৌ সম্ভব কিনা। নতুন বছরে ২০২২ সালে কেমন করে তা আসছে এর কোনটিই আমরা অনেকেই জান না, মতামত নেয়া হয়নি বা হচ্ছেও না। সেই ক্ষেত্রে অতি জরুরী বিষয় হল মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ রে এমন ব্যক্তির্বের মতামত নেয়া ও সংযোজন করা।

এডুকেশনাল রিসোর্স: শিক্ষা হল সামগ্রিক বিষয়। শিক্ষার্থীদের শিখনের জন্য যুগোপযোগী এডুকেশনাল রিসোর্স প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইগুলো আরও যুগোপযোগী এবং বিস্তৃত করে তৈরি করতে হবে। প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের সাথে একটা করে ওয়ার্কবুক তৈরি করে দিলে শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে বাড়ির কাজগুলো নিজেরাই সম্পূর্ণ করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের পড়া মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আনতে হবে পরিবর্তন। প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যম যেমন-এপস, হোয়াটসআপ, ইমো, ভাইভার, ফেসবুক, ইউটিউব এবং জুম ব্যবহার করতে হবে। সহজে কিভাবে শিক্ষার্থীদের পড়া মূল্যায়নে পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে আরও চিন্তা করতে হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ইন্টারনেট, কম্পিউটার, রেডিও, টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার আরও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রদানের জন্য ফিচার ফোন এবং বাইটস সাইজ এডুকেশন চালু করার কথা উঠে এসেছে। এছাড়াও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

একুশ শতকের দক্ষতা: শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামী দিনের বাংলাদেশ। সময়ের সাথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে হবে। ২১ শতকের দক্ষতাগুলো যেমন-চিন্তা ও সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সহযোগিতামূলক ও দলগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতা, সক্রিয়তা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। বর্তমানে এ দক্ষতাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীর সম্ভাবনাগুলো নিরূপন করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দক্ষতাগুলোকে কার্যকরী করে তুলতে হবে। এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিন্তা ও ভাবনার জগৎ বড় করা এবং সমস্যা কেমন তার সমাধানের দক্ষতা শিক্ষার্থীর কতটুকুন রয়েছে । কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ কতটুকুন বিস্তৃত।

মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা: শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক শক্তি ও অভিভাবকদের এই বিষয়ে সবার আগে ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও সুদৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন জরুরি সময়ে যেকোন সমস্যা সবার সহযোগিতা নিয়ে কিভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং মানসিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উপায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও মানসিকভাবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমেও একে অপরের পাশে এসে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার উপায়গুলোও আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। শিক্ষকরা একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগগুলো আরও বাড়াতে হবে। বাড়ানোর জায়গায় আমরা কতটা কাজ করতে পেরেছি আদৌ কাজ করছি কিনা তাও গুরুত্ব দিতে হবে।

গতানুগতিক শিক্ষা-সিলেবাসের বাইরের পরিকল্পনা: আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা চিন্তা হল বই, ক্লাস, পরীক্ষা। একটি সনদ একটি জীবন। কিন্তু বস্তুত শিক্ষার্থীরা যেন প্রাকৃতিকভাবে শিখতে পারে সেই চেষ্টা করতে হবে। হোম স্কুলিংয়ের মাধ্যমে বাসায় বসে কীভাবে হাতেকলমে কিংবা খেলাধুলার মাধ্যমে শিখতে পারে, সেই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে হবে। সিলেবাসে আবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। শিক্ষার পদ্ধতিগুলো-হোক সমস্যা ভিত্তিক, প্রজেক্ট ভিত্তিক, ধারণা বা অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখন।

শিক্ষা বাজেট: একসময় সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা শুনলেও আজকাল আর সেভাবে তা শুনি না। আমাদের দেশে জিডিপির মাত্র ২.২% বরাদ্দ করা হয় শিক্ষায়, যা অপ্রতুল। বর্তমানের শিক্ষার এই বৈষম্য দূর করার জন্য সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট আরও বাড়াতে হবে। সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন স্টার্ট-আপ গড়ে তুলতে হবে। স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের জন্য দিতে হবে নানান প্রণোদনা, যেন তারা রিসোর্স ও কনটেন্টের মান ও সংখ্যা আরও বাড়াতে পারেন। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে তৈরি করতে হবে এডুকেশন-ফান্ডিং। বাজেট তৈরির আগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিতে হবে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ: এতদিন যেখানে শিক্ষা বাণিজ্য বলৈ আমরা মুখ ফাটিয়েছি আজকের এইসময়ে পুরো বিশ্ব মনে করছে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়। সরকারের রয়েছে পরিকল্পনা ও শিক্ষানীতি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে কাজের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা এবং প্রচুর রিসোর্স। আগামীকে মোকাবেলা করার জন্য যৌথভাবে কাজ করতে হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপগুলোর সুযোগ ও সমন্বয়ের উদ্যোগ রাষ্ট্রকে নিতে হবে। প্রা্েভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে বরং সরকোরের অংশ মনে করে এর সাথে সুযোগের সমন্বয় তৈরী করতে হবে।

চাকরির বাজার: একটি পরীক্ষা পাসের পরই চাকুরী। শিক্ষিত ছেলে বেকার থাকবে কেন? সময়ের সাথে সাথে চাকরির বাজার পরিবর্তন হচ্ছে। আগামীর বাজার আরও দ্রুত পরিবর্তন হবে। বর্তমান সমস্যাকে মোকাবেলা করে আগামী সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন রিসোর্স ও কনটেন্ট তৈরি করা- এই রিসোর্স ও কনটেন্ট তৈরির জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে আগামীতে চাকরির বাজারে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সেই সুযোগ কতটা তৈরী করতে পারব তা বিবেচনায় আনতে হবে এবং তাতে মনে থাক েআমাদের শিক্ষার গতি কি হচ্ছে।

প্যারেন্টিং এডুকেশন: কোভিড যে শিক্ষা দিল তা থেকে বুঝা যায়- আগামীতে হয়তো বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমের সময়সীমা কমে যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা বাসায়ই অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করবে। নতুনভাবে তৈরি হবে ‘হোম স্কুলিং আইডিয়া’। হোম স্কুলিংয়ের জন্য প্যারেন্টিং এডুকেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিভাবক একজন ভালো শিক্ষক কিভাবে হয়ে উঠতে পারেন তার উপর গুরুত্ব বাড়বে। ফলে একজন অভিভাবকের দায়িত্বও বেড়ে যাবে। সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সন্তানের সুশিক্ষা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীর পড়া তৈরিতে সহযোগিতা, বাসায় বসে মূল্যায়ন ও ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য প্যারেন্টিং এডুকেশনের প্রয়োজন হবে। তাই প্যারেন্টিং এডুকেশনের উপর আমাদের গুরুত্ব খুব তাড়াতাড়ি বাড়াতে হবে। আদৌ সেটি আমাদের আছে কিনা। গ্রাম বিবেচনায় সেই সুযোগ বা কতটুকুন।

বিদ্যালয়ের ভূমিকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবসময় শিক্ষার্থীর জন্য ভিন্নরকম। কালে কালে প্রতিষ্ঠানই বেশি ভূমিকা পালন করেছে। আজকাল ইউনিক আইডি, ভোটার তালিকা, ভোট গ্রহন, টিকা নিবন্ধন, অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশ্ন কাজেই যেন প্রতিষ্ঠান গুলোর দিন চলছে। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভূমিকাও পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু জ্ঞান বিতরণই নয়, জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ কমিউনিটিতে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জিপিএ ভিত্তিক শিক্ষার্থী তৈরি না করে মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোকে সমাজের যেকোন জরুরি-পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। এইসব করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনেকটা চাপ মুক্ত রাখতে হবে।

ঝরে পড়া রোধ ও ফিরিয়ে আনা : অনেক শিক্ষাথী ঝরে পড়েছে। বাল্য বিবাহের স্বীকার হয়েছে। পরিবারের সহায়তার জন্য শিশুশ্রম বেড়েছে। অনেকেই নেশাগ্রস্থ হয়েছে। স্কুলে ফিরবে না। এইসব শিক্ষর্থীদের স্কুলে ফিরানো সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেন্জ। সেটি মোকাবেলায় কতটা সচেষ্ট বা ্ন্তরিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই বিষয়টি মাথায় নিয়ে কাজ না করলে আমি নিশ্চিত বলতে পারি এটি আমাদের শিশুদের জন্য শিক্ষার জন্য একটি বড় ধরনের ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকরাই জাতির মেরুদন্ড। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষকদের কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। বেড়েছে অনেক চ্যালেঞ্জও। বর্তমান সমস্যা মোকাবেলা করে আগামীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ, আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষক তৈরি করতে হবে। ডিজিটাল রিসোর্স তৈরি করার জন্য এবং এডুকেশন টুলস ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বিকল্প নেই। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণের সব ব্যবস্থা নিতে হবে। গতানুগতিক চিন্তা থেকে বের করে বিশ্বায়নের সব সুযোগ যেন আমাদের শিক্ষকরা গ্রহণ করতে পারে, তার জন্য নানা কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা সমাজের সম্পদ। যেকোন মহামারী রাষ্ট্রকে যেমন সমস্যায় ফেলে দেয়; তেমন সমস্যা উত্তোরণের জন্য অনেক সুযোগও তৈরি করে দেয়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনঃসংস্করণ করার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান করে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে হবে। সে জন্য সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা খুবই জরুরি। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এই সময় কেটে যাবে এবং শিক্ষা বৈষম্য অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরাও তাই আশাকরি

শিক্ষক ঝরে পড়া : মহামারি করোনাতে আপনারা দেখেছেন বহু শিক্ষক চাকরী হারিয়েছে। জীবনের অন্য পেশায় অনেকেই জীবনের তাগিদে অসন্মানজনক পেশাতেও নিয়োজিত হয়েছে। আমাদের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে পুরো সময়টাই সরকার মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের নূন্যতম সুযোগ সুবিধার দিকে মন দেয়নি-খবরও নেয়নি। যারফলে মেধাবী মানুষজন শিক্ষকতাকে আর পেশা হিসাবে নিবে না। কারণ এই করোনায় এককথায় শিক্ষকদের অবহেলা ও অসন্মান করা হয়েছে। যা একটি জাতির জন্য বেদনাদায়ক ও হতাশার। আমি হতাশার সকল বিষয় ভুলে সরকার ও প্রতিষ্ঠান একযোগে শিক্ষার এই অবস্থারদুরীকরণে কাজ করার কথাই বলব। আশাকরি সেদিকেই মন দিবে সবাই।

লেখক : শিক্ষাবিদ-নজরুল গবেষক
ফাউন্ডার প্রিন্সিপাল, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.