এইমাত্র পাওয়া

করোনা শেষ ওমিক্রনেই !

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

দক্ষিণ আফ্রিকায় উদ্ভব করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) ওমিক্রন সুপার স্প্রেডার (খুব দ্রুত সংক্রমণে সক্ষম) হলেও আক্রান্তের দেহে মৃদু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। ভাইরাসটির নতুন এই ধরনটি খুব দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারলেও আক্রান্তদের মধ্যে এর লক্ষণ একেবারেই কম।

আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা ও ক্লান্তি ছাড়া আর কোনো লক্ষণ নেই।দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসকেরা বলছেন, সেখান আক্রান্ত একজনকেও এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি এবং মৃত্যুর কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এ ব্যাপারে জার্মানির ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্লিনিক্যাল এপিডেমিওলজিস্ট প্রফেসর কার্ল লটারবাচ বলেন, প্রথমদিককার রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছে ওমিক্রন সামনের ক্রিসমাস অনুষ্ঠানের উপহার হিসেবে এসেছে এবং এমনকি যে গতিতে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে ঠিক এই গতিতেই হয়তো করোনা মহামারী শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ওমিক্রনের অনেক মিউটেশন হয়েছে।

শুধু স্পাইক প্রোটিনেই ৩২টি, এটা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দ্বিগুণ। এর অর্থ হয়তো এমন হতে পারে যে, ওমিক্রন হয়তো সংক্রমণ ঘটাবে কিন্তু এটা হবে কম ক্ষতিকর, এটা এই লাইনেই আছে যেভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ভাইরাস বিকশিত হয়। অপর দিকে ইউনিভার্সিটি ইস্ট এংলিয়ার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর পল হান্টার বলছেন, এই থিউরিটা (প্রফেসর কার্ল লটারবাচের কথা) সত্য বলে প্রমাণ হতে পারে। কিন্তু টিকাকরণই (ভ্যাক্সিনেশন) এই নতুন ধরনের করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করতে পারে। এটা হয়তো একটি ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, ‘উচ্চ রূপান্তরের কোনো ধরন করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তির শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা অথবা টিকার নতুন ধরনকে চিনবে না এমন হতে পারে না।’ বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাস একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে না, তবে শেষ পর্যন্ত এটা সর্দি-কাশির ভাইরাসের মতো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

তথাপি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ফলাফলটা কী হয় তা জানার জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগবে বলছেন। এটা এমনও হতে পারে যে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাসটি কারো দেহে মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের জন্য আরো দুই সপ্তাহ লাগবে এটার জানার জন্য যে, ডেল্টার মতো অথবা ডেল্টার চেয়ে বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা ওমিক্রন পেয়ে যায় কিনা অথবা এটা টিকা প্রতিরোধী কিনা। এখন বেশির ভাগ আক্রান্তই তরুণ বয়সী, যাদের মধ্যে স্বল্প মাত্রার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

ডেইলি মেইল পত্রিকার খবরে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইরোলজিস্ট এলেক্স সিগাল যিনি ওমিক্রন ভাইরাসের অস্তিত্বের কথা প্রথম বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা হলো সবচেয়ে রূপান্তরিত ভাইরাস এ যাবৎকালের মধ্যে। নতুন এই ভাইরাসটি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। ওমিক্রন আবিষ্কারের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই বিজ্ঞানীই গোপন না করে বিশ্ববাসীকে তা জানিয়ে দেন। ফলে অনেক দেশই সতর্কতা অবলম্বন করতে পেরেছে। সিগালের টিম অন্যান্য বিজ্ঞানীর সাথে সহযোগিতা বাড়িয়ে দিয়েছেন এটা জানার জন্য যে, ওমিক্রন কতটা সংক্রামক এবং কত দ্রুত ছড়াতে পারে।

ইতোমধ্যে অন্যান্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে তিনি ওমিক্রনের নমুনা পাঠাতে শুরু করেছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তারা জানতে পারবেন নতুন এই ভাইরাসটি প্রচলিত টিকায় প্রতিরোধ করা যাবে কি না। কিন্তু এলেক্স সিগাল আত্মবিশ্বাসী যে, প্রচলিত টিকাতেই ওমিক্রন প্রতিরোধ করা যাবে। কমপক্ষে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কমাতে পারবে প্রচলিত টিকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.