এইমাত্র পাওয়া

সংস্কারের অভাবে ঐতিহ্য হারাচ্ছে জমিদার বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক।।

সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফেনীর প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি। ঐতিহাসিক এ বাড়ি সংস্কারহীনতায় জরাজীর্ণ হয়ে আগাছায় ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। তারপরও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বাড়িটি দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থী আসছেন। জমিদারদের রেখে যাওয়া নিদর্শনগুলো দেখতে আশপাশের জেলা ও উপজেলার মানুষও ভিড় জমান এ বাড়িতে। তবে নিরাপত্তা, শৌচাগার ও বৈদ্যুতিক বাল্ব না থাকায় সন্ধ্যার আগেই এখন থেকে চলে যেতে হয় দর্শনার্থীদের। দ্রুত বাংলার জমিদারি প্রথার নিদর্শন হিসেবে বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি দর্শনার্থীর। দর্শনার্থীরা জানান, ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন নিদর্শন। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি অনেক গুরুত্ববহন করে। জানা যায়, বাংলা ১২২৮ সালের ১৩ ফাল্গুন রামনাথ কৃষ্ণ সাহা ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে এ জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি বড়বাড়ি ও রাজবাড়ি নামেই পরিচিতি। প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গায় নির্মিত রাজপ্রসাদসম এ বাড়িতে রয়েছে পাঁচটি অভিজাত ডিজাইনের দ্বিতল ভবন। ওই ভবনে রামনাথসহ তারা পাঁচ ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ঘরগুলোর চারপাশে খনন করা ১২টি পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে জমিদাররা মাছ চাষ করতেন। রাজশাহী থেকে আগত দর্শনার্থী মোমিনুল হক জানান, তথ্যভান্ডার উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি সম্পর্কে জানতে পেরে আট বন্ধু মিলে এখানে এসে খুব ভালোই লাগছে। তবে এখানে শৌচাগার ও নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হারুন অর রশীদ মৃধা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিষ্কার না করায় বাড়িটির ভবনগুলোসহ চারপাশে আগাছা ও বনজঙ্গলে ভরে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, বাড়িটি এখনও জমিদারদের ওয়ারিশদের মালিকানায় রয়েছে। ফলে সরকারিভাবে এখানে সংস্কার বা অন্য কিছু করা যাচ্ছে না। ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান জানান, প্রতাপপুর জমিদার বাড়ির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বাড়িটির ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.