রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ভর্তি আবেদন। বৃহষ্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ও ডিজিটাল নিবন্ধন জটিলতায় এ কার্যক্রমের বাইরে থাকছে হাজারো শিক্ষার্থী। ফলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুঃচিন্তা ও সংশয়।
রাজধানীতে ফুল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে বলেন, আমি স্বপরিবারে ঢাকায় বাস করলেও আমার গ্রামের বাড়ি যশোর। আমার স্ত্রীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ। এখন মেয়ের ডিজিটাল নিবন্ধন করতে আমাকে প্রথমে যশোর যেতে হবে আর আমার স্ত্রীকে যেতে হবে কিশোরগঞ্জ এরপর মেয়ের ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব হবে। যা শুধুই সময় সাপেক্ষ নয় বিড়ম্বনারও বটে।
অভিভাবক মিনার আবেদিন এ বিষয়ে বলেন, করোনার কারণে গেল বছর আমার মেয়ে আয়শাকে স্কুলে ভর্তি করতে পারিনি। এবার সরকারের নতুন নিয়মে ভর্তি আবেদনই করতে পারছি না। আয়শা স্কুলে ভর্তি হতে পারবে কী না তা আমি বুঝতে পারছি না।
সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত হলেও এক্ষেত্রে এক হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় এ লটারিতে অংশ নেয়নি। এরমধ্যে ভিকারুননিসাসহ দেশের একাধিক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন বলেন, অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর ডিজিটাল সনদ লাগবে। সেটা যদি কারোও না থাকে বা এরজন্য কেউ যদি আবেদন না করতে পারে এইমূহুর্তে আমাদের কিছু করার নেই। এছাড়া সফটওয়ারগুলোও আমরা মেইনটেইন করি না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যে শর্ত দেয়া হয়েছে এটাতো তাকে মানতেই হবে। তবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ভর্তি লটারির বাইরে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থী আশা করি অংশ নিতে পারবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে লটারি পরিচালনা করবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করবে। যা মনিটরিং করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শামীম হোসেন নামে একভুক্তভোগী বলেন, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধনের জন্য কম্পিউটার দোকানগুলোতে গেলেই দেখা যায় অন্যরকম চিত্র। গ্রামপর্যায়ে নিবন্ধন ফি ৫০টাকা করা হলেও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নেয়া হচ্ছে হাজার টাকার বেশি। কারণ এখন শুধু আমার ছেলের জন্মনিবন্ধন ডিজিটাল করলেই হচ্ছে না আমার ও আমার স্ত্রীর জন্মনিবন্ধনও ডিজিটাল করতে হচ্ছে। ফলে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য তিনটি জন্মসনদ করতেই লাগছে তিন হাজার টাকা।
রাজধানীর ধানমন্ডির একটি দোকানে কথা হয় আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম করতে পোহাতে হচ্ছে হাজারো দুর্ভোগ। নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন করে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিসে গেলে জন্মনিবন্ধন পাওয়ার কথা। কিন্তু তার জন্য অনেক ঘুরতে হচ্ছে। ঘুষ ছাড়াও মিলছে না এ সেবা। এছাড়াও নানাভাবে দুর্নীতিও হচ্ছে।
দালালের মাধ্যমে করানো হলে সহজেই মিলছে এ সেবা। উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিক হলে আমার ঠিকানা দেখানো হচ্ছে দক্ষিণের। ফলে তদন্তে আমাকে ও আমার ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। সহজেই ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ আমাকে দেয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, কেউ যদি অন্য কাউকে নিজের কাজের দায়িত্ব দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। ১০০ টাকার কাজ অন্য কাউকে দিয়ে হাজার টাকায় করানো হলে দোষটি আসলে কার?
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
