নিউজ ডেস্ক।।
হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইনবোর্ড থেকে গাবতলী রুটে চলাচলকারী ঠিকানা পরিবহন বাসের এক হেলপারের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের হুমকি দেওয়া ঠিকানা পরিবহনের চালক রুবেল ও হেলপার মেহেদী হাসানকে আটক করেছে র্যাব। গত রাতে র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন বেগম বদরুন্নেসা কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অপর ছয় কলেজের শিক্ষার্থীরা। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে চলমান গেস্টরুম নির্যাতন এবং গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
গতকাল পুরান ঢাকার বকশীবাজারে বেগম বদরুন্নেসা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দিল, লাঞ্ছিত করে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো। আমরা কেন এটা মানব? প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা কী? কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হলে কে দায় নেবে? বাসের হেলপাররা আমাদের থেকে ভাড়াও বেশি রাখে, আবার নানাভাবে হেনস্তাও করে।’ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হেলপারকে গ্রেফতার ও হাফ পাস (অর্ধেক) ভাড়া নির্ধারণে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিকুন নাহার বলেন, ‘কলেজের একজন শিক্ষক ফোনে আমাকে বিষয়টি জানালেন। আমরা বিষয়টি দেখছি।’ চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ এর আগে শনিবার দুপুরের দিকে বেগম বদরুন্নেসা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকির এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থী কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাসা শনিরআখড়ায়। এখান থেকে বেগম বদরুন্নেসা কলেজের ভাড়া ১০ টাকা দিয়েই প্রতিদিন যাচ্ছি, আসছি। শনিবার ঠিকানা বাসে ওঠার পর যাত্রাবাড়ী মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার পার হওয়ার পর হেলপার আমার কাছ থেকে ভাড়া নিতে আসে। আমি ২০ টাকার নোট দিলে আমাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয় না। তিন-চারবার বলার পরও সে আমার কথার গুরুত্ব দেয়নি। এরপর আমি জোরে বলি, আপনি শুনছেন না? আমার ১০ টাকা ফেরত দেন। এরপর হেলপার আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলে, গলা বড় করবি না। তোর যা ইচ্ছা কর। এরপর যখন কলেজের সামনে বাস থেকে নামব তখন আমার হাতে ৫ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাজে ভাষায় গালি এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়ে বলে, প্রতিদিন তো এই রাস্তায় চলাচল করবি। এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় সে।’
এদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গেস্টরুম নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শেষে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল শুরু হয়ে কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি প্রদক্ষিণ করে আবারও রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এ সময় ‘ডাকসু নির্বাচন চাই’, ‘গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘হলে হলে নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘পলিটিক্যাল রুম বাতিল করো’, ‘হাফ পাস নিশ্চিত করো’ প্রভৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দাবি না মেনে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সমর্থন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন দিয়ে হাফ পাস নিশ্চিত না করলে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আর হামলা করা হলে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো আমরা রাজপথে নামব।’
তিনি বলেন, ‘হলে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দাসে পরিণত করার গেস্টরুম কালচার বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে আগামী ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ডাকসুসহ সারা দেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা রহমাতুল্লাহ্, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, সহ-সভাপতি আসিম মাহমুদ প্রমুখ নেতা। জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল, বিজয় একাত্তর হল এবং এ এফ রহমান হলে গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের হল শাখার নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের এসব ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের তিন দাবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে তিন দফা দাবি তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- বাস ভাড়া অর্ধেক নেওয়া, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া বাস শ্রমিককে গ্রেফতার, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ না করা, নির্দিষ্ট স্টপেজে ওঠানামা করানো ও মাঝরাস্তায় নামিয়ে না দেওয়া।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
