এইমাত্র পাওয়া

নিয়ম ভেঙে ২০ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী উপাচার্যের

নিউজ ডেস্ক।।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। এবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের (নীতি নির্ধারণী ফোরাম) পাস করা নিয়ম উপেক্ষা করে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শূন্য হওয়া পদে নিয়োগ দেওয়া ২০ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক সমিতির নেতাদের হস্তক্ষেপে একের পর এক আইন লংঘন করছেন উপাচার্য। তবে উপাচার্যের দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ প্রসঙ্গে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো. আব্দুর রউফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাঠানো ৮ আগস্টের স্মারক অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পদ সৃষ্টি ও অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাছুটির বিপরীতে রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন বিভাগের ২০ শিক্ষকের পদ স্থায়ী করা হলো।

তবে এক্ষেত্রে শিক্ষাছুটির বিপরীতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডে পাস হওয়া নিয়ম মানা হয়নি। ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ১৮তম সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চতর পদের বিপরীতে/শিক্ষাছুটির বিপরীতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের স্থায়ী প্রাপ্তি সাপেক্ষে চাকরি স্থায়ী করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী পদে নিয়োগ দিতে হবে।

যে বিশ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাদের একজন ড. মো. বশির উদ্দিন। তিনি     বলেন, ‘আমরা ভাইভা বোর্ড এবং রিজেন্ট বোর্ড ফেস করেই শিক্ষাছুটির বিপরীতে নিয়োগ পেয়েছি। মাঝে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য না থাকায় এবং করোনার কারণে চাকরি স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াতে ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই শিক্ষকের পোস্ট আসার পরে (পদ অনুমোদন) উপাচার্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই সরাসরি নিয়োগ স্থায়ী করেছেন। কারণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ স্থায়ী করতে হলে আরও অনেক বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যেত।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আবু সালেহ   বলেন, ‘এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। যেসব শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী করা হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই যোগ্যতাসম্পন্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনা করেই তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে।’ নিয়ম লংঘন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এমনভাবে নিয়োগ দেওয়ার নজির আছে।’

অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামরুজ্জামান   বলেছেন, ‘আমরা এ বিষয়ে (স্থায়ীকরণ) উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। এ সময় আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম যে তিনি (উপাচার্য) ইউজিসি কর্র্তৃক পোস্ট অনুমোদনসাপেক্ষে এসব শিক্ষকের চাকরি স্থায়ী করতে পারেন এবং পরে বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপন করতে পারেন। পরে ইউজিসি কর্র্তৃক পদ আসার পরে উপাচার্য জানিয়েছেন রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষাছুটির বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করবেন।’

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কিউ এম মাহবুব দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি স্থায়ী পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাসহ সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনে যথাযথ উপায়েই চাকরি স্থায়ী করছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কিংবা কোনো পত্রিকায় এসব পদের বিপরীতে কোনো স্থায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে, এ বিষয়ে পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তিনি   বলেন, ‘এই অফিস আদেশটি যখন প্রদান করা হয় তখন আমি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলাম না। তৎকালীন রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সম্মতিতেই এই আদেশ প্রদান করা হয়েছিল।’

প্রসঙ্গত, এর আগেও বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপেক্ষা করে এক শিক্ষককে রিজেন্ট বোর্ডের এবং দুই শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য করেছিলেন। জানা গেছে শিক্ষক সমিতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিয়ম লংঘন করে দুই শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যপদ দিয়েছিলেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.