একজন আদর্শ মানুষ গড়তে আদর্শ শিক্ষকের কোন বিকল্প নেই। আর শিক্ষকেরা মোমবাতির মতো নিজে পুড়ে অন্যকে শিক্ষার আলো দান করে। শিক্ষা মানুষের দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করে। তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ, সবাক, সকর্ম করে তুলে মানুষের মধ্যে ঘুমন্ত মানবতাকে জাগত করে। আর পেশাগত দ্বায়িত্ববোধ, মেধা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দক্ষতায় পরিপূর্ণ শিক্ষক হচ্ছে দেশ ও জাতির অনন্য মানব সম্পদ।
১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর তারিখ বিশ্ব ব্যাপী পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসটি শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী পালনকারী শিক্ষক সংগঠন ৫ অক্টোবর শিক্ষক সংগঠন গুলো প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পালন করা হয়। বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এই দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল (Education International – EI) ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে। দিবসটি উপলক্ষে ইআই প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষকতা পেশার অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকার সন্মেলনে ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ইউনেস্কো ও আইএলও`র যৌথ উদ্যোগে প্রণীত এই সুপারিশে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, শিক্ষকদের পেশাগত প্রস্তুতির বিধান এবং শিক্ষকদের অধিকার ও দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। পৃথিবীর সবদেশের শিক্ষকদের জন্য এই সুপারিশ একটি মৌলিক সনদ। এজন্য প্রতিবছর ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিক্ষক সমাজের অধিকার সুরক্ষা ও দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিশ্বের সকল শিক্ষককে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।
বিনম্র শ্রদ্ধায় অবনত মোরা, হে মানুষ গড়ার কারিগর।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ও এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনেক বড় একটি মন্ত্রণালয়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত কল্পে বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের বৈষম্য ও পেশাগত বৈষম্য দূর করা দরকার।
বেসরকারি কলেজে প্রদর্শকদের কোন পদোন্নতি নেই। যেখানে মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক (বেতন কোড ১০) নিদিষ্ট অনেক বছর পর গ্রেড/স্কেল নং ৯ পান ও অভিজ্ঞতা আলোকে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদ/পদবী প্রধান শিক্ষক হতে পারছেন। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বা স্নাতক/ডিগ্রী স্তরের কলেজে একজন প্রদর্শক (শিক্ষক) (বেতন কোড ১০) হয়েও কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা ও উচ্চশিক্ষা (স্নাতক/স্নাতকোত্তর) গ্রহণ করেও প্রদর্শক পদ/পদবীরা পরবর্তী প্রভাষক (বেতন কোড ৯) পদবীতে যেতে পারছেনা।
এজন্য বেসরকারি জনবল কাঠামোতে প্রদর্শক পদবী অভিজ্ঞতা বা উচ্চশিক্ষা অর্জন মাধ্যমে প্রভাষক পদবিতে বা প্রশাসনের উচ্চপদে যেতে পারে তার বিধিমালা/নির্দেশনা জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। তা না হলে প্রদর্শকদের সঙ্গে বৈষম্য বন্ধ হবে না। যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।
সরকারি চাকুরিতে যেখানে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি আছে। বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক (বেতন কোড ১০) উচ্চপদে পদবীতে যেতে পারে, সরকারী কলেজ গুলোতে প্রদর্শকগণ বিধিমোতাবেক প্রভাষক পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকে। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রী কলেজে নিয়োগ প্রাপ্ত-কর্মরত প্রদর্শক পদবী শিক্ষক (প্রথম বেতন কোড ১০, তারপর চাকুরি জীবনে ১০ বছর পর বেতন কোড ৯, তারপর চাকুরি জীবনে ৬ বছর পর বেতন কোড ৮ প্রাপ্ত) গণরা পরবর্তী উচ্চপদ/পদবী/পদোন্নতি পেতে কোন বিধিমালা লেখা নেই। চাকুরি জীবনে প্রদর্শক পদবীরা প্রদর্শকদের পরবর্তী উচ্চপদে যেতে/পদোন্নতি পেতে বিধিমালা প্রণয়ন করা অতিপ্রয়োজন। তা হলে প্রদর্শকদের কর্মপৃহা বৃদ্ধি পাবে ও শিক্ষা ক্ষেত্রে একমাত্র প্রদর্শক পদবীদের পরবর্তী উচ্চপদ না পাবার বৈষম্য দূর হবে।
কয়েকদশকে প্রদর্শক পদবীদের পদোন্নতি বা উচ্চপদে পদায়ন ও পরবর্তী পদ/পদবী না পাবার বিষয়টি কেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দৃষ্টি গোচর হয়নি? শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া ও যথাযথভাবে জনবল কাঠামোতে প্রদর্শকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করে পরবর্তী ধাপ/উচ্চতর স্তর পদ/পদবী লিখে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
প্রদর্শক পদ শিক্ষক পদমর্যাদা হলেও সরকারি কলেজ গুলোতে কর্মরতগণ পদোন্নতি পেলেও বেসরকারি কলেজ গুলোতে কর্মরতদের কোন পদোন্নতি নেই! এ দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যের অবসান হওয়া দরকার।
অবিলম্বে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো সংশোধন ও সংযোজন করে যথাযথভাবে প্রদর্শকদের পদোন্নতি ও অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা।
বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ পদ্ধতি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চের পর হতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) অধীনে নিয়ন্ত্রণ করছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) অধীনে বাংলাদেশে বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে প্রদর্শক পদে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা চালু হয়েছে ৩য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা- ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে হয়ে আসছে। [সূত্র : “স্মারক নম্বর বেশিনিক/পমৃপ্র/মতামত (অংশ-১)/৮২১/২০১৮/১০০ তারিখঃ ২৪ মার্চ, ২০১৯ খ্রি.”]
এমপিও বৈষম্যে এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোর নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শক। জনবল কাঠামো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রেজুলিউশন নং শাঃ ৪/৩ বি ৫/৮১/১৪২ তারিখ- ১৭/১২/৮১ইং ও অন্যান্য বিধিমালা অনুযায়ী গত ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চের পূর্বে হতে যা নিবন্ধন আইনের পূর্বে হতে কয়েকশত পুরাতন এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোর বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রদর্শক পদে আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) বিষয়ের শিক্ষক কর্মরত আছে, তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্নভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছে ও অনেকের এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।
যা বৈষম্যমূলক। গত ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চের পূর্বে হতে যা নিবন্ধন আইনের পূর্বে হতে বাংলাদেশে প্রায় কয়েকশত পুরাতন এমপিওভুক্ত (উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি) কলেজ গুলোর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে (পূর্বে অনুমোদিত ঐচ্ছিক বিষয় ছিল যা বর্তমান সরকার অনুমোদিত আবশ্যিক বিষয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত) ১জন করে আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) বিষয়ের প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা), দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবত নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত আছে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্যাটার্ন ভুক্ত পদ। এসব আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) গণের মধ্যে অনেকে বিভিন্নভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছে ও এখনও অনেকের এমপিওভুক্ত হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ পেশাগত বৈষম্যের শিকার। দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবত কর্মরত থাকলেও অনেকের এখনও এমপিও হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ সন্তানদের শিক্ষা নির্বাহ, দৈনন্দিন ব্যয়, চিকিৎসা ব্যয়, পিতা-মাতা সহ পরিবারের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট নিবেদন, প্রায় কয়েকশত পুরাতন এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোর আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) ১৭/১৮ বছর যাবত কর্মরত আছেন যাদের মধ্যে অনেকের এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি তাদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে এ বিষয়ে সদয় দৃষ্টি দিবেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন যে, নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শকগণ সকলেই এমপিওভুক্তির জন্য তৎসময়ে নিজ নিজ নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান করার পর পরই রাষ্ট্রীয় তফশীল ব্যাংক
(১). সোনালী ব্যাংক : রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ,
(২). অগ্রণী ব্যাংক : ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ,
(৩). জনতা ব্যাংক : চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগ,
(৪). রূপালী ব্যাংক : খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এর যে কোন ১টি’তে নিজ নিজ নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র অনুলিপি এবং অন্যান্য কাগজপত্র সহ ব্যক্তিগত হিসাব (একাউন্ট) ও নম্বর খোলা আছে। কয়েকশত পুরাতন এমপিওভুক্ত কলেজের যে সকল নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) যারা ১৭/১৮ বৎসর যাবত এমপিওভুক্ত কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত আছেন তাদের মধ্যে যাদের এখনও এমপিও হয়নি (নন-এমপিও) তাদের সকলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যাতে দ্রুত অফলাইনে হার্ডকপি জমা নিয়ে এমপিওভুক্ত করে তার নির্দেশ প্রদান করবেন। মাস শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঠিকই তাদের মাসিক বেতন ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা?
এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোর নন-এমপিওভুক্ত আইসিটি প্রদর্শক শিক্ষকদের কথা একবার ভাবুন। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানের পেশায় আছেন তিনি, হোক না নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এ যে সম্মানের পেশা, মাথা নত না করার পেশা। হীন অবস্থায় থাকলেও শির কিন্তু টান করেই রাখে এ শিক্ষকরা। কারণ সরকারি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেমন শিক্ষক, তেমনি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও শিক্ষক।
জাতি বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর এবং সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত শিক্ষক সমাজের এমন করুন চিত্র আজ সর্বত্র। যারা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে কর্মরত তারা জীবন যৌবন উৎসর্গ করে জাতিগঠনে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন। সেই শিক্ষকদের সুখ-দুঃখ প্রকাশের ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে নেই কোন নির্ভরশীল অভিভাবক।
২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর হতে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চের পূর্ব পযর্ন্ত (নিবন্ধন আইনের পূর্বে) এমপিওভুক্ত কলেজ (উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি) গুলোতে কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ সংযোগ, বোর্ড হতে বিষয় অনুমোদন কম্পিউটার শিক্ষা (যা বর্তমানে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়কে “আইসিটি” বিষয় নাম করণ করেছে) বিষয়ে “প্রদর্শক” পদে নিয়োগকৃত ও যোগদানকৃত এবং বর্তমানে কর্মরত প্রদর্শক আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) পদ।
বর্তমান “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা -২০২১” এর ৬নং এর “(গ) উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১২শ)” ক্রমিক ২১, “(ঘ) উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ (১১শ-১২শ)” ক্রমিক ৭, “(ঙ) স্নাতক (পাস) কলেজ (১২শ-১৫শ)” ক্রমিক ৮ অনুযায়ী আইসিটি বিষয়ের প্রদর্শক পদটি আবশ্যিক বিষয় ও প্যাটার্নভুক্ত পদ।
প্রয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক জনবল কাঠামো-২০২১ এর ৯নং “পদ সমন্বিতকরণ” অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে “প্রদর্শক” পদে “আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা)” বিষয় “পদ সমন্বিতকরণ” করে জনবল কাঠামো-২০২১ এর ১০নং [জনবল কাঠামো-২০২১ এর “১০।
সরকার সময়ে সময়ে কোন বিষয়কে আবশ্যিক হিসাবে ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উক্ত বিষয়ে পদ সৃষ্টি হবে এবং উক্ত পদে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক/কর্মচারীগণ এম.পি.ও. ভুক্ত হবে।”] সহ অন্যান্য বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর হতে এমপিওভুক্ত করতে জনবল কাঠামো-২০২১ অনুযায়ী “অফিস আদেশ” বা পরিপত্র জারি করা দরকার।
তৎসময়ে (২০/০৩/২০০৫ তারিখ/নিবন্ধন আইনের পূর্বে) নিয়োগকৃত আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) বিষয়ের প্রদর্শক পদে নিয়োগকৃতরা তৎসময়ে ও বিভিন্ন সময়ে তথা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দেও অনেকে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর হতে প্রদর্শক আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) পদে এমপিওভুক্ত হলেও এখনও অনেকে এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। যাদের এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি তাদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অফিস আদেশ/পরিপত্র জারি করা সময়ের দাবি।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষক হলো জাতির আলোক বর্তিকা। শিক্ষার মেরুদন্ড হলো ব্যবহারিক শিক্ষা যা প্রদর্শকগণ দিয়ে থাকেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রদর্শকদের পদোন্নতির ও এমপিও বৈষম্য দূর করা অবশ্যই দরকার।
এমপিওভুক্ত কলেজের গত ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চের পূর্বে হতে যা নিবন্ধন আইনের পূর্বে হতে বাংলাদেশে প্রায় কয়েকশত পুরাতন এমপিওভুক্ত (উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি) কলেজ গুলোর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে (পূর্বে অনুমোদিত ঐচ্ছিক বিষয় ছিল যা বর্তমান সরকার অনুমোদিত আবশ্যিক বিষয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত) ১জন করে আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) বিষয়ের প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) পদে দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবত নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত আছে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্যাটার্ন ভুক্ত পদ। এসব আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) গণের মধ্যে অনেকে বিভিন্নভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছে ও এখনও অনেকের এমপিওভুক্ত হতে পারেনি এবং দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ পেশাগত বৈষম্যের শিকার।
দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর যাবত কর্মরত থাকলেও অনেকের এখনও এমপিও হয়নি। নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শকদের এমপিওভুক্ত আদেশ জারি করুন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা। মুজিব বর্ষেই সকল এমপিওভুক্ত কলেজের নন-এমপিও আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা) বিষয়ের প্রদর্শক পদের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার এমপিওভুক্ত করা দরকার।
দাবি : “নিবন্ধন আইনের পূর্বে পুরাতন এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নিয়োগকৃত প্রদর্শক (আইসিটি) শিক্ষকদের মধ্যে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।”
(মতামত)
লেখক –
মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)।
প্রদর্শক, আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা),
জয়লাজুয়ান ডিগ্রী কলেজ, শেরপুর, বগুড়া, বাংলাদেশ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
