ফিরোজ আলম।।
আছে কোলাহল,আছে প্রাণের মেলা।আছে প্রাণের উচ্ছ্বাস, আছে গানের সুর।আছে আমেজ,আছে বনভোজন পরিকল্পনার উত্তাপ, শুরু হয়েছে কত শত নিত্য নতুন ভাবনা আর পরিকল্পনা। শিক্ষাঙ্গনে যেন ধূসর হাওয়া গায়েব হয়ে গেছে। হয়ে গেছে ।করোনার নিষ্ঠুরতায় ১৮ মাসের ও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা প্রাণের প্রিয় শিক্ষাঙ্গন আজ রঙ্গিন উৎসব আমেজ নিয়ে খুলেছে।আজ সুযোগ বুঝে ধূসর শিক্ষাঙ্গন রঙ ছড়িয়েছে মনের মতন করে।
শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মলিন ক্যাম্পাস সেজেছে আজ নতুন বৃক্ষরাজি, ঘাস ও ফুলের সমাহারে।। ক্লাস রুমের চেয়ার টেবিলের বয়স কমে তরুন হয়ে গেছে,পুরাতন চামড়ায় নতুন রংয়ের শোভন ধরেছে ।দেখে মনে হচ্ছে ধুলির আস্তরন আজ হতাশায় গায়েব।প্রিয় রুম আজ আবার ফিরে এসেছে চেনা রূপে।আবাসিক হল গুলি আজ মাকড়োসার করদ রাজ্যে থেকে মুক্তি পেয়ে উল্লাসে মেতেছে। অতি কষ্টে অর্জিত প্রিয় রুম আজ আবার পেয়ে গেছে নতুন আলোর অপরুপ সৌন্দর্য।
শেণী কক্ষের বেঞ্চ গুলোর একাকী নিরালায় কারো জন্য অপেক্ষার প্রহরের অবসান হয়েছে।শেণী কক্ষের রসালো পাঠদান,শিক্ষকের ব্যবহারিক শিক্ষা কিংবা জীবন বদলানো গল্প আবারো শুনে দারুন উপভোগ করছে ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিক্ষকরা।বিদ্যালয়ের দেয়ালের রং কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে গেছে।ফুল না ধরা গাছে ফুল ধরেছে,রোগা বৃক্ষটির মরন হয়েছে,নতুন সবুজ বৃক্ষ সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে নবরুপে।এ যেন অতি চেনা অপরুপ এক নতুন প্রাঙ্গন।
ভার্চ্যুয়াল শিক্ষা কার্যক্রম ভুলে এবতেদায়ী,প্রাক প্রাথমিক,প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা আজ আবারো বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কথা প্রাণ খুলে স্মরন করছে। বন্ধুদের নতুন উদ্যেমে আড্ডার কথা না হয় নাই বা বললাম। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আজ অনেকটাই আহত।
অনলাইন ও সংসদ টিভিতে ক্লাস গুলি আজ অনেকটাই গুমরে কাঁদছে। ডিভাইস ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা ৬৮% শিক্ষার্থীরা আজ মহাখুশিতে আহ্লাদ।প্রায় ৬৯% শিক্ষার্থী করোনাকালে দূর-শিক্ষণে অংশ নিতে পারেনি তারা ও সানন্দে কাটাচ্ছে বিদ্যালয়ে সময়।
স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা হেডফোন দিয়ে ক্লাস করার যে বিরক্তি তার অবসান হয়েছে।স্মার্ট ফোনের কারনে শ্রবণ সমস্যা অনুভব করা, স্মার্ট ফোন দিয়ে তিন/চার ঘন্টা ক্লাস করে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া,কিংবা ঘুম কম হওয়া, আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আসা ছাত্রটির অনেক ক্ষতি হয়ে গেলে ও সেটি আর চলামান না থাকায় মুখে সামান্য হাসি ফুটেছে তার।
অটোপাস অনেকের কাছে অসন্মানের । অটোপাসের গ্লানি থেকে বাঁচার রাস্তা ও আজ দৃশ্যমান।। বেসরকারি স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা অনেকটাই দেউলিয়া থেকে ফিরছে নতুন উদ্যেমের পথে।এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের চাকুরী হারানো হাজারো শিক্ষকের কোন বেঁচে থাকার মত পেশা/অবলম্বন ও তৈরি হয়েছে নতুন তানে।।আয় কমে যাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ও কিছুটা ভাল থাকার প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছেন। আনন্দহীন ক্যাম্পাস কিংবা শিক্ষার্থী ছাড়া ক্যাম্পাস সাজিয়ে উঠছে প্রাণের মেলায়। করোনার প্রকোপ মৃত্যু হার কমছে, বাতাসে লাশের গন্ধ এখন আর অহরহ ভাসছেনা।
প্রিয় শিক্ষা প্রাঙ্গনে প্রাণের মেলার সুর বাজছে আজ নিশ্চিতভাবে।।হয়ত আবারো আরেকটি শিক্ষাবর্ষ শিক্ষার আলো না ছড়িয়ে চলে যাবে না এমন প্রত্যাশায় বুকে স্বপ্ন আঁকছে হাজারো শিক্ষার্থী-অভিভাবক। হয়ত আবারো অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকতে হবেনা লক্ষ-কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর অভিভাবকের প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত শিক্ষাঙ্গনের দিকে এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষমান বাংলাদেশের মানুষ ।করোনা দূর হোক,দূরে যাক।ঘুচে যাক সব হারানো গ্লানি।উদিত সূর্যের আলোর মত শিক্ষার আলো প্র্জ্জলিত হোক শিক্ষাক্ষনে।
লেখক-বিভাগীয় প্রধান,আয়েশা (রা:) মহিলা কামিল (অনার্স,এম.এ) মাদ্রাসা।সদর,লক্ষীপুর।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
