অনলাইন ডেস্ক।।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সীমিত পরিসরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈঠকে দলের শৃঙ্খলা, অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো ইত্যাদি নানা বিষয়ে নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত দেবেন বলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে ২ বছর এবং এই সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, দলের অন্ত:কলহ এবং কোন্দল বন্ধ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছু নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, চমক হিসেবে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টিও আলোচনা করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, করোনার কারণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা স্থবির হয়ে গিয়েছিলো। এখন এই সাংগঠনিক সম্পাদক গুলোকে নতুন করে চালানো বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ যে সমস্ত জেলা উপজেলা কমিটি রয়েছে সে কমিটিগুলো ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট গাইডলাইন দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, বিগত সময়ে যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করেছেন বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়টি এই কাউন্সিলে আলোচনা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এই কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কোন্দল, চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাওয়া এবং প্রকাশ্যে বিরোধ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের কথা উচ্চারণ হচ্ছে। এই সম্মেলনও এবারের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, এবার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে মূলত ৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তাহলো:
১. দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী নতুন করে আন্দোলনের চেষ্টার জন্য আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত থাকা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কর্মসূচি গ্রহণ করা
২. সরকারের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলো হয়েছে সে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলো যেন মানুষের কাছে প্রচার করা হয়। সেজন্য দলকে সংগঠিত করা এবং জোরালো প্রচার করা।
৩. সারাদেশে আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোকে কার্যকর করা। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর বদলে নতুন কমিটি করা।
৪. দলের নির্দেশনা অমান্য করে যারা বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. দলের চেইন অব কমান্ড নিশ্চিত করা।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দলকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাবেন। এবারের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত কঠোর বার্তা তিনি দিতে পারেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
