টিকায় স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন টার্গেট ১২ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

দেশে এখনো ২৫-এর কম বয়সের শিক্ষার্থীদের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়নি। নিবন্ধনের জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারছে না তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে এখন ২৫ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীরাই কেবল টিকার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারছেন। এরমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিক্ষার্থীদের নতুন করে টিকা দেয়ার বয়স নির্ধারণ করেছে ১২ বছর। সংস্থাটি আরো বলছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং তাদের শারীরিক গঠনে স্কুলে যাওয়াটা এখন খুবই জরুরি। এরমধ্যে গ্রীষ্মের ছুটির পর বিভিন্ন দেশে স্কুল খুলে দেয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই এর আগেই স্কুল-কলেজের সাথে জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও শতভাগ টিকার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে তারা। একই সাথে ১২ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

এ দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে এবং স্কুলের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকার আওতায় আনতে আবারো তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে করোনা মহামারীর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখতে শিক্ষক এবং স্কুলের কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ।

যদিও বাংলাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের এবং প্রাথমিক পর্যায়ের শুধু শিক্ষকদেরই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের মধ্যে ৯০ ভাগের বেশি টিকার নিবন্ধন করেছেন কিংবা প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনায় ১৮ বছরে নিচের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ঘোষণা এখনো আসেনি। অন্য দিকে টিকার মজুদ না থাকা কিংবা বিদেশ থেকে টিকাপ্রাপ্তিসাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শুধু ২৫ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদেরই টিকা দেয়ার জন্য নিবন্ধন করা হচ্ছে।

তবে টিকার সরবরাহ না থাকায় দেশের অনেক স্থানে টিকা দেয়াও এখন বন্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন যদিও শুধু ২৫ বছরের বেশি বয়সের লোকজনই টিকার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারছেন। তবে এই বয়সের সীমা আরো কমিয়ে আনা হবে। সব শিক্ষার্থীর টিকা নিশ্চিত করতে শিগগিরই বয়সের সীমা ১৮ বছরের নিচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব বয়সের শিক্ষার্থী এবং একটা সময়ে সবাই টিকার জন্য নাম নিবন্ধন করে টিকাপ্রাপ্তির আওতায় চলে আসবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের গ্রীষ্মের ছুটির পর বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলো আবার খুলতে যাচ্ছে। স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে।

এর আগেও অবশ্য এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালের নভেম্বরে করোনার টিকা আসার আগেই শিক্ষকদের টিকায় অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়। এবারের বিবৃতিতে করোনার ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে টিকা দেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ডব্লিউএইচও ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুগে বলেন, করোনা মহামারীর ফলে শিক্ষার ওপরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাধাটা এসেছে। তাই শিশুদের বিকাশের জন্য স্কুল খোলাটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া শারীরিক জটিলতা থাকা শিশুদের টিকা দেয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছে জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো। তারা জানায়, করোনার ঝুঁকি মোকাবেলায় ১২ বছরের বেশি এসব শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি করোনা মহামারীর মধ্যে ঝুঁকি এড়াতে স্কুলের পরিবেশ আরো উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.