পর্যটন-বিনোদনে ফিরেছেন ২৫ শতাংশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে পর্যটন, হোটেল মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্রে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন খুলে দেয়ার পর এ পর্যন্ত পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে ফিরেছেন প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ। এ দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে লকডাউন শেষে গত ১৯ আগস্ট থেকে টুরিজম ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুললেও বন্ধ ছিল চিড়িয়াখানা, সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিন। এর মধ্যেও প্রায় দেড় বছর পর কাল থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খোলার প্রথম দিকে পর্যটন, হোটেল, মোটেল ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণপ্রেমিকদের তেমন অনাগোনা না থাকলেও ধীরে ধীরে সময় অতিবাহিতের সাথে মানুষের কোলাহল বাড়ছে। এতে এ খাতে আবার প্রাণ ফিরছে। তাদের প্রত্যাশা যেহেতু করোনা সংক্রমণ কমে আসছে তাই কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (বিক্রয় উন্নয়ন ও জনসংযোগ) মো: জিয়াউল হক হাওলাদার জানান, লকডাউনে শেষে তারাও প্রত্যাশা করেছিলেন মানুষের কোলাহলে প্রাণ ফিরে পাবে পর্যটন। কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আর স্বাস্থ্যবিধির একটা বাধ্যবাধকতা তো আছেই। সাথে আবহাওয়া খারাপ ভালোর একটা বিষয় আছে। সব মিলিয়ে পর্যটক পেতে আরো কয়েক মাস লাগবে। তাই আপাতত এ খাত বাঁচিয়ে রাখাটাই এখন প্রধান কাজ। তবে খুলে দেয়াতে অন্তত এর সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সিলেটের মৌলভীবাজারে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসের রহমান জানান, করোনায় মানুষের দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা খারাপ ছিল না। তবে লকডাউনে তারা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন লকডাউন শেষে আবার তাদের ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় অবস্থিত বিনোদন পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম পরিচালনা করছে কনকর্ড গ্রুপ। এ বিষয়ে গ্রুপের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড পিআর এম মাহফুজুর রহমান জানান, লকডাউন শেষে প্রথমে তাদের পার্কে তেমন দর্শনার্থী মেলেনি। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে এখন দিন দিন মানুষ বাড়ছে। তিনি জানান, সময় অতিবাহিতের সাথে এক সময় তারা আগের অবস্থায় ফিরতে পারবেন এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
অপর দিকে সাভারে অবস্থিত বিনোদনকেন্দ্র নন্দন পার্কের বিপণন প্রধান আরশাদ নূর  জানান, পার্ক খুলে দেয়ার পর আস্তে আস্তে দর্শনার্থী বাড়ছে। তবে খুবই কম। বলা যায় চার ভাগের একভাগ। তিনি বলেন এখনো মানুষের মাঝে করোনা আতঙ্ক রয়েছে। অন্য দিকে আবহাওয়াও উপযোগী নয়। তবে যেহেতু করোনা কমে আসছে তাতে আর কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবসা ঘুরে দাঁড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বিমান সংস্থা নভোএয়ারের বিপণন প্রধান বিসবাহ উল ইসলাম  জানান, আপাতত তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছেন না। তিনি জানান, কক্সবাজারেও তাদের ফ্লাইট রয়েছে। তবে সে রুটে প্রায় ২৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। কক্সবাজার সি ব্রিজ রিসোর্টের বিপণন প্রধান জানান, হোটেল মোটেল খুলে দিলেও দর্শনার্থী প্রায় ৭৫ শতাংশ কম। বাকি ২৫ শতাংশ দিয়েই আপাতত তারা টিকে আছেন। তবে সময়ের সাথে মানুষ বাড়বে বলেও জানান তিনি।
এ দিকে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর কাল থেকে সুন্দরবন উন্মুক্তের কথা জানিয়ে সুন্দরবনের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দেব গতকাল  বলেন, কাল থেকে সুন্দরবনে সাধারণের প্রবেশে কোনো বাধা থাকবে না। রোববার বন বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করমজলসহ সব স্পটেই তারা যেতে পারবেন তারা। একইসাথে সুন্দরবনের বনজসম্পদ আহরণের জন্য পাস পারমিটও দেয়া হবে। তবে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি লঞ্চে ৭৫ জনের বেশি যাতায়াত করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.