নিউজ ডেস্ক।।
দীর্ঘদিন পর শর্তসাপেক্ষে আজ খুলছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। এ জন্য এসব পর্যটন কেন্দ্র ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজটি সেরে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে অনেক বিনোদন কেন্দ্রে পড়েছে ধুলোর আস্তরণ। অপরিষ্কার হয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্পট। দুই ঈদেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল।
ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াত ছিল নিষিদ্ধ। ক্ষতি পোষাতে আর পর্যটক আকৃষ্ট করতে নতুন করে সাজছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে ফিরছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে নতুন করে লোকবল বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ভ্রমণে বের হতে না পারার অস্বস্তি কাটাতে পর্যটন কেন্দ্রে আসার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছেন। তার পরেও সরকারের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মেনেই পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তত রয়েছেন তারা। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিনে এখনো শুরু হয়নি পর্যটক বরণের প্রস্তুতি। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে- পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়স লেক, সি-ওয়ার্ল্ড (ওয়াটার পার্ক), চিড়িয়াখানা, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক, কাজীর দেউড়ি শিশুপার্ক, সিআরবি মোড়, বাটালি হিল, ডিসি হিল, নেভাল একাডেমি, ওয়ার সিমেট্রি, স্বাধীনতা পার্ক, নৃ-জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর ও রেলওয়ে জাদুঘর অন্যতম।
পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র প্রজাপতি পার্কও ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। শহরের বাইরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকত, কাপ্তাই লেক, সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়, সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক, মিরসরাইয়ের মহামায়া, বাঁশখালী ইকোপার্ক ও রাউজানের মডার্ন পার্ক।
সিলেট : সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত পর্যটন শিল্প এখন চরম সংকটে রয়েছে। পর্যটন খাতকেই সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাত হিসাবে আখ্যায়িত করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেটিই এখন সবচেয়ে বড় সংকটে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েবের হোটেল ব্যবসা রয়েছে নগরীতে।
তিনি বলেন, করোনার কারণে এ খাতের ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শ্রীমঙ্গলের ‘এসকেডি আমার বাড়ি’ রিসোর্টের পরিচালক সজল দাশ বলেন, আমার ব্যাংক লোন আছে দুই কোটি টাকা। গত বছরের প্রায় ৬ মাস রিসোর্ট বন্ধ ছিল। দু-তিন মাস কিছুটা ব্যবসা করেছি। আয় না হলেও কর্মচারীদের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ঋণের জালে আটকে যাচ্ছি। পুঁজি হারানোর ভয়ে আছি।
কক্সবাজার : প্রায় ৫ মাস বন্ধ থাকা কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। পর্যটকদের বরণে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের ও রেস্তোরাঁর পাশাপাশি টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হিমছড়ি, ইনানী সড়কের পর্যটন স্পট, সাবরাং এক্সক্লুসিভ জোন, ন্যাচারাল পার্ক, বার্মিজ মার্কেট, ডুলহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, রামু রামকুট বৌদ্ধ বিহারসহ দর্শনীয় স্থানগুলোকে আকর্ষণীয় করে সাজানো হচ্ছে।
এদিকে লকডাউনে হওয়া ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীরা। এ কারণে পর্যটক টানতে হোটেলগুলো ৩০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ ভাড়ায় ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হোটেলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। বিধিনিষেধ মেনে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ ভাড়া দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সৈকতের ছোট ছোট দোকান, হকার, শামুক-ঝিনুকের দোকানগুলো খোলা হয়েছে।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটার অভিজাত আবাসিক হোটেল কানসাই ইনর এমডি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন বলেছেন, করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন হোটেল বন্ধ থাকায় অনেক আসবাবপত্র মালামাল নষ্ট হয়েছে। ধারদেনা করে পুনরায় বিনিয়োগে ব্যবসায় ফিরতে হচ্ছে। এদিকে, সরকার ঘোষিত পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না সহজে বলে দাবি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীনের।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার আ. খালেক বলেন, পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা এখনো চিঠি পাইনি। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
বান্দরবান : বৃষ্টিতে পাহাড়ের আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলো পিচ্ছিল এবং বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ও স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রিছাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক (ঝুলন্ত ব্রিজ), মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নতুন করে নির্মিত আলুটিলা তোরণের (গেট) চলছে রঙের কাজ। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্রে নির্মিত হচ্ছে সেতু, ভিউ পয়েন্ট নানা স্থাপনা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, ‘পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সংস্কার এবং নতুন নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।’
রাঙামাটি : নতুন সাজে সাজছে রাঙামাটি সরকারি পর্যটন কেন্দ্রসহ জেলার সরকারি-বেসরকারি স্পটগুলো। একই সঙ্গে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, শহরসহ জেলার আবাসিক হোটেল, মোটেল এবং রেস্টুরেন্টগুলোলতে। রাঙামাটি সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, পর্যটন খুলতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক বন্ধ থাকায় সেখানে যেন লেগেছে প্রকৃতির নিজস্ব ছোঁয়া। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা লাউয়াছড়া বন যেন নিজের মতো করেই আবেদনময়ী রূপে সেজেছে। বনের গাছে গাছে রাজত্ব করছে বানরের দল। প্রায় সময়ই লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের আশপাশে দেখা মিলছে মায়া হরিণ ও বানরের দলের।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
