অনলাইন ডেস্ক।।
শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পেয়েও কয়েক হাজার প্রার্থী যোগদান ও এমপিওভুক্ত হতে জটিলতায় পড়েছিলেন প্রতিষ্ঠান থেকে ভুল তথ্যের জন্য । মহিলা কোটা, নবসৃষ্ট পদে নিয়োগ, প্যাটার্ন জটিলতাসহ নানা সমস্যায় তারা এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না। এসব জটিলতার মূলে ছিলেন শূন্যপদের ভুল তথ্য পাঠানো প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষক নিয়োগের ভুল তথ্য পাঠানো এমন আরও ১৪ জন প্রতিষ্ঠান প্রধানের তিনমাসের এমপিও কেটে রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে দায়ীদের এমপিও কেটে রাখার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।
এর আগে একই দায়ে প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান প্রধানের ৩ মাসের এমপিও কেটে রাখার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগের ভুল তথ্য পাঠানো এরকম ৯ শতাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছিল।
এ দফায় তিন মাসের বেতন হারানো শিক্ষকরা হলেন, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ডা. ইলিয়াছ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. হেমায়েত আলী খাঁন, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার একতা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ফরকাবাদ এন আই হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর এম এইচ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কবীর হোসেন, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ফজিলা রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এস এম জাহিদুল ইসলাম, খুলনার কয়রা উপজেলার গাজী আ. জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সসীম কুমার বাহাদুর, নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান এবং রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোবিনুর ইসলাম। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ডি এন এস সি বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ হোসেন রঞ্জু, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হাকিমপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার, ভোলা সদরের হালিমা খাতুন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. টিপু সুলতান, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার হরিশ্চর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন মজুমদারের তিন মাসের বেতন বন্ধ হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন জারি হওয়া এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিধান ছিল, এসব পদে নিয়োগে মন্ত্রণালয় আলাদা আদেশ জারি করবে। এ পদগুলো নবসৃষ্ট পদ নামে বহুল পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠান প্রধান আদেশ জারির আগেই ২য় চক্রে শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা হিসেবে সে পদগুলোকে শূন্য দেখিয়েছিলেন। ফলে, সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না। পরে অবশ্য এসব শিক্ষকের জটিলতা নিরসন করেছে সরকার। এনটিআরসিএর মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েও প্রার্থীদের এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ চাহিদার জন্য। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই, দায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তিন মাসের এমপিও কর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
