উন্নত ভবষ্যিতরে জন্য কাজ করুন

সাইয়েদা খানম।।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন এর উক্তি “ আমাকে কিছু বল আমি ভুলে যাব , আমাকে খিছু শিখাও আমি মনে রাখবো , আমাকে কিছুতে সম্পৃক্ত করো তা হলে আমি শিখবো । ” অমি মনে করি বিদ্যালয় এর শিখন কার্য়ক্রম হবে এমনই একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার্থী রা হাতে কলমে শিখবে ।

একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠদানই করেন না , শিশুর ভিতরের সমস্ত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করেন যাতে সে পরিবর্তিত পৃথিবীর সাথে নিজেকে প্রস্তুত করতে সক্ষম হয় ।

সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে শিক্ষক সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং তাকে সাহায্য করার জন্য বিশাল ভ’মিকা পালন করতে পারেন অভিভাবক , তবেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জ্ঞান চর্চা হবে ত্বরান্বিত ।

শিক্ষক ছাত্রের ভিতরের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করেন , অভিভাবক তাকে ত্বরান্বিত করেন এবং শিক্ষার্থী তা রপ্ত করে । শিক্ষক , অভিভাবক , শিক্ষার্থী এই তিনের ভ’মিকায় যখনই কোন ঘাটতি দেখা যায় তখনই শিক্ষাব্যবস্থা হয় নড়বড়ে । যথাযথ ভ’মিকাই হতে পারে একটি আদর্শ বিদ্যালয় গঠনের মূলমন্ত্র ।

শিক্ষকের সঠিক পাঠদান , অভিভাবকের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীর শিখন কার্যক্রম তো থাকছ্ইে এর বাইরেও বর্তমানে আর একটি বিষয় শিখন পদ্ধতিতে যুক্ত হয়েছে তা হলো মনস্তাত্বিক সম্পৃক্ততা ।

আগে শিক্ষকরা অনেক সময় দূবর্ল শিক্ষার্থীদের শাসন করে পড়া আদায় করতো , অভিভাবকরা কোন কিছু বলার সুযোগ খুব কমই ছিল কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বাক স্বাধিনতা থাকায় আমরা আমাদের মতামত জানাতে পারছি , প্রাইভেট স্কুলগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে এটা ইতিবাচক হলেও আবার তা অনেক সময় সমস্যা হয়েও দাড়াচ্ছে ।

১। ফলাফলের প্রভাব: অনেক অভিভাবক আছেন শিক্ষার্থী কি শিখছে তার থেকেও বেশি ফোকাস করেন শিক্ষার্থী শ্রেণিতে প্রথম বা দ্বিতীয় হতে পারছে কিনা , পরীক্ষার প্রথম হওয়ার এই যে প্রতিযোগিতা তা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাড়ায় । মুখস্থনির্ভর হয়ে পরে অনেক শিক্ষার্থী । পাবলিক পরীক্ষা বাড়ানো হচ্ছে যার ফলে পড়াশুনা সনদমূখী হচ্ছে যা সৃজনশীলতার পথে অন্তরায় ।

প্রতিকার: শিক্ষার্থীর পড়াকে আনন্দ দায়ক করতে হবে । বুঝে পড়ার অভ্যাস গঠন করতে হবে । শিক্ষার্থীর ধরণ বুঝে পাঠদান সম্পন্ন করতে হবে। বয়স , মেধা ,আগ্রহ এসবের ভিত্তিতে মেধার ক্রম নির্ধারণ করে সেকশন ভাগ করতে হবে। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণে বয়স , শ্রেণি ও মান সম্মত কিনা তা মূল্যায়ন করতে হবে ।

২। কোচিং সেন্টারের উপড় নির্ভরশীলতা: গতানুগতিক নোট ,শীট এর উপড় আজকাল অনেক অভিভাবক নির্ভরশীল । ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে নিজে বুঝে নিজে নোট করার প্রবণতা এখন নাই বললেই চলে ।কোন কোন শিক্ষকরাও তাই বাড়তি আয়ের জন্য স্কুলে পুরোপুরি ও যথাযথভাবে সময় দিতে চাননা । ফলে অভিভাবক কোচিং সেন্টারের স্বরনাপন্ন হচ্ছেন । কিন্তু বিদ্যালয়ই শিশুর পরিপূর্ণ ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম । এমনকি কোন কোন কোচিং সেন্টার বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করছে যেখানে মেধার যাচাই নেই বললেই চলে , বৃত্তির জন্য নোট দিচ্ছে কোচিং সেন্টার এবং বাছাইকৃত সাজেশন যা মুখস্থ করে বৃত্তি দেওয়া হয় ।

প্রতিকার: অভিভাবক ও শিক্ষককের সচেতনতা ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ । যথোপযুক্ত লেসন প্লেন , কারিকুলাম সমন্ধে সচেতনতা থকতে হবে । যথেষ্ট শিক্ষা উপকরণ , গ্রন্থাগার ও গবেষণাগার থাকতে হবে ।

৩। সহায়ক শিক্ষা: সহায়ক শিক্ষা শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনে সক্ষম । শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ আছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খুব ভালো অবদান রাখে আবার কেউ কেউ আছে মেধার দিক দিয়ে খুব ভালো কিন্তু সহশিক্ষায় সে পিছিয়ে । কিন্তু অনেক অভিভাবক শিশুর এই দিকটিকে মেনে নিতে পারেন না । যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী হীনমন্যতায় ভোগে । যা তার শিখনে বাধাঁ হয়ে দাড়ায় ।

প্রতিকার : শিক্ষার্থীর ধরন বুঝে ও তার কোন বিষয়ে আগ্রহ তা বুঝে তাকে শিখাতে হবে । অযথা কোন কিছুতে বাধ্য করা যাবেনা । যা আগ্রহ সহকারে শিখবে তা শিক্ষার্থীর মধ্যে বদ্ধমূল হযে থাকবে । এবং সর্বোপরি শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে হবে ।

৪। সাধারণ স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের অবস্থান: সরকার যেহেতু বলেছে প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে সাধারণ শিশুদের সাথে পাঠদান করানোর কোন নিষেধাজ্ঞা যেন না থাকে তাই অনেক প্রতিবন্ধী শিশু সাধারণ স্কুলগুলোতে ভর্তি হচ্ছে এতে তাদেরকে কিভাবে পরিচালনা করা হবে তা জানা জরুরী কিন্তু আমরা দেখছি অনেক স্কুলেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ নেই । ফলে হীতে বিপরীত হচ্ছে ।

প্রতিকার: প্রতিটি স্কুলে একজন করে হলেও শিশু বিশেষজ্ঞ থাকা দরকার । করণীয় বিষযগুলি জানার পাশাপাশি তাদের সাথে ব্যবহার কেমন হবে তা শিক্ষকদের জানা অবশ্য জরুরী । এজন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা থাকতে হবে ।

৫। তুলনামুলক মনোভাব:তুলনামুলক মনোভাব অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায় । শিশুটিকে অন্য শিশুর সাথে তুলনা করলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে ।

প্রতিকার:শিক্ষার্থীর নিজের ক্ষমতার উপড় বিশ্বাস রাখতে হবে তবেই শিক্ষার্থীর মধ্যেও নিজের সমন্ধে আস্থা তৈরি হবে । বৃত্তিমূলক ও কারিগড়ি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে যে সকল শিক্ষার্থী পিছিয়ে আছে তাদেরকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে । এতে করে ভবিষ্যতে বেকার সমস্যা অনেক কমে আসবে ।

স্কুল থেকেই শুরু হোক সমৃদ্ধ জাতির যাত্রা আর তাই পরীক্ষানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করি এবং আগামী বিশ্বকে গড়ে তুলি অজানাকে জয় করে । তবেই মিলবে মুক্তি । গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধশালী জাতি ।

বিশ্বাস , আস্থা আর স্বপ্নে বাচুক পৃথিবী এই হোক আমাদের প্রত্যাশা ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.