এইমাত্র পাওয়া

বাংলাদেশী তরুণী নির্যাতনের ঘটনায় ভারতে আটক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশী এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। এদের মধ্যে ঘটনার মূল হোতা হৃদয় নামে এক তরুণসহ চার তরুণ ও দুই তরুণী রয়েছে। তবে হৃদয়সহ দু’জন পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়। গ্রেফতারকৃতরা সবাই বাংলাদেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশী এক তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে এরই মধ্যে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটিকে সৌদি আরবে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করেছে রাজধানীর মগবাজারের এক তরুণ। যার নাম হৃদয়।স্থানীয়ভাবে পরিচিত টিকটক হৃদয় নামে। ভারতে পাচারের পর হৃদয়সহ কয়েকজন মেয়েটিকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটিকে নির্যাতন করে তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ভারতের বেঙ্গালুরুর পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছে ঘটনার মূল অভিযুক্ত হৃদয়সহ চার তরুণ ও দুই তরুণী। চার তরুণের মধ্যে রয়েছে হৃদয়, রকিবুল ইসলাম সাগর, মোহাম্মদ বাবু ও অখিল। আর দুই তরুণীর হলো নুসরাত ও কাজল। ধারণা করা হচ্ছে এদের সবাই বাংলাদেশী। বৃহস্পতিবার (২৭শে মে) রাতে গ্রেফতারের পর আজ শুক্রবার সকালে পালানোর চেষ্টা করে হৃদয় ও তার বন্ধু সাগর। এসময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় তারা।

এদিকে নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বাবা রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে দু’টি মামলা করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে ভারত থেকে তার মেয়ে ফোনে দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন মেয়েটির বাবা।
অভিযুক্ত হৃদয়ের পরিবার থাকে রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা এলাকায়। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউই রাজি হয়নি।

স্থানীয়রা জানালেন, হৃদয় এলাকায় বখাটে হিসেবেই পরিচিত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (তেজগাঁও বিভাগ) শহিদুল­াহ জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী মেয়েটিসহ অভিযুক্তদের আইনী প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.