এইমাত্র পাওয়া

টাকার অংকে নয় ,শতকরা হারেই বাড়তে হবে শিক্ষা বাজেট

ফিরোজ আলম।।

বৈশ্বিক করোনায় সারা পৃথিবীর অর্থনীতি যখন সংকটাপন্ন।ঠিক তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রকৃত অর্থেই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অসামান্য দৃষ্টান্ত রাখছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে এগিয়ে চলছে দেশ, উচ্চ আয়ের দেশ গঠনে চলছে সরকারের প্রানান্তর চেষ্টা,বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে নিরলস কাজ করছে, মাথাপিছু আয় ২২৫০ ডলারকে অতিক্রম করছে,প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৮ শতাংশ করার চমকপ্রদ চেষ্টা অবিরাম অব্যাহত রয়েছে,কিন্তু নেই সুদূরপ্রসারী দীর্ঘ মেয়াদি ভাবনা,পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ।যার জ্বলন্ত প্রমান শিক্ষা খাতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা।মনে রাখতে হবে যে শিক্ষা খাতে সাড়া ও আশাজাগানিয়া বাজেট ও বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধির আশাজাগানিয়া উন্নতির সুফল দীর্ঘ মেয়াদে পাওয়া সম্ভব নয়।আরো মনে রাখা জরুরি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আজকের এই সময়ে দক্ষ ও সৃজনশীল জনবল অপরিহার্য।অথচ আমরা এখানেই ব্যর্থ।

আজকের বাংলাদেশে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হল জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত,নৈতিক শিক্ষায় বলিয়ান, দক্ষ, কর্মঠ,সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী চেতনার এমন মানবসম্পদ সৃষ্টি করা, যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে এদেশের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু গত দশ বছরে শিক্ষা খাতে উল্লেখ করার মত তেমন বাজেট বাড়েনি,বাড়ায়নি সরকার ।

লোক হাসানো ও লোক দেখানো টাকার অংকেই শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়াচ্ছে সরকার, আনুপাতিক হারে বাজেট তুলনা মূলক তেমন বাড়ছেনা বরং কখনো কখনো কমছে।গত দশ বছরের শিক্ষা বাজেট বিশ্লেষনে দেখা যায় 2011-2012 সালে মোট বাজেট ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ১৯৮১০ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১২.১১শতাংশ 2012-2013সালে মোট বাজেট ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২১৪১৭ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.১৭শতাংশ, 2013-2014সালে মোট বাজেট ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৫০৯৬ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.২৮শতাংশ 2014-2015সালে মোট বাজেট ছিল ২লাখ ৫০ হাজার ৫০৬কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৯২০৮ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৬৬শতাংশ, 2015-2016 সালে মোট বাজেট ছিল ২লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৩১৬০৫ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১০.৭১শতাংশ, 2016-2017 সালে মোট বাজেট ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৪৯০১২ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১৪.৩৯শতাংশ,এটিই গত দশ বছরে আনুপাতিক হারে সর্বচ্চো শিক্ষা বাজেট ।

2017-2018সালে মোট বাজেট ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ,তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৫০৪৩৩ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১২.৬৬ শতাংশ 2018-2019 সালে মোট বাজেট ছিল ৪লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৫৩০৫৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৫৩শতাংশ, 2019-2020সালে মোট বাজেট ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬১১১৮ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৭৪শতাংশ।

2020-2021সালে মোট বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬৬৪০১কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৬৯ শতাংশ।

গত বছরের বাজেট বিশ্লেষনে দেখা যায় 2019-2020 বাজেটের তুলনায় টাকার অংকেই ৫হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বেড়েছে যা আনুপাতিক হারে ০.০১ শতাংশ বেড়েছে 2018-2019 বাজেটের তুলনায় টাকার অংকেই ৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা বেড়েছে যা আনুপাতিক হারে ০.২২ শতাংশ বেড়েছে।

কিন্তু 2016-2017 অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় তা ২.৬৪ শতাংশ এবং 2017-2018 অর্থবছরের তুলনায় ০.৮৬শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে গত বছর শিক্ষা বাজেটে প্রাথমিক শিক্ষায় ২৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট শিক্ষা বাজেটের ৪০শতাংশ প্রায়,আগের বছরের বাজেটে ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ ৪২শতাংশ।মাধ্যমিক,উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে গত বছর বরাদ্দ ২৯৬২৪ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট বাজেটের ৪৮শতাংশ।যা আগের বাজেটে ছিল ২৪০০০ কোটি টাকা অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ।কারিগরি ও মাদ্রাসায় শিক্ষায় গত বছরের বরাদ্দ ৭৪৫৩ কোটি টাকা অর্থাৎ১২ শতাংশ।যা গত বাজেটে ছিল ৫৭৫৮ কোটি টাকা অর্থাৎ ১০.৮১ শতাংশ।অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসার ১২ শতাংশ বরাদ্দের মধ্যে কারিগরির জন্য ৪৪০০ কোটি টাকা অর্থাৎ ৭ শতাংশ আর মাদ্রাসার জন্য ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা অর্থাৎ ৫ শতাংশ।

বাজেটে তুলনামূলকভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসায় বরাদ্দ কম ই রাখা হয়েছে।আর মাদ্রাসার বরাদ্দতো তো সর্বনিন্ম যা মাদ্রাসার টেকসই ও মান সম্মত শিক্ষার প্রসারে প্রধান বাধা হয়েছিল সন্দেহ নাই।

তাই বলবে শিক্ষা বাজেট আনুপাতিক হারে ২০% হওয়া অতীব জরুরি।টাকার অংকে বাজেট বেশি দেখিয়ে শিক্ষক সমাজকে বিভ্রান্ত করবেন না,শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন না।বরং মোট বাজেটের আনুপাতিক হারে ২০ শতাংশ এবারের শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রেখে শিক্ষকদের কাঙ্খিত জাতীয়করন,শতভাগ উৎসব ভাতা,সন্মানজনক বাড়ি ভাড়া,উপযুক্ত চিকিৎসা ভাতা,পেনশন ভাতা সহ ন্যায্য অধিকারের লাভের পথ উন্মুক্ত করুন।

লেখক-

ফিরোজ আলম, বিভাগীয় প্রধান (অনার্স.এম.এ শাখা),আয়েশা( রা:) মহিলা কামিল(অনার্স,এম.এ) মাদ্রাসা,সদর,লক্ষীপুর।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.