লালমনিরহাট প্রতিনিধি :লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ১ নং পান বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন মন্টুর বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে দুই শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করাসহ অনিয়ম করে চার জন অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অভিভাবকদের দেয়া অভিযোগে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মন্টু বিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পরপরই বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে থাকে। তিনি অনিয়ম করে ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যসহ অন্যান্য অভিভাবক সদস্যগণকে না জানিয়ে গোপনে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের তফশিল ঘোষনা করেন। বিধিনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে জালিয়াতির মাধ্যমে চার অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করে নেন তিনি।
ওই চার অভিভাবক সদস্যের মধ্যে দুলু মিয়া পাটগ্রাম পৌর সদরে বসবাস করেন। তার মেয়ে আলজিহান প্রান্তি তৃতীয় শ্রেণি ও শাপলা বেগমের বাড়ী বিদ্যালয় ক্যাচমেন এলাকার বাহিরে এবং তার মেয়ে দিলারা জাহান দিঘী চতুর্থ শ্রেণিতে পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনে অধ্যায়নরত।
ওই দুইশিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও ১ নং পান বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে সরকার প্রদত্ত উপবৃত্তির তালিকায় নাম পাঠায়।শিক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী উপবৃত্তি পেয়ে আসছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এক বিদ্যালয়েভর্তি থাকাশিক্ষার্থী একই সাথে অন্য কোনোসরকারীবা বেসরকারী বিদ্যালয়েভর্তি থেকে লেখাপড়াকরার বিধান নেই। আর সরকারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শতকরা ৮৫% (দিন) উপস্থিত থাকলে ওই শিক্ষার্থী উপবৃত্তিপ্রাপ্তির যোগ্যহবেন।
আলজিহান প্রান্তির বাবা দুলু মিয়া তার মেয়ে পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী বলে স্বীকার করেন।
একই শিক্ষার্থী দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মন্টু বলেন, বে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনে ও ১ নং পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই দু’জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে নিয়মিত লেখা পড়া করেন। তারা দুই প্রতিষ্ঠানে আসা- যাওয়া করে। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবক কে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নির্বাচন করা যাবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও পানবাড়ী ক্লাস্টারের মেশকাত জাহান বলেন, ‘দুই স্কুলে পড়ার বিষয়ে স্বীকার করে বলেন তারা বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনে ও ১ নং পানবাড়ি সরকারি বিদ্যলয়ে পড়ছে জেনেছি। সরকারি নীতিমালায় দুই প্রতিষ্ঠানে পড়া লেখা করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘একজন শিক্ষাথী দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে লেখা-পড়া করার কোনো নিয়ম নেই। তবে অভিভাবকদের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্বে দেয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলতে বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
