কমিউনিটি ক্লিনিক পাচ্ছে ২৭ ধরনের ওষুধ

অনলাইন ডেস্ক।।

সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৮৮১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে গড়ে প্রতি বছর সাড়ে সাত কোটি রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। আর দুই কোটির বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করা হয়। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। চলতি অর্থবছর সংকট কাটাতে ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হবে।

জানা গেছে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৫তম সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার কর্তৃপক্ষের (সিবিএইচসি) একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২৭ ধরনের ৮০ হাজার ৭৩৪ কার্টন ওষুধ ক্রয় করা হবে। এতে মোট ১৩৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮২০ টাকা ব্যয় হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৩তম সভায় একটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৫তম সভা অনুমোদনের জন্য আটটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল।

ক্রয় কমিটির অনুমোদিত আটটি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ২০৫ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৪১৫ টাকা। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবটি হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ২০২০-২১ অর্থবছরে সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য উইড হারভেস্টার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন খুলনা ওয়াসা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ১২৪ কিমি সুয়ারেজ পাইপলাইন, তিনটি স্যুয়ারেজ পাম্পিং স্টেশন ও ১৩ হাজার ৮০০টি সার্ভিস কানেকশন নির্মাণকাজ চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কাছ থেকে ৬৯৬ কোটি ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৭২৭ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলা কর্তৃক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি মোট ২৬৭ কোটি ৫৭ লাখ ৫১ হাজার ১৭১ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৮ দশমিক শূন্য ১ ডলার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের একটি প্যাকেজের পূর্তকাজ ১৮৮ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৬ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক (এন-১) উন্নয়ন’ প্রকল্পের ১ নং প্যাকেজের আওতায় কক্সবাজার হতে উখিয়া ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬০ টাকার অনুমোদন, একই প্রকল্পের দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় উখিয়া হতে উনচিপ্রাং ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৮ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ‘মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রড গেজ রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের ১ নং প্যাকেজের নির্মাণকাজ ৪৩৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৯০৮ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন ও ‘মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রড গেজ রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় প্যাকেজের নির্মাণকাজ ৪৪৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৫ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.