অনলাইন ডেস্ক ||
কাফনের কাপড় পরে দলবদ্ধ হয়ে রাস্তায় শুয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী। গায়ে জড়ানো কাফনের কাপড়। তাতে লেখা, ‘হয় পরীক্ষা নাও, না হয় জীবন নাও’। সেইসাথে চলছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শ্লোগান ‘পরীক্ষা বাতিল মানি না, মানব না’ সহ নানা স্লোগান।
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বুধবার সকাল থেকেই স্থবির হয়ে পড়ে সাইন্সল্যাব, শাহবাগসহ আশেপাশের সড়ক। নীলক্ষেত মোড়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা কলেজ, ইডেনসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের বৈঠকে চলমান পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। মূলত এর প্রতিবাদে রাতেই নীলক্ষেত মোড়ে প্রথমে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা সেখানে অবস্থান নেন। এই অবস্থান কর্মসূচি চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। পরদিন (বুধবার) সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে নামে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে যোগ দেয়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া। আগামীকাল থেকেই পরীক্ষা চালু করা। এভাবে চলতে পারে না। তারা করোনার কথা বলে পরীক্ষা বন্ধ করলো। তাহলে পরীক্ষা শুরুই বা কেনো করলো। এতো শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এখন কে দেখবে?’
করোনার দীর্ঘ বিরতির পর জানুয়ারির ২৫ তারিখ থেকে ২০১৫-১৬ সেশনের পরীক্ষা শুরু হয়। আর ২০১৬-১৭ সেশনের পরীক্ষা শুরু হয় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং তারিখে। দু’টি সেশনের বেশিরভাগ পরীক্ষাই সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল খুলে দেওয়ার দাবির মধ্যেই ঘোষণা আসে এসব পরীক্ষা বন্ধের।
আন্দোলনে যোগ দেওয়া ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক বিল্লাহ বলেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে আসছি গত মাসে। নতুন করে মেসে সিট ভাড়া নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। ভাবছিলাম এবার অন্তত মুক্তি পাব। কিন্তু একটা পরীক্ষার জন্য আটকে গেলাম। সরকারের হঠকারিতায় অনেক বিপদে পড়ে গেলাম।’
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মীর রবি বলেন, ‘ঢাবি অধিভুক্ত কলেজে আমরা যারা পড়ছি তারা সবাই ফলাফল বিপর্যয় এবং যথা সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় দীর্ঘ দিন সেশন জটে ভুগছি। যা আমাদের শিক্ষা জীবনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ভেতরে ১৫-১৬ ও ১৬-১৭ সেশনের পরীক্ষা শুরু করে একদম শেষ প্রান্তে এসে স্থগিত করা হয়েছে। যা অযৌক্তিক। এটি আমরা কোনোভাবেই মানবো না। আমাদের চলমান পরীক্ষা শেষ করতে হবে এবং আগের সকল বর্ষের ইমপ্রুভ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।’
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এবিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং সাত কলেজের অধ্যক্ষদের বৈঠক থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার আভাসও দেয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
