সিইসি’র বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক ||

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি।

মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার পাশাপাশি নির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা ও অন্য ৬ মেয়র প্রার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিনের আদালতে আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ মামলা দায়ের করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

মামলার অভিযোগে মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ভোটের হিসাব চেয়ে এখনো তা পাননি তিনি। এমনকি কোনো কেন্দ্র থেকে ইভিএমের প্রিন্ট কপি দেওয়া হয়নি। তাকে নির্বাচনে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে তিনি বলেন, ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। অথচ ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ভোটের হিসাবে দেখানো হয়েছে। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রেজাউল করিম। কিন্তু আরো সাড়ে ৩ লাখ ভোট যোগ করে তাকে মেয়র বানানো হয়েছে।

নির্বাচনী মাঠে প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে দেখা রেজাউল করিম ও ডা. শাহাদাতের

মামলার বিষয়টি মামলার বাদী ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৯ জনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার ফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছি। ওই নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন বলেন, রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চসিক কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দেয়। এ থেকেই বুঝা যায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি ও ডা. শাহাদাত হোসেন কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলেন।

এদিকে, রেজাউল করিম মেয়র হিসেবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর চার দিন আগে অর্থাৎ গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তথ্য চাইতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যান ডা. শাহাদাত হোসেন।

ওই সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে নির্বাচনে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.