শেয়ারবাজারে ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন

অনলাইন ডেস্ক ||

চলতি বছরের শুরু থেকেই শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক বাড়ছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় যখন নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, তখনই পতনের ঘটনা ঘটছে। এমনটাই যেন শেয়ারবাজারের নিয়তি হয়ে গেছে। গতকালও বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। গতকাল লেনদেনে অংশ নেওয়া দুই শতাধিক কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়েছে। এতে এক দিনেই সূচক কমেছে আড়াই শতাংশ। এর আগে টানা পাঁচ কার্যদিবস পতনে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশ্য পরে গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানে আবার আশার আলো দেখতে থাকেন তারা। বিনিয়োগকারীরা মনে করেছিলেন, ১ হাজার ৮০০ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর ৩০০ পয়েন্টের মতো কমাটা ছিল বাজার সংশোধন। আর সংশোধন শেষ হয়েছে বলেও তারা মনে করছিলেন। তবে গতকাল ১৪২ পয়েন্ট পতনে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মনে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ ১৬৮ পয়েন্ট সূচক হারিয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে যখন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থা, তখন কেন এই পতন, তা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়।

পুঁজিবাজার বিশে­ষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যখন উত্থান শুরু হয়েছিল, তখন কয়েকটি কোম্পানির সবচেয়ে বেশি লেনদেন ছিল দৃশ্যমান। এখন সেগুলোর দামও তলানিতে নেমে এসেছে। মাঝে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লে এখন সেগুলোর দাম কমেছে। পতন যাতে দীর্ঘ না হয়, সেদিকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর দেওয়া উচিত। তবে সূচকের এমন পতনের মধ্যেও ভালো অবস্থানে ছিল তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর। এই খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দর বাড়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে আটটিই বিমা খাতের। বিমা খাতের দাম বাড়ার কারণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আইডিআরের নতুন প্রজ্ঞাপন। যেখানে বলা হয়, ননলাইফ বিমা কোম্পানির এজেন্টদের কোনো কমিশন দেওয়া যাবে না। এত দিন এজেন্টদের বিমার বিপরীতে ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি হারে কমিশন দেওয়া যেত। আবার বিমার উন্নয়ন কর্মকর্তাদের প্রিমিয়ামের বিপরীতেও কোনো কমিশন দেওয়া যাবে না। তাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে হলে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য যে আলাদা ব্যাংক হিসাব আছে, সেখান থেকে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে দিতে হবে। এতে কোম্পানির আয় বেড়ে যাবে এমন ধারণা থেকে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়েছেন এ খাতে।

গতকাল সবচেয়ে খারাপ দিন গেছে ব্যাংক খাতে। তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। আটটি কোম্পানির দর পালটায়নি। বাকি সবগুলোর দর কমেছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবীদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজার বেশ ভালোই যাচ্ছিল। এ সময় ১৪২ পয়েন্ট দরপতনের যৌক্তিক কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, একসঙ্গে এত বড় পতন হলে বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে পড়েন। শেয়ারবাজারে ইতিমধ্যে ভালো কিছু শেয়ার এসেছে। আরো ভালো শেয়ার না আসা পর্যন্ত বাজারের এই দোলাচল থেমে স্থির হবে না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘শেয়ারবাজারে কেন পতন তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা পুঁজিবাজারের জন্য অনেক উদ্যোগ নিচ্ছি, যার সবগুলোই পুঁজিবাজারবান্ধব। তার পরও কেন বাজারের লেনদেন বাড়ছে না তা দেখা হবে।’

শেয়ারবাজারের তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৪২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫০৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। দাম বেড়েছে মাত্র ৪৩টির। আর ৮৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৭১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.