এইমাত্র পাওয়া

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে রেড অ্যালার্ট জারি

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল যেকোনো মুহূর্তে রেড অ্যালার্ট জারি করবে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে দুদকের পক্ষে এ তথ্য জানানো হয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এদিকে পি কে হালদারের প্রতারণার শিকার সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের পরিবারসহ ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা টাকা ফিরিয়ে দিতে আদালতের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতকে দুনীতি দমন কমিশন জানায়, যেকোনো মুহূর্তে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করবে।

আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন পি কে হালদারের পিপলস লিজিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চার বিনিয়োগকারী। পরে আগামী ৫ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৯ নভেম্বর পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে সরকার ও দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পি কে হালদারকে ফেরত আনার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্বরাষ্ট্র সচিব ও দুদক সচিবকে ১০ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দুদক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছিল আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন, পি কে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান, তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।

পরে পি কে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়টি গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানানো হয়। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকেট কেটেছেন তিনি। পরে সার্বিক দিক বিবেচনার পর পি কে হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পি কে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা অবস্থায় পি কে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান, সেই বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আর দেশে ফেরেননি তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সময় গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.