নিজস্ব প্রতিবেদক।।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কাউকে ভর্তি করানো হবে না। এমনকি এ পরীক্ষায় কেউ পাশ বা ফেলও করবে না। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা কত নম্বর পেয়েছে তা শুধু জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী ভর্তি করাবে।
গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান।
তিনি বলেন, এই ভর্তি পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এলে পরীক্ষা নেয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর ধরেই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে সমন্বিত পরীক্ষার চেষ্টা করছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি।
কিন্তু বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আপত্তিতে তা সম্ভব না হওয়ায় গত বছর ইউজিসি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছ পদ্ধতিতে নেয়।
এবার মহামারির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি তোড়জোর চালালেও বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের মতো পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরই মধ্যে গত ১ ডিসেম্বর ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসে।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কমিটি গত শনিবার প্রথম সভা করে। ওই সভায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে একযোগে পরীক্ষা নেয়ারও সিদ্ধান্ত আসে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান- তিনটি গুচ্ছে ১০০ নম্বরের সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।
অধ্যাপক মীজানুর বলেন, ‘একই স্ট্যান্ডার্ডের হলেও প্রশ্ন হবে বিভিন্ন সেটে। উচ্চ মাধ্যমিকের কমন সাবজেক্টগুলো থেকেই প্রশ্ন হবে।’
এক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখায় বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, পদার্থ বিজ্ঞানে ২০, রসায়নে ২০ এবং গণিত/জীববিজ্ঞান/আইসিটি থেকে যে কোনো দুটি বিষয়ে ২০ করে মোট ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
বাণিজ্য শাখায় বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২, হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
মানবিক শাখায় বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মানদণ্ডের বিষয়ে উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের বিষয়ে একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করব আমরা। একটা নির্দিষ্ট পয়েন্ট থাকবে আবেদন যোগ্যতার।
প্রসঙ্গত, মহামারির কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবার জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল মূল্যায়ন করা হবে। এতে ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সবাই পাস করবেন। এই শিক্ষার্থীরা ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ হাজার আসনে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির যুদ্ধে নামবেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
