নিজস্ব প্রতিনিধি।।
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম দিন। প্রায় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে এই দিন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করেছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালের এই দিনেই দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে বহু বছর লালিত লাল-সবুজের পতাকা পায় বাঙালি জাতি। জাতির ইতিহাসে এ এক অনন্যসাধারণ শৌর্যবীর্য ও বীরত্বের দিন। আজ সেই স্বাধীন পতাকাপ্রাপ্তির পঞ্চাশতম বর্ষেও পা রেখেছে বাংলাদেশ।
করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে অন্যান্যবারের মতো এবারের বিজয় উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে না। তবে দেশের সর্বত্র বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ করছে জাতি। রাতের প্রথম প্রহরে আতশবাজি, গান আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্যদিয়ে দিবসটি বরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা। আগেই জানানো হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার হচ্ছে না বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ।
সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তাদের সামরিক সচিবরা এবার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধার্পণ করেছেন।
প্রথমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব। পরে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। সেইসাথে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।
এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তারপর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
এদিকে নির্বিঘ্নে মহান বিজয় দিবস পালনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করছেন সামরিক-বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মীরা। সেই সাথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সুইপিং করা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
