সন্তোষ দাস।।
করোনার মহাদুর্যোগকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সব ধরনের পরীক্ষাও স্থগিত। এ অবস্থায় সরকার শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা যাচাইয়ের জন্য বিষয়ভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট করার নির্দেশনা দেয়। কথা ছিল শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে তাদের পাঠ্যপুস্তকের সাহায্য নিয়ে নিজেরাই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করবে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্টের ধারণা একেবারে নতুন নয়।
এটা আমাদের জাতীয় কারিকুলামে আছে এবং মাঝে মাঝে কোনো কোনো স্কুলের শিক্ষকরা তাঁদের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করিয়ে থাকেন। তবে এটা সত্য—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করানো হয় না। তাই সব শিক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।
মাউশি থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিয়ম-কানুন, উপস্থাপনের রীতিনীতি শিখে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করবে। তারা কারো কাছ থেকে দেখে লিখবে না বা কোনো কিছু থেকে কপি করবে না। এটা হবে তাদের নিজস্ব চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচায়ক।
কিন্তু কিছু মানুষ আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অ্যাসাইনমেন্ট বেরুতে না বেরুতেই তার উত্তর তৈরি করে নেটে ছেড়ে দিচ্ছে! অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর এখন নেটে নেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক ফটোকপির দোকানে রীতিমত পোস্টার টানিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, ‘এখানে সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে।’ রেডিমেড জিনিস পেলে কেউ কি আর কষ্ট করতে চায়? শিক্ষার্থীদের উপকার করার নামে তাদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
যেমন এনসিটিবি থেকে কোনো শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বেরুতে না বেরুতেই বাজারে তার গাইড বেরিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা তো বটেই, অনেক শিক্ষকও সেসব গাইড অনুসরণ করেন এবং নিজেরা মাথা খাটিয়ে প্রশ্ন না করে গাইড থেকে প্রশ্ন তুলে দেন। এর অনিবার্য ফল ফলছে আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর, তাদের সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে চলা অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর তৈরি করে দিয়ে যে পণ্ডিতেরা বাহবা পেতে চাইছে অথবা নিজেদের কোচিং বাণিজ্যের প্রচার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এটা করছে, তাদের এই অপতত্পরতা বন্ধ হওয়া উচিত।
লেখক-
প্রভাষক, সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, ফকিরহাট, বাগেরহাট
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
