নিয়ামুর রশিদ শিহাব।।
প্রতিবছরের এই সময়টিতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা কয়েক গুন বেড়ে যেত। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রতিটি সেমিষ্টারের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হত। সব শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি শেষ বারের মত ঝালিয়ে নিতে সদা ব্যস্ত। পাশাপাশি অ্যাসাইমেন্ট ও ব্যবহারিক খাতা তৈরির জন্য ধুম পড়ে যেত। পরীক্ষা শেষের শীতের ছুটির জন্য অপেক্ষারত শিক্ষার্থীরা থাকতো লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ততায়। কিন্তু এ বছরে নেই কোনো কর্মচঞ্চলতা। সবাই আজ বন্দী। তাইলে কেমন কাটছে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দিনগুলো……..
কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়েই এসএসসি পাসের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। সরকারি ৪৯টি ও বেসরকারি ৫০৬টি ইনস্টিটিউটে বর্তমানে আসন রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে বিভাগ আছে ৩৪টি। কম্পিউটার, তড়িৎ (ইলেকট্রিক্যাল), যন্ত্রকৌশল (মেকানিক্যাল), পুরকৌশল (সিভিল) থেকে শুরু করে খাদ্য, পর্যটন, চিকিৎসাপ্রযুক্তি সহ এমন কোনো প্রায়োগিক বিষয় নেই, যা পলিটেকনিকে পড়ানো হয় না। তাইতো বর্তমানে ডিপ্লোমা কোর্সের প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।
করোনার কারণে মার্চ মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনার পর কেটে গেছে প্রায় ৮মাসের বেশি। বন্ধ ঘোষনার পর ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সকল শিক্ষাক্রমের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে অনেকটাই পরিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারী-জুন এক পর্বের মেয়াদ শেষ হলেও ২য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ট পর্বের পর্ব সমাপনী পরীক্ষার ব্যাপারে এখনো কোনো ধরনের ঘোষনা দেয়া হয়নি। জুলাই-ডিসেম্বরের নতুন পর্বের মেয়াদও প্রায় শেষের পথে। এতে করে সেনশনজটের আশঙ্কায় রয়েছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় বাসায় নিসঙ্গ জীবন ও পরীক্ষার কোনো নোটিশ না আসায় হতাশায় সকল শিক্ষার্থী। ডিপ্লোমা পড়ুয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্য ও নি¤œ আয়ের পরিবারের সন্তান। এসব শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ টিউশনি ও অন্যান্য কাজ করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে হয়। করোনার মহামারী কারণে কর্ম গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে শিক্ষার্থীরা। তাই অতি দ্রæত দাবীগুলো পূরণের সরকারের কাছে আবেদন করছে শিক্ষার্থীরা।
দাবীগুলো হলো- সেশনজট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হাতে-কলমে ক্লাস ছাড়া পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক নয়। অষ্টম পর্বের শিক্ষার্থীদের দ্রæত মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ও ফল প্রকাশ, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ পর্বের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দ্রæত পরীক্ষা বাস্তবায়ন, সকল পাবলিক পরীক্ষার মতো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং কারিগরি শিক্ষার মনোন্নয়নে দ্রুত যুগপোযোগী পদক্ষেপ সরকারকে নিতে হবে।
খুব শীঘ্রই পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবীগুলো ব্যাপারে আলোচনা করে ইতিবাচক ঘোষনার অপেক্ষায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী। নতুনবা অনেক পরীক্ষার্থী কারিগরী শিক্ষাকার্যক্রম থেকে অকালেই ঝরে যেতে পারে।
লেখক-
শিক্ষার্থী, বরিশাল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
