নিজস্ব প্রতিবেদক।।
এবার কুষ্টিয়ায় ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া লাবিব আলমাস নামে এক ছাত্রকে বন্ধুরা দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে। তার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে।
এ ব্যাপারে বুধবার বিকেলে হাউজিং চাঁদাগারের মাঠে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছে, কুষ্টিয়ায় কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এখনই এই অপরাধ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঘটবে বড় ধরনের দুঘর্টনা। কিশোরদের এই অপরাধ প্রবণতা কমাতে হলে পরিবারকেই শক্ত হাতে দায়িত্ব নিতে হবে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ছাত্র লাবিবের বাবা বলেন, আমার ছেলে লাবিব আলমাস কুষ্টিয়া নামকরা একটি স্কুলের ছাত্র।
সে স্কুলে অ্যাসাইমেন্ট জমা দিতে যায়। পরে তার বন্ধু অভি, রাতুলের সাথে দেখা হলে তারা আমার ছেলেকে তাদের বাসায় দাওয়াত আছে বলে জানায়। আমার ছেলে বিকালে তাদের বাসা কোর্টপাড়াতে গেলে ওখান থেকে রিকশা যোগে হাউজিং চাঁদাগার মাঠের মধ্য নিয়ে যায়।
আগে থেকেই ওকে মারার পরিকল্পনা করেছিল ওর বন্ধুরা। চাঁদাগার মাঠে পৌঁছানোর পর আমার ছেলেকে অভি ও রাতুল শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাটি দেখে এগিয়ে আসে এবং আমার ছেলেকে রিকশা করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পেয়েছে। এ ধরনের ন্যাক্কাজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের মা।
নির্যাতিত ছাত্র লাবিব আলমাস জানায়, আমি এই বন্ধুর সাথে একই স্কুলে পরতাম। স্কুলে খারাপ কাজ করায় স্কুল থেকে তাকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আমাদের কথা হয় ফেসবুকের মাধ্যমে।
আমি সকালে স্কুলে অ্যাসাইমেন্ট জমা দিতে গেলে তার সাথে দেখা হয় এবং আমাকে বিকেলে দাওয়াত আছে বলে জানায়। পরে দাওয়াত তো দূরের কথা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে তিন থেকে চার জন মিলে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্কুলছাত্রের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হয। এ ব্যাপারে তিনি জানান, লাবিব আলমাস সে আমাদের স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তাকে কি কারণে মেরেছে বিষয়টি এখনও জানতে পারি নাই। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রাহমান এ বিষয়ে জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যত বড় ক্ষমতাবান হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
