বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত হু হু করে বাড়ছে বৈশ্বিক মহামারী করোনার সংক্রমণ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে শীত মৌসুম। এই শীতের মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয় ঢেউকে সামাল দিতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নানা প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এদিকে সরকার প্রধানের নির্দেশনার পর থেকে সর্বসাধারণের মাঝে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহারে আবারো বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’-কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এই শীতকালীন সময়ে বিয়ে-পিকনিকের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোকে সীমিত বা অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে করোনা সম্পর্কে দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রস্তুতি নিলেই চলবে না, সেগুলো জনগণকে মানাতে হবে, প্রয়োজনে বাধ্য করাতে হবে।
কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, রোগী একটু বাড়তে শুরু করেছে। মাস্ক পরাসহ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেই যাচ্ছি। কিন্তু কেউ শোনে না। যার কারণে রোগী বাড়ছে।
চলতি মাসের শুরু থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এটা শীতের কারণে নাকি মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে জানতে চাইলে ডা. নজরুল বলেন, ‘এটা আরো সপ্তাহ দুয়েক না দেখলে বোঝা যাবে না। আগামী দুই সপ্তাহ এ গতিতে চলতে থাকলে আমরা বলতে পারব বোধহয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হচ্ছে।
করোনা মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণকে বাধ্য করতে হবে উল্লেখ করে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নো মাস্ক নো সার্ভিস-কে অফিসগুলোতে কার্যকর করতে হবে। দোকান মালিক সমিতি বলেছে, নো মাস্ক নো সেল, সেটা পালন করা হচ্ছে কিনা মনিটরিং করতে হবে। এগুলোকে কার্যকর করতে হবে। বিনা মাস্কে গণপরিবহনে ওঠা যাবে না- একে কার্যকর করতে হবে। আর এগুলো কেউ না মানলে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
