কোলে চড়ে শিশু কাঠগড়ায়

মারামারি সংক্রান্ত একটি মামলার প্রধান আসামি একটি শিশু কোলে চড়ে এসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত থেকে জামিন পেল। শিশুটিকে কখনও তার মা আবার কখনও অন্য আত্মীয়দের কোলে থাকতে দেখা গেছে। কাঠগড়ায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। এ ছাড়া একই মামলায় আরেক শিশুও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

গতকাল রোববার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিবাঁহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন দেন। এ মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার আজাইপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে নাদিম আলী। তার বয়স সাত বছর। এ ছাড়া ৪ নম্বর আসামি পার্শ্ববর্তী রামজীবনপুর গ্রামের আবু তালহার ছেলে সেরাজুল ইসলাম (১৩)। আদালত সেরাজুলের পিতা আবু তালহা ও নাদিমের মা আলেয়া বেগমকেও জামিন দেন। পরে বাদী-বিবাদী পক্ষের সমঝোতা হলে বিকেলে বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন।

জানা গেছে, আলেয়া বেগম তার স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বছর খানেক আগে চড়া সুদে একই এলাকার গোলাম রসুলের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। সে টাকা দিতে বিলম্ব হলে এর আগে ঋণদাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় টাকা প্রদানের মাধ্যমে আপসের শর্তে আসামিরা জামিন লাভ করেন। পরে আলেয়া বেগম এক লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও গোলাম রসুল তাতে সন্তুষ্ট হননি। তার দাবি সুদসহ দেড় লাখ টাকা। এর জেরেই নাদিমদের বিরুদ্ধে তিনি আবারও মামলা করেন।

আলেয়া বেগম জানান, এক লাখ টাকা ধার নেওয়ার কিছুদিন পরই গোলাম রসুল দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তার কোলের শিশুসহ চারজনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জোবদুল হক জানান, জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী শিশু দুটির বয়স ১৮ বছরের নিচে হলেও তা গোপন করে অসৎ উদ্দেশ্যে গোলাম রসুল মিথ্যা মামলা করেন। আদালত বিষয়টি অবগত হয়ে তাৎক্ষণিক সব আসামিকে জামিন দিয়েছেন। তবে গোলাম রসুল দাবি করেন, ভুলবশত শিশুদের আসামি করা হয়েছে। তিনি আসামিদের সঙ্গে বসে মীমাংসা করে নিয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.