নিউজ ডেস্ক।।
“কর্মকর্তা ও কর্মচারী (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯১” এর তফসিলভুক্ত পদসমূহে [পেশাগত, অপেশাগত (কারিগরী বা সাধারণ) কিংবা ফিডার ও নন-ফিডার] বিধি-৩ এর মাধ্যমে সরাসরি ও পদোন্নতি এ উভয় পদ্ধতিতে নিয়োগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর অনুচ্ছেদ ৫ এ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে এর উপ-অনুচ্ছেদ ২টিতে বলা হয়েছে যে,
” (১) এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত বোর্ড বা নির্বাচন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোন পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা হইবে।
(২) যদি কোন ব্যক্তির চাকুরীর বৃত্তান্ত সন্তোষজনক না হয় তাহা হইলে তিনি কোন পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হইবেন না।”
এর অনুচ্ছেদ ৬ এর বিভিন্ন উপ-অনুচ্ছেদে শিক্ষানবিসি বিষয়ে বলা হয়েছে যে,
“(১) স্থায়ী কোন শুন্য কোন পদে নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত ব্যক্তিকে শিক্ষনবিসি স্তরে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, নিয়োগের তারিখ হতে দুই বৎসরের জন্য এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে এইরূপ নিয়োগের তারিখ হইতে এক বৎসরের জন্য নিয়োগ করা হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া শিক্ষানবিসির মেয়াদ এইরূপ সম্প্রসারণ করিতে পারেন যাহাতে বর্ধিত মেয়াদ সর্ব-সাকুল্যে দুই বৎসরের অধিক না হয়।
(২) যে ক্ষেত্রে কোন শিক্ষানবিসের শিক্ষনবিশির মেয়াদ চলাকালে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে, তাহার আচরণ ও কর্ম সন্তোষজনক নহে, কিংবা তাহার কর্মক্ষম হয়ার সম্ভবনা নাই সে ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ-
(ক) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, শিক্ষানবিসের চাকরীর অবসান ঘটাইতে পারিবেন;
(খ) পদোন্নতির ক্ষেত্র, তাহাকে যে পদ হইতে পদোন্নতি দেওয়া হইয়াছিল সেই পদে প্রত্যাবর্তন করাইতে পারিবেন।
(৩) শিক্ষনবিসির মেয়াদ, বর্দ্ধিত মেয়াদ থাকিলে তাহাসহ সম্পুর্ণ হওয়ার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ –
(ক) যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিক্ষানবিসির মেয়াদ চলাকালে কোন শিক্ষনবিসের আচরণ ও কর্ম সন্তষজনক ছিল, তাহা হইলে উপ-বিধি ৪ এর বিধান সাপেক্ষে, তাহাকে চাকুরীতে স্থায়ী করিবেন; এবং
(খ) যদি মনে করেন যে, উক্ত মেয়াদ চলাকালে শিক্ষনবিসের আচরণ ও কর্ম সন্তষজনক ছিল না, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ-
(অ) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, শিক্ষানবিসের চাকরীর অবসান ঘটাইতে পারিবেন;
(আ) পদোন্নতির ক্ষেত্র, তাহাকে যে পদ হইতে পদোন্নতি দেওয়া হইয়াছিল সেই পদে প্রত্যাবর্তন করাইতে পারিবেন।
(৪) কোন শিক্ষনবিসিকে কোন পদে স্থায়ী করা হইবে না যতক্ষণ না সরকারী আদেশ বলে সময়ে সময়ে যে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় সেই পরীক্ষায় তিনি পাস করেন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।”
নিয়োগ বিধির অনুচ্ছেদ ৬ এর উপর্যুক্ত উপ-অনুচ্ছেদ ৪টি হতে এটি স্পষ্ট যে, নিয়োগের শর্ত প্রতিপালন, শিক্ষনবিসের আচরণ ও কর্ম সন্তষজনক না হলে ও সরকারি আদেশ বলে সময়ে সময়ে যে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় সেই পরীক্ষায় পাস করা ব্যতিত চাকরিতে কারোরই স্থায়ী হওয়ার কোন অবকাশ নেই। কর্তৃপক্ষ কারও নিয়োগ বাতিল কিংবা পদোন্নতির পদ হতে পূর্ববর্তী পদে প্রত্যাবর্তন করাতে পারেন।
২। পেশার প্রারম্ভিক পদে সরাসরি নিয়োগঃ
কেবলমাত্র পেশার প্রারম্ভিক পেশাগত ডিগ্রী অর্জন সাপেক্ষেই কোন পেশার পেশাজীবি হওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পেশাগত পদে আবেদন ও নিয়োগ লাভের সুযোগ পাওয়া যায়। এটি হলো এ শ্রেণির পদে নিয়োগের সাধারণ প্রক্রিয়া, কিন্তু এ সাধারণ প্রক্রিয়া অবলম্বনে আমাদের দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় সময়ই পাওয়া যায় না। কারণ এ পেশাতে ঢুকার পুর্বে আমাদের দেশে এ পেশাগত সনদ অর্জনের প্রবনতা খুবই কম, এ কারণে এ দেশে এ পর্যায়ে এ পেশার প্রারম্ভিক পেশাগত সনদ (Initial Professional degree) বিএড/ বিপিএড/ ডিপ-ইন-এড ধারী জনবল প্রয়োজনের তুলনায় শুধু কমই নয়, খুবই নগন্য সংখক। তাই সনদসহ নিয়োগের এ সাধারণ/স্বাভাবিক প্রক্রিয়া শিথীল করে এর পাশাপাশি নিয়োগের ৫ বছরের মধ্যে উক্ত পেশাগত ডিগ্রী অর্জনের শর্তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের এ পেশার প্রারম্ভিক পদে নিয়োগের বিশেষ/ব্যতিক্রমী বিধানও নিয়োগ বিধিতে রাখা হয়েছে। এ বিশেষ/ ব্যতিক্রমী বিধানে নিয়োগপ্রাপ্তদের তাই নিয়োগ নিরবিচ্ছিন্ন, বিধিসম্মত বা বলবৎ রাখতে উক্ত শর্তাধীন সময়ের মধ্যে এ পেশার প্রারম্ভিক পেশাগত সনদ অর্জন করা শুধু প্রয়োজনীয়ই নয়, অত্যাবশ্যক (Mandatory) বটে। কারণ পেশার প্রারম্ভিক পেশাগত সনদ বিহীন অবস্থায় কোন পেশার পেশাজীবি হওয়া যায় না। তাই এ শর্তাধীনে ব্যতিক্রমী নিয়োগের এ শিথীলতা ও সনদ বিহীন কর্মকাল, শর্ত ভঙ্গকারীদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতায় (পেশাগত কর্মকাল হিসাবে) বিবেচিত হওয়ার বিধিগত কোন সুযোগ নেই বলেই মনে হয়।
৩। পদোন্নতি সিঁড়ি বা Career path:
ক) এক শ্রেণির কোন পদ যেমন অন্য কোন শ্রেণির কোন পদের Career path-এ ঢোকার বা ফিডার পদ হওয়ার আইনানুগ কোন সুযোগ নেই, তেমনি এক শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতায় সৃষ্ট কোন পদ হতে আরেক শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতায় সৃষ্ট কোন পদের Career path-এ ঢোকার বা ফিডার পদ হওয়ার আইনানুগ কোন সুযোগ নেই। পদোন্নতি পাওয়ার আইন সিদ্ধ অধিকার থাকে শুধু তার পদোন্নতি সিঁড়ি বা Career path-এর অব্যবহিত নিম্ন সোপানে অন্তর্ভুক্ত স্ব স্ব শ্রেণির পদ/পদসমূহে কর্মরতদের তথা তার ফিডার পদ/পদসমূহের পদাধিকারীদের, পদোন্নতি সিঁড়ি/Career path/ ফিডার বহির্ভুত (Non-feeder) কোন পদের পদাধিকারীদের নয়। এক সার্ভিস/ক্যাডার হতে যেমন অন্য সার্ভিস/ক্যাডারের কোন পদে পদোন্নতি লাভের বিধিগত কোন সুযোগ নেই, তেমনি এক শ্রেণি বা শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতার কোন পদ হতে অন্য শ্রেণি বা শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতার কোন পদে পদোন্নতি লাভেরও আইনানুগ কোন সুযোগ নেই। এক কথায় একই শ্রেণি কিংবা শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতায় সৃষ্ট একাধিক পদ একই পদোন্নতি সিঁড়ি/Career path-এ একই সঙ্গে থাকতে পারলেও ভিন্ন শ্রেণি কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারার নিয়োগ যোগ্যতায় সৃষ্ট একাধিক পদ কোন অবস্থাতেই এক সঙ্গে একই পদোন্নতি সিঁড়ি/Career path-এ থাকতে পারে না।
এ কারণে পেশাগত পদের পদাধিকারী/পেশাজীবিদের (Professional) মধ্য হতে সংশ্লিষ্ট পেশার উচ্চতর পদে পদোন্নতির আইনানুগ অধিকার বা সুযোগ থাকে, অপেশাদার (Non-professional) বা অন্য পেশাজীবিদের পদের পদাধিকারীদের নয়। এ কারণে মাদ্রাসার সহকারী সুপারিটেন্ডেন্ট পদে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার শিক্ষক/শিক্ষিকা বা প্রভাষকদের, কারিগরী/ ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ পদে কারিগরী শিক্ষা ধারার প্রভাষক(টেক)দের, মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে উক্ত পেশার পেশাগত ডিগ্রী এমবিবিএস ধারী ডাক্তারদের পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও এদের পাশাপাশি এ সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাধারণ শিক্ষা ধারার যথাক্রমে প্রভাষক(বাংলা, ইংরেজি), প্রভাষক(নন-টেক) ও প্রভাষক(রসায়ন, জীববিজ্ঞান)দের ঐ সকল পদে পদোন্নতির কোন সুযোগ রাখা বা অধিকার দেয়া যায়নি।
খ) পেশাগত ডিগ্রী/ডিপ্লোমা বিহীন কোন পদ যেখানে কোন পেশার প্রবেশ/প্রারম্ভিক পদই হতে পারে না, সেখানে তার কোন উচ্চতর পদ বা উচ্চতর কোন পদের ফিডার পদ হবার প্রশ্নই উঠে না। তাই এ পেশাগত ডিগ্রী বিহীন কোন পদ একই (১০ম) গ্রেডের হলেও এ পেশার প্রবেশ/ প্রারম্ভিক বা অন্য কোন উচ্চতর পেশাগত পদের (Professional Post) ফিডার পদ হওয়ার বা Career path-এ ঢোকার কোন অবকাশ নেই। এ কারণে পেশাগত ডিগ্রী বিহীন নিয়োগ যোগ্যতায় থাকা অবস্থায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক ও কামিল পাস ধর্মীয় শিক্ষকগণ কোন অবস্থাতেই যথাক্রমে ১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পূর্বে সহকারী প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা নামীয় পেশাগত পদের ফিডার পদ তো দূরের কথা এ পেশার প্রবেশ/প্রারম্ভিক পদই হতে পারেনি এবং এ ২টি পদ ফিডার পদ ছিলও না।
গ) নিয়োগ যোগ্যতায় পেশাগত ডিগ্রী (বিএড, বিপিএড, ডিপ-ইন-এড ইত্যাদি) থাকলে সেটি এ পেশার পেশাগত পদ, আর না থাকলে অপেশাগত পদ এবং এ পেশার কোন পেশাগত পদে অপেশাগত পদ ১.সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা (টেকনিক্যাল), ২. হেড মৌলভী, ৩.ট্রেড শিক্ষক/ শিক্ষিকা, ৪.সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা (কৃষি) ইত্যাদি পদ হতে পদোন্নতি লাভের কোন প্রশ্নই ওঠে না। তবে এ পদগুলোর মধ্যে যেগুলো ইতোমধ্যে পেশাগত পদে রূপান্তরিত হয়েছে, সে পদসমূহের পদাধিকারীগণ তাদের স্ব স্ব পদের পেশাগত পদে রূপান্তরের তারিখ তথা পদের নিয়োগ যোগ্যতায় পেশাগত ডিগ্রী বিএড, বিপিএড, ডিপ-ইন-এড ইত্যাদি সংযোজনের তারিখ হতে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতি পেতে পারে।
এ ব্যাপারে আপনার কোন পরামর্শ বা দ্বিমত থাকলে তা প্রমাণসহ গঠনমুলক সমালোচনার মাধ্যমে উপস্থাপন করুন যাতে এখানে কোন ভুল থাকলে তা শুধরে নিতে পারি। করোনায় ঘরে থাকুন, সুস্থ্ থাকুন। ধন্যবাদ
লেখক-
মঈন উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক, বাসমাশিস।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
