নিজস্ব প্রতিনিধি।।
একদিকে টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথমবার আড়াইশ পেরোনো দলীয় ইনিংস, যার মধ্যে একটি প্রায় সেঞ্চুরিসহ তিনটি ভালোমানের ব্যক্তিগত ইনিংস; অন্যদিকে ১৩১ রানের বিশাল হার, অভিজ্ঞ সব ক্রিকেটার ফ্লপ আরও একবার- মিরপুরে গতকাল নাজমুল একাদশ বনাম মাহমুদুল্লাহ একাদশের ম্যাচে পাওয়া গেছে এমনই বৈপরীত্যময় অর্জন-আক্ষেপের খেলা। ম্যাচের প্রতিরূপ বলা যায় আফিফ হোসেনের ইনিংসটিকে। লিস্ট-এ ক্রিকেটে কখনও ৯৭ পেরোতে পারেননি এই বাঁহাতি; বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ‘লিস্ট-এ’ নয়, তবু জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ৯৮ রানে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে ম্যাচ-হাইলাইটসের মতো তার সর্বোচ্চ রানের অর্জনেও আছে আক্ষেপের গল্প। মাত্র ২ রানের জন্য যে সেঞ্চুরিটা পেলেন না!
তবে আফিফের ইনিংসটি বৃথা যায়নি। তার দল মাহমুদুল্লাহ একাদশকে হারিয়ে ফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। গতকাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে আফিফরা ব্যাট করেছেন প্রথমে। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতায় এদিনও নাজমুল একাদশের টপঅর্ডার রান পায়নি। আফিফ যখন পাঁচ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে নামেন, ততক্ষণে ৩১ রানের মধ্যে আউট হয়ে গেছেন সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও পারভেজ হোসেন ইমন। দলের বিপর্যয়ের ওই সময়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়েন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মুশফিক ধাক্কা সামাল দিতে ব্যাট চালান খুব ধীরেসুস্থে। আফিফই মূলত রান বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হন। নবম ওভারে যাত্রা করা জুটিটি যখন ৩৯তম ওভারে ভাঙে, তার মাঝে দু’জনে মিলে দলের স্কোরবোর্ডে ১৪৭ রান জোগাড় করে ফেলেন।
এর মধ্যে ৯৮ রানই আফিফের। ১০৮ বল খেলা ইনিংসে ১২ চারের সঙ্গে ছিল মাহমুদুল্লাহকে উড়িয়ে মারা একটি ছক্কাও। সেঞ্চুরি যখন হাতের নাগালে, তখন আউট হয়েছেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। মুশফিকের সঙ্গে রান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে কাটা পড়েন রানআউটে। তবে তার সেঞ্চুরি-ছুঁই ইনিংসটিই ভিত গড়ে দেয় চ্যালেঞ্জিং দলীয় স্কোরের। ১৭৮ রানের মাথায় আফিফ আর এক ওভার পর ৫২ রান করে মুশফিক আউট হয়ে গেলেও পঞ্চাশ ওভারশেষে ২৬৪ রান জোগাড় করে ফেলে নাজমুল একাদশ। ষষ্ঠ উইকেটে তৌহিদ হৃদয় আর ইরফান শুক্কুরের জুটিই আরও ৭০ রান যোগ করে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ইরফান ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪৮ রান, তৌহিদের সংগ্রহ ২৯ বলে ২৭। রানতাড়ায় ওভারপ্রতি পাঁচের বেশি রানের লক্ষ্য শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে মাহমুদুল্লাহ একাদশ।
১১ বলে ৪ রান করে চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস। একপ্রান্তে লিটন খেলছিলেন ভালোই। তবে নাসুম আহমেদ বোলিংয়ে আসতেই এলবিতে কাটা পড়েন তিনি। প্রথমবার খেলতে নামা বাঁহাতি এই স্পিনার এরপর মাহমুদুল্লাহর দল ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই ভেঙে দেন। তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়কে শান্তর ক্যাচ বানানোর পর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহকেও ফেরান এলবিতে। মাঝে ৩২ বলে ১৩ রান মুমিনুলকে আবু জায়েদ রাহি উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানালে ৭৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় মাহমুদুল্লাহর দল। এরপর সাব্বির রহমান, নুরুল হাসান সোহান কেবল নাজমুল একাদশের জয়ই বিলম্বিত করতে পেরেছেন, তবে লড়াই করতে পারেননি। রিশাদ হোসেন শেষদিকে রাকিবুল হাসান ও সুমন খানকে তুলে নিলে ১৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় মাহমুদুল্লাহর দলের ইনিংস।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
