মাছটির সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনের লক্ষ্যে গত দশক থেকে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন- অভয়াশ্রম স্থাপন, জাটকা মাছ সংরক্ষণ, কারেন্ট জাল নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি। এছাড়া, মাছটি যাতে ঠিকমতো প্রজনন করতে পারে সে জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশের উন্মুক্ত জলাশয়ে ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, যা আগে ১১-১৫ দিন ছিল। আশ্বিন ও কার্তিক মাসের বড় পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় (অক্টোবর – নভেম্বর) ইলিশ মাছ বেশি ডিম দেয় ও প্রজনন করে বলে এই সময়টা নির্ধারণ করা হয়। এ বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর, মোট ২২দিন বাংলাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সরকার নির্ধারিত সময়ে ইলিশ মাছ যদি আমরা না কিনি ও না খাই তাহলে এ মাছের বাজারে চাহিদা থাকবে না এবং মাছ বিক্রিও হবে না। ফলে এই নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে ইলিশ মাছ ধরতে জেলেরা নিরুৎসাহিত হবে। যদি বিশেষ কারণে কারও কারও এ সময় ইলিশ মাছ খেতেই হয় তাহলে নিষিদ্ধ সময়ের আগে কিনে রাখতে পারেন।
এক সময় মনে হতো, পহেলা বৈশাখ উদযাপন ইলিশ ছাড়া চলবে না। কিন্তু গত কয়েক বছর নানান প্রচারণার ফলে এ সময় মানুষ আর আগের মতো ইলিশ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন না। একইভাবে সঙ্গবদ্ধ প্রচারণা চালালে ও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে ইলিশের এই প্রজনন মৌসুমে মানুষ এটি কেনা থেকে বিরত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এই প্রচার কাজ ও সচেতনতা সৃষ্টির একটি স্লোগান হতে পারে ‘তিন সপ্তাহ না খেলে, সারা বছর ইলিশ মেলে’।
অধ্যাপক মো মনিরুল ইসলাম
মৎস্যবিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শেয়ার করুন এই পোস্ট
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Print (Opens in new window) Print
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
