এইমাত্র পাওয়া

পূরণ হতে চলেছে আঁখির স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক :

জাতিসংঘের রিয়েল লাইফ হিরো হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আঁখির স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এবং তার স্ত্রী সারমিন সালাম। তারা আঁখির হাতে তুলে দিয়েছেন সেলাই মেশিনসহ পোশাক কারখানার বিভিন্ন মূল্যবান মেশিনারিজ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রূপসা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আঁখির হাতে এসব উপহার তুলে দেওয়া হয়। এই যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮টি বিদ্যুৎচালিত অত্যাধুনিক সেলাই মেশিন (জাকি), ৫টি পা-চালিত বাটার ফ্লাই সেলাই মেশিনসহ প্রায় পনের লাখ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান সারমিন সালাম। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী। উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী জানান, আঁখিকে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা তৈরির অংশ হিসেবে এসব যন্ত্রাংশ দেওয়া হলো। এ যন্ত্রাংশগুলো দিয়ে আঁখি একটি পোশাক কারখানা শুরু করতে পারবেন। তার জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। জমি পেলেই তিনি সেখানে ঘর বানিয়ে আঁখির জন্য পোশাক কারখানা তৈরি করে দিবেন। আঁখি যেন এই অত্যাধুনিক সেলাই মেশিনগুলো ব্যবহার করতে পারেন তার জন্য তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করবেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আঁখি তার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়িতে পা রাখতে পেরে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও তার স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের রিয়েল লাইফ হিরো হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর আঁখি সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এবং তার স্ত্রী সারমিন সালামকে তার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। আঁখি তাদেরকে বলেছিলেন, তিনি একটি গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তুলতে চান, যে কারখানায় তার মত অসহায় নারীরা কাজ করবেন। সে মোতাবেক তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এবং তার স্ত্রী সারমিন সালাম।

জানা গেছে, মার্চ মাসের দিকে করোনাভাইরাস যখন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরছিল তখন দেশে মাস্কের সংকট দেখা দেয়, বাজারে চড়া দামে মাস্ক বিক্রি হতে থাকে। সে সময় কিশোরী আঁখি তার সেলাই মেশিন দিয়ে মাস্ক তৈরি করা শুরু করেন এবং কম দামে এলাকার লোকজনের কাছে বিক্রি করেন। সহায় সম্বলহীন অনেক মানুষকে তিনি বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করে মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা গড়ে তোলেন। তার এই উদ্যোগ ওয়ার্ল্ড ভিশন নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয় যা জাতিসংঘের নজরে আসে। তারই ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় সংস্থা (ইউএনওসিএইচএ) গত ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে আঁখিকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

ভূমিহীন ভাসমান আঁখির বাবা মাসুদ মোল্লা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন, সেখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন এবং শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পরেন। আখির মা আনোয়ারা বেগমও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন কিন্তু তার একার রোজগারে সংসার চালান অসম্ভব হয়ে উঠে। আঁখি তখন মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেছে, সে মাকে সাহায্য করার জন্য তার বড় বোনের সঙ্গে একটা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজে যোগ দেন ফলে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

দু’বছর আগে ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত জীবনের জন্য প্রকল্প আঁখিকে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থেকে উদ্ধার করে স্কুলে ভর্তি করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আঁখির বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় কোন স্কুলে তাকে ভর্তি করানো যায়নি। ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত জীবনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে আঁখি যেন তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন তার জন্য ঐ প্রকল্প হতে তাকে একটি সেলাই মেশিন ও কিছু থান কাপড় দেওয়া হয়। আঁখি ঘরে বসেই এলাকার লোকজনের পোশাক সেলাই করে তাদের ৪ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব নেয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.