নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এই রিজার্ভের অংশবিশেষ কাজ হারিয়ে দেশে ফেরা কর্মীদের কর্মসংস্থানে ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার বা ৩৮.৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতো বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতে কখনো ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এই রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২০ দিনে ১৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগের বছরের পুরো আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই মাসে ২৬০ কোটি এবং জুন মাসে ১৮৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি আসে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও রেমিট্যান্সে একই প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। এক অর্থবছরে এটিই দেশে আসা সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়েছিল। ওই সময়ে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।। সেই হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স বেড়েছে।
এছাড়া করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে গত জুলাই মাস থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানিও। এ মাসে ৩৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৯১ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের জুলাই মাসের রপ্তানির চেয়েও বেশি।
করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাতিল ও স্থগিত হওয়া পোশাক খাতের বহু ক্রয়াদেশ আবারো ফিরতে শুরু করেছে। এতে রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
