চালু থাকুক প্রাথমিক মেধাবৃত্তি

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।।

ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনি পরীক্ষা করোনার কারণে এ বছরের জন্য বাতিল হয়ে গেছে। এ সংক্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিয়েছেন। এর বদলে স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নিতে বলেছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সমাপনির বিকল্প নির্ধারণ হলেও বাতিল হয়ে গেছে বছর বছর ধরে চলে আসা প্রাথমিক মেধাবৃত্তি। আগেও স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হতো। তবে প্রতি স্কুল থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী উপজেলার একটি কেন্দ্রে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেতো। এবার সেটিও বাদ গেছে।

প্রাথমিক মেধাবৃত্তির কারণে বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী (যেখানে গরিব ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও থাকতো) পরবর্তী তিনটি ক্লাসে (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম) সুযোগসুবিধা নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারতো। থাকতোনা আর্থিক কোন ধরণের সমস্যা। যা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশি উপকারে আসতো। এখন তারা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো। বিকল্প কিছু চিন্তা না করে হুট করে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো বোধগম্য হচ্ছেনা। যদিও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর কথা বলার কোন সুযোগ নেই।

যেহেতু প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেহেতু নূন্যতম সংখ্যক বৃত্তিও প্রদান করা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। অথবা উপজেলা পর্যায়ে প্রতি স্কুল থেকে কমপক্ষে ৫% শিক্ষার্থী নিয়ে একবেলা সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা যায় কিনা বিবেচনার অনুরোধ রইল। আমাদের দেশের কত অর্থকড়ি কতদিকে চলে যায়। সে প্রেক্ষিতে কিছু মেধাবি ও গরিব শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ দিতে পারলে সেটাই বা কম কিসে। পাশাপাশি বৃত্তির ধারাবাহিকতাটাও থাকলো। ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করাটা ঠিক হবেনা। ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটা মনে করছি।

মূল্যায়নের পাশাপাশি অন্য কোন বিকল্প কিছু চিন্তা করা যেতে পারে যার মাধ্যমে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা যায়।
মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। বাড়ায় স্পৃহা। যা পরবর্তী জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রভাব থাকে সুদুরপ্রসারি। এবার করোনার কারনেই সমাপনির সাথে মেধাবৃত্তিও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে আমি মনে করি মেধাবৃত্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা দুটোই অটুট থাকবে। এবার যারা এ বৃত্তি পাবেনা তাদের মাঝে হতাশা ভর করতে পারে। যেহেতু ব্যাপক আয়োজনের তেমন প্রয়োজন পড়বেনা সেহেতু মেধাবৃত্তির প্রক্রিয়াটা এবছরও বহাল রাখার জন্য বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এমনিতে সমাপনি পরীক্ষা না হওয়ায় অনেকের এতদিনের প্রস্তুতি ফলপ্রসূ হলোনা।

সমাপনি পরীক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিপরীতে তেমন কোন সমালোচনা শোনা যায়নি। সে হিসেবে অন্যান্য বছর বৃহৎ পরিসরে হলেও এবার অন্ততপক্ষে নূন্যতম প্রস্তুতি সাপেক্ষে মেধাবৃত্তি দেওয়াই যেতে পারে। সম্মানীত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি এ বিষয়টি সদয় বিবেচনার অনুরোধ জানাই। বহাল থাকুক প্রাথমিক মেধাবৃত্তি। এই মহামারী কাটিয়ে উঠে সকল শিক্ষার্থী আবার আগের ন্যায় ফিরে যাক নিজের বিদ্যালয়ে। তাদের কলকাকলিতে ভরে উঠুক দেশের সকল শিক্ষাঙ্গন।

★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.