ড.ডি. এম. ফিরোজ শাহ :
প্রিয় পৃথিবী,
শুভেচ্ছা,অভিনন্দন ও ভালোবাসা নিও। আশা করি ভালো আছো।
তুমি ভালো থাকলে ও তোমাতে বসবাসকারী প্রাণীকূলের মধ্যে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ নামে খ্যাত মানুষ ভালো নেই জানি। আর এই ভালো না থাকার পিছনে আমাকে অর্থাৎ ‘করোনা ভাইরাসকে’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যার নামকরণ করেছে ‘কোভিড-১৯’ দায়ী করা হচ্ছে, । তবে আমার আর্বিভাব নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা, তর্ক-বিতর্ক, অভিযোগ। ধর্মপ্রাণ মানুষের সাধারণ আবেগ থেকে সিদ্ধান্ত হলো যে, এটা তাদের (মানুষের) পাপের ফল, আল্লাহর গজব/অভিশাপ,এটা মুসলমানদের কোন ক্ষতি করবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমার জন্ম/উৎপত্তি ও বিকাশ চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে। কারো মতে উহানের সামুদ্রিক মৎস্য বাজার থেকে, কারো মতে জীবন্ত বন্য প্রাণী বেচাকেনার বাজার থেকে এবং কারও মতে উহানের জীবানু গবেষণাগার হতে। যাই হউক, চীনের উহান শহরে আমার জন্ম এটা সবাই মেনে নিয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, চীনা পণ্যের মতোই আমি হবো কমজোরি,ক্ষণস্থায়ী ও কম ক্ষতিকর।
চীন তার কঠোরতা নীতি প্রয়োগ করে অল্প সময়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তাদের ঘোষণা মতে, উহানে ৪৭০০ জন মানুষ মারা গেছে এবং অন্যকোন শহরে এটা ছড়ায়নি। কিন্তু লেজেগোবরে অবস্থা হয় ইউরোপীয় দেশগুলোর। শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে, প্রকৌশল,যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো বিশ্বের সামনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে উলঙ্গ হয়ে পড়ে। ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন,যুক্তরাজ্য, জার্মানী একেবারে কাহিল। ওদিকে আটলান্টিকের পশ্চিমপাড়ের দেশ মহাশক্তিশালী আমেরিকার প্রগলভ প্রেসিডেন্ট মি. ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন করোনা ভাইরাস তার দেশের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এর ফল হলো আজ (৬ জুন ২০২০) আমেরিকায় মৃত্যু সংখ্যা সর্বাধিক এবং লক্ষাধিক (১,১০,০০০)।
কেন এমন হলো তা কী ভেবেছে তোমাতে বসবাসকারী মনূষ্যকূল?
স্বপ্লের পৃথিবী,প্রিয়তমা আমার,
আমাকে ভুল না বুঝে তোমাতে বসবাসকারী মানুষকে বলো আত্ন-উপলব্ধি করতে। পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন-‘আর তোমরা যুদ্ধ করো আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে; অবশ্য বাড়াবাড়ি কর না। নিশ্চয় ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না (সুরা আল-বাকারা, আয়াত-১৯০)।’
একুশ শতকে লক্ষ করো, মানুষ কোন সীমা মেনেছে?-জন্মের সীমা/ভালোবাসার সীমা/অধিকারের সীমা/অত্যাচারের সীমা/লোভের ও লাভের সীমা/হিংসার সীমা/প্রকৃতিকে ধ্বংস করার সীমা?
তারা নিজেদের মত সীমা বানাবে আর তা লঙ্ঘন করবে, প্রকৃতি প্রদত্ত কোন সীমারেখা ও ন্যায়-নীতি মানবেনা এটা তো হতে পারে না।
মনীষী জীন জ্যাক রূঁশো একটা দারুন কথা বলেছেন- ‘Everything is good when it is comes from the hands of God. But it is degenerated by the hands of man.’
প্রকৃতির কোন জায়গায় মানুষ হাত দেয়নি বলো? এ বিশ্বে উদ্ভিদ-প্রাণী মিলে প্রায় ১৮,০০০ মাখলুকাত, মানুষ এদের মধ্যে সেরা। সবার সেরা হবার অর্থ সবার নেতা হয়ে সবাইকে নিয়ে বাঁচা। কিন্তু মানুষ করছে কী? তারা সব খাচ্ছে-সর্বভূক। পেটে খাচ্ছে, লোভে খাচ্ছে, আরামে খাচ্ছে, সব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাচ্ছে। সব কিছুই তাদের পদানত থাকবে, এমনকি তাদের নিজেদের প্রজাতিও!
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বায়ুদুষণ সবোর্চ মাত্রায়, শব্দদুষণে কান-মাথা-হার্টের রোগ বাড়ছে,নদীদূষণে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির শংকায়, কলকারখানার বর্জ্যে মাটি দুষিত হয়ে চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। বন্য প্রাণী ও পাখি শিকার, সমুদ্রের অতল থেকে মৎস্য আহরণ, ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে তেল-গ্যাস-সোনা-তামা-দস্তা সহ আন্যান্য ধাতব পদার্থ উত্তোলন, উত্তর-দক্ষিণ সমুদ্র থেকে তিমি শিকার-কী বাদ রেখেছে মানুষ? শত শত প্রজাতির মাছ, পাখি, বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী বয়ে যাচ্ছে আলোর বন্যা, বহু শহরে রাত বলে কিছু নেই। তো প্রকৃতির ভারসাম্য থাকবে? আলোর বন্যায় ঝিঁঝিঁ পোকাসহ অনেক কীটপতঙ্গ নেই। রাতচরা প্রাণীরা বিলুপ্ত খাদ্যের অভাবে। অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রাত না থাকায়। পবিত্র কোরানে আল্লাহ বলেছেন-
‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরন স্বরুপ এবং বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন নিদ্রা,আর দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।‘ ( সুরা ফুরকান, আয়াত- ৪৭)
মানুষের অত্যাচারে এন্টার্কটিকার বরফ গলে, হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে,ফলে সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে উপকূলীয় অনেক এলাকা। কানাডা থেকে অস্টেলিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাচ্ছে বন-ঘরবাড়ি, বাড়ছে সামুদ্রিক ঝড়-মানুষ কী এসব নিয়ে ভাবছে?
প্রখ্যাত ব্রিটিশ কবি জন মিল্টন (১৬০৮-১৬৭৪) বলেছেন-‘দূষিও না প্রকৃতিকে, সে সেধেছে তার ভূমিকা, পালন করো হে তুমি দায়িত্ব তোমার।’
প্রিয়তমাসু ধরিত্রী বন্ধু মোর,
গত ৬ মাসে ( ডিসেম্বর ২০১৯-মে ২০২০) করোনায় বিশ্বে ৩৭৫,০০০ জন মানুষ মারা গেছে (৩১/০৫/২০২০)। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার (৭৫০ কোটি) এটা হয়তো খুব বেশি নয় কিন্তু আমি জানি প্রতিজন মানুষের জীবন অতন্ত্য মূল্যবান। কিন্তু মানুষ যখন হিংসা-লোভ আর স্বার্থের কারণে একে অন্যকে হত্যা করে তখন তো তাদের ভিতর এতো প্রতিক্রিয়া হয় না? বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক যুদ্ধের শেষ নেই, এর মধ্যে শতবর্ষী যুদ্ধও রয়েছে। এ পর্যন্ত বৈশ্বিক যুদ্ধ হয়েছে ২টি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মানুষ মারা গেছে ১৫-২২ মিলিয়ন এবং আহত হয়েছে ১৮ মিলিয়ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানুষ মারা যায় ৬০ মিলিয়ন বা ছয় কোটি। যুদ্ধ এখনও থামেনি। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েট-আফগান যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, উপসাগ্রীয় যুদ্ধ (ইরাক বনাম বাকী বিশ্ব),সিরিয়া,লেবানন, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া,শ্রীলংকার গেরিলা যুদ্ধ,ফিলিপাইন,মালি,আইভরিকোষ্ট, কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীন যুদ্ধ- যুদ্ধের যেন শেষ নেই!
ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির সময়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কত লক্ষ মানুষ মারা গেছে? ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সময়ে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। তাহলে? এত প্রাণ কারা নিল, কেন নিল? কেন ঝরলো এত রক্ত?
মায়ানমার একটি বৌদ্ধ রাষ্ট্র এবং ধর্মীয়ভাবে তারা জীব হত্যা মহাপাপ বলে মনে করে। সেই তারাই ১৯৭৮ সাল থেকে আরাকানের মুসলমানদের গৃহচ্যুত করতে থাকে। ২০১৭ সালে ধর্ষণ-হত্যা করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নারীকে এবং ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে গৃহচ্যুত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় যারা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কোথায় মানুষের মনুষ্যত্ব, মানবিকতা,বিচার-বিবেকবোধ, নীতি-আদর্শ আর পাপের ভয়? শুধুই স্বার্থ-ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক,রাষ্ট্রীয়,আঞ্চলিক,ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত।
প্রতিনিয়ত জ্ঞানের কথা বলে পাপের কাজই করে যাছে মানুষ। ভারতীয় একজন প্রখ্যাত নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর মানুষের ধর্ম প্রবন্ধে লিখেছেন-‘মানুষ তো সবার ঘরে জন্মায়, কিন্তু মনুষ্যত্ব সবার ঘরে জন্মায় না।‘ বিশ্বে প্রতিদিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কমছে মনুষ্যত্ব। সত্যি সেলুকাস! কী বিচিত্র এই পৃথিবী!
প্রিয় অবনী, বন্ধু মোর,
মানুষ মানুষকে হত্যা, নির্মূল ও ধ্বংস করতে কতশত অস্ত্র তৈরি করেছে তার নাম কী তুমি জান? আকাশে, পানিতে, মাটিতে সর্বত্রই মানুষ মারার প্রতিযোগিতা। কী সাংঘাতিক জিঘাংসা! একটি পারমানবিক বোমা নিমিষে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারে এবং তার জেরও থাকে বহুবছর। নিশিতে চালকবিহীন ড্রোন থেকে গুলি/বোমা মেরে হত্যা করা যায় প্রতিপক্ষকে,শত্রুকে। আচ্ছা মানুষ কী মানুষের শত্রু হতে পারে, না হওয়া উচিত? যে মানুষ খারাপ কাজ করবে তারা শাস্তি পাবে, এটাই তো হবার কথা! কিন্তু বিশ্বে কী হচ্ছে আজ?
শক্তিশালী কিছু দেশ অস্ত্র পরীক্ষা, বিক্রি ও অন্যদের ভয় দেখানোর জন্য যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা তৈরি করছে। কোন দেশকে আক্রমণ করার জন্য নানা অজুহাত ও মিথ্যা অভিযোগ আনছে। এসবের মূল কথা হলো অস্ত্র বিক্রি। কোথাও তারা উভয়পক্ষকে সাহায্যের নামে দুপক্ষের নিকটই অস্ত্র বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান কেন অস্ত্র কিনবে? কার সাথে এরা যুদ্ধ করবে, যুদ্ধ করে কি জিতবে? অথচ প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যাপক ও অজ্ঞাত। এ বাজেট স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতের চেয়ে অনেক বেশি। এ সকল দেশ স্বাস্থ্য-শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বাদ দিয়ে কেনও যুদ্ধাস্ত্র কিনবে? একটি মিগ-২৯ বা বি-৪২ বোমারু বিমান-এর টাকায় শ’খানেক মানসপন্ন প্রাইমারি স্কুল বানানো সম্ভব, একটি আধুনিক হাসপাতাল বানানো সম্ভব। অধিক জনসংখ্যার দেশে এ সব গুরুত্বপূর্ন খাত বাদ দিয়ে কেন অস্ত্রবাজী?
বিশ্বে সৌদি আরব একটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশ। মুসলমানদের দুটি পবিত্র স্থান মক্কা ও মদীনা শরীফ সেখানে অবস্থিত। তার চারপাশের ছোট মুসলিম দেশগুলো তার অনুগত। তাহলে কে তার সাথে যুদ্ধ করবে? পারস্য উপসাগরের ওপারের দেশ ইরানকে তার প্রতিদ্বন্দী বানিয়ে সেখানে শুরু হয়েছে অস্ত্র বিক্রির খেলা। কাতারকে বিচ্ছিন্ন করে এখন দুই দেশেই চলছে মারনাস্ত্র বিক্রি। এই পাতান খেলা দেখেও কেউ শিক্ষা নিচ্ছে না। অথচ এই সৌদি আরবকে দিয়েই প্রতিবেশি দরিদ্র ইয়েমেনে হামলা করা হয়েছে,অপরাধ সেখানে ইরান সমর্থিত সরকার ক্ষমতার এসেছে জনগনের ভোটে। বাঘ লড়াই শুরু করেছে মুরগীর সাথে!
আর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ? আহ যুদ্ধরে! এখানে কে কার সাথে যুদ্ধ করে আর কে কাকে মারে তা কেউ জানেনা। আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া,তুরস্ক, ইরান সবাই এখানে যুদ্ধ করছে। গত ১০ বছর যুদ্ধ চললেও কেউ বিজয়ী হয়নি, কিন্তু দিনশেষে রাতেঁর আধারে যারা মারা যাচ্ছে তারা সকলেই সিরিয়ান-নারী,পুরুষ,শিশু। মনে আছে সিরিয়ান সেই শিশুটির কথা? বোমার আঘাতে রক্তাক্ত দেহে মৃত্যু মুখে যে বলেছিল-‘ আমি আল্লাহকে সব বলে দেব (I will tell God everything)’।
পৃথিবীর মানুষ আর কত মানুষকে হত্যা করলে তারা শান্ত হবে, সভ্য হয়ে ছেড়ে দিবে এ হত্যালীলা? পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ আমেরিকা যে গত ৭৫ বছরে (১৯৪৫-২০২০) একাই হত্যা করেছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি মানুষকে। ভাবা যায়? মানুষ কথায় কথায় বাঘ-সিংহ-সাপকে হিংস্র প্রাণী বলে। এসকল প্রাণী কতজন মানুষ হত্যা করেছে? তারা কী শহরে এসে মানুষকে হত্যা করেছে না মানুষ ওদের আস্তানায় গিয়ে নিহত হয়েছে? আবার বাঘ-সিংহ-সাপ কী স্বজাতি কে হত্যা করেছে, বাঘ কী হরিণ শিকার করে ফ্রিজে রেখে দিয়েছে? এরা শিকার করে খাদ্যের জন্য, এটা হত্যা নয়। প্রকৃতি এভাবেই খাদ্য শৃঙ্খল তৈরি করেছে। হিংস্র প্রাণীও স্বজাতিকে হত্যা করে না, মানুষ যেটা করে অবলীলায়।
সুপ্রিয় উর্বী,
তোমাদের পৃথিবির একজন ধনী মানুষ বিল গেটস ২০১৫ সালে ট্রেডএক্স এর এক বক্তৃতায় বলেছেন-‘ আগামী কয়েক দশকে কোন কারণে যদি লাখ লাখ মানুষ মারা পড়ে, তবে কারণটি মোটেও কোন যুদ্ধ হবে না; মানুষ মারা পড়বে ভীষণ সংক্রামণক কোন ভাইরাসের আক্রমণে, মানুষ মিসাইলের আঘাতে প্রাণ হারাবে না, প্রাণ যাবে ক্ষূদ্র জীবানুতে। এর কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো, আমরা পারমানবিক প্রতিরোধক তৈরিতে বিপুল পরিমান বিনিয়োগ করছি,অথচ একটি মহামারী ঠেকানোর সিস্টেমের বেলায় সত্যিকার অর্থে আমাদের বিনিয়োগ সামান্যই। আমরা পরবর্তী মহামারির জন্য মোটেও প্রস্তত নই।‘
বাংলাদেশের একজন প্রকৃতিবাদী রোমান্টিক কবি জীবনানন্দ দাস বহু বছর আগে (৭৫ বছর) মহামারী নিয়ে শঙ্খচিল নামে একটি চমৎকার কবিতা লিখেছেন-
‘ আমাদের দেখা হোক মহামারী শেষে,
আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে।
আমাদের দেখা হোক জীবানু ঘুমালে,
আমাদের দেখা হোক সবুজ সকালে।
আমাদের দেখা হোক কান্নার ওপারে,
আমাদের দেখা হোক সুখের শহরে।
আমাদের দেখা হোক হাতের তালুতে,
আমাদের দেখা হোক ভোরের আলোতে।
আমাদের দেখা হোক বিজ্ঞান জিতলে,
আমাদের দেখা হোক মৃত্যু হেরে গেলে।
আমাদের দেখা হোক আগের মত করে,
আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে…’
কী দূরদর্শি ভবিষ্যত বাণী? কেউ কী শুনেছে এদের কথা? গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কত কিছু করা যেত! পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ তার সম্পদ জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে পারতো, তাহলে আজ কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে কাদঁতে হতনা, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলতেন না , আমাদের প্রচেষ্ঠা শেষ, এখন সমাধান আকাশে (অর্থাৎ ঈশ্বরের হাতে), আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অহংকারের বলি হতো না লক্ষাধিক মানুষ।
করোনা ভাইরাসের আগে আরো অনেক ভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসেছে, এগুলো জানান দিয়েছে, বড় বিপদ আসছে, কিন্তু মানুষ তাকে পাত্তা দেয়নি। ২০০১ সালে এনথাক্স, ২০০২ সালে ওয়েস্ট নীল ভাইরাস, ২০০৩ সালে সার্স (SARS) ২০০৫ সালে বার্ড ফ্লু,২০০৬ সালে ইকোলি (Ecoli), ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু, ২০১৪ সালে ইবোলা এবং ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এসেছে। ভূবিজ্ঞানীরা বলেন, যখন কোন এলাকায় বারবার মৃদু ভূ-কম্পন হয়, তখন মনে করতে হবে সেখানে বড় কোন ভূমিকম্প হতে পারে। করোনা ভাইরাস আসার আগে গত ২০ বছর ধরে ছোট ছোট ভাইরাস এসে জানান দিয়েছে, বড় ভাইরাস আসছে, প্রস্তত হও, কিন্তু মানুষ তাকে আমলে নেয়নি। এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে।
ওহে সুধাময়ী ধরিত্রী,
পৃথিবীতে মানে তোমাতে বসবাসকারি মানুষের মধ্যে এ পর্যন্ত যত রোগ,যুদ্ধ, হানাহানি এসেছে/হয়েছে, তাদের মধ্যে একমাত্র আমি করোনাই সাম্যবাদী ও নিরপেক্ষ।
আমি ধর্ম ও বর্ণ নিরপেক্ষ;
আমি দেশ-অঞ্চল-ভূগোল নিরপেক্ষ;
আমি ধনী-দরিদ্র-ছোট-বড়-নারী-পুরুষ-অর্থনীতি নিরপেক্ষ;
আমি সমতলে-পাহাড়ে-নদীতে-সাগরে-খনিতে বিদ্যমান অর্থাৎ আমি স্থান নিরপেক্ষ।
বলো, আমার আগে কোন ভাইরাস এসেছিল কিনা যেটি একই সাথে হোয়াইট হাউস থেকে ক্রেমলিন, ১০ নং ডাউনিং স্টিট থেকে নেসেট-মজলিশে শূরা, সৌদি রাজপরিবারের অন্দর মহল-সকল স্থানে আক্রমণ করেছে? বাংলাদেশের ভানচলক, মসজিদের ইমাম, ডাক্তার, পুলিশ, অধ্যাপক,শীর্ষ ব্যবসায়ী কেউই করোনার থাবা থেকে বাদ যায়নি। আমি ইসলামি,হিন্দু, খ্রিস্টান,বৌদ্ধ, ইহুদী, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাউকে ছাড়িনি। ধনী দেশ, বড় দেশ, ক্ষূদ্র দেশ, দ্বীপ দেশ, বিশাল প্রমোদতরী থেকে দ্বীপসম যুদ্ধজাহাজ কোনটিই আমার কাছ থেকে কোন বাড়তি সুবিধা পায়নি। পৃথিবীর অন্য কোন রোগের ক্ষেত্রে এমন সাম্যবাদী বা সমতার নীতি কেউ পূর্বে দেখেনি।
আমার বাহক মানুষ। মানুষকে আমি মানুষ হিসেবে দেখছি- কে রাজপুত্র আর কে ঘুটে কুড়ানি তা বিবেচনা করিনি। এখানেই আমার অনন্যতা,আমার অসাধারানত্ব এবং আমি ‘নভেল করোনা বা কোভিড-১৯’।
আমি ভৌগোলিক কোন সীমা মানিনি,মহাদেশ-মহাসাগরের কোন সীমা দিয়ে আমাকে বন্দি করা যায়নি, তাপমাত্রাকেও (নিম্নতাপমাত্রা বা অধিক তাপমাত্রা) কোন পরিমাপক বা নিয়ন্ত্রক বানানো যায়নি। তবে হাঁ, কেউ কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে,আমার ভয়াবহতাকে তারা বুদ্ধি দিয়ে,কৌশল করে,নিয়ম মেনে সফল হয়েছে। এদের মধ্যে সেরাদের সেরা হলো ভিয়েতনাম। ‘এস’ আকৃতির দেশটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার লম্বা। তারা পেরেছে কারন সরকার ছিল দূরদর্শী-তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জনগণ কে উদ্বুদ্ধ করেছে, জনগণ অকুন্ঠভাবে সরকারকে সহযোগিতা করায় ভিয়েতনামে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা শূন্য। এরপর যারা সফল হয়েছে তারা হলো- তাইওয়ান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড,অস্টেলিয়া, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশ। অনেক দেশের নেতারা কথা দ্বারা করোনা মোকাবেলার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়েছে। ‘হার্ডটক থিওরি’ করোনা মোকাবেলায় মোটেও কার্যকর নয়।
ওহে ভুবনমোহিনী,
আমার অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ৬মাস পার হলো ()। যে পৃথিবীর মানুষ দিন-ঘন্টা-মিনিট নয়- সেকেন্ড হিসেব করে চলে সেই মানুষ আজ ৬ মাস ঘরে বন্দি,স্থবির জীবন ও কর্ম-এও সম্ভব? আসলে পৃথিবীতে সবই সম্ভব। পরিস্থিতি বাধ্য করলে মানুষ সবই করতে পারে।
আমি করোনা, পৃথিবীতে থাকবো কী থাকবো না, বা কতদিন থাকবো তা নির্ভর করে মানুষের নীতি, সুঅভ্যাস ও আচরণের উপর। আমরা কারণে কি কি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সেটাই সবে বড় করে দেখছে কিন্তু গত ৬ মাসে আমি পৃথিবীর জন্য কতটা ভালো কাজ করেছি তাও মানুষের বিবেচনায় নেয়া উচিত। ক্ষতি ও প্রাপ্তির হিসাব মিলালে দেখা যাবে, প্রকৃতি-পরিবেশের উন্নয়নে মানুষ যা পেয়েছে তার আর্থিক মূল্য অন্যান্য আর্থিক মূল্যের চেয়ে বেশি ছাড়া কম নয়।
একজন মিশরীয় প্রাক্তণ সাংসদ করোনাকালীন প্রাপ্তীর একট তালিকা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস একটি আর্শিবাদ। করোনা ভাইরাসকে ঘৃণা করবেন না। এই করোনা ভাইরাস- ‘মানবতা ফিরিয়ে এনেছে,মানুষকে তাদের স্রষ্টার কাছে ও তাদের নৈতিকতায় ফিরিয়ে এনেছে; বার, নাইটক্লাব, পতিতালয়, ক্যাসিনো বন্ধ করে দিয়েছে; সুদের হারকে কমিয়ে এনেছে; ঘুষ নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে; পরিবারের সদস্যদের একসাথে নিয়ে এসেছে; অশ্লীল আচরণ বন্ধ করেছে; মৃত ও নিষিদ্ধ প্রাণী খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে; সামরিক ব্যয়ের এক তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যসেবায় স্থানান্তরিত হয়েছে; আরবদেশগুলো শিশা নিষিদ্ধ করেছে; মানুষকে প্রার্থনা করতে বাধ্য করেছে; স্বৈরশাসক ও তাদের ক্ষমতাকে তুচ্ছ করেছ; মানুষ উন্নত ও প্রযুক্তির চেয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করেছে; কতৃপক্ষকে কারাগার ও বন্দিদের দিকে নজর দিতে বাধ্য করেছে; মানুষকে শিখিয়েছে কিভাবে হাঁচি,কাশি দিতে হয়, হাত ধুঁতে হয়; করোনা ভাইরাস আমাদের ঘরে সময় কাটানো, সহজ জীবন-যাপন করা, অহেতুক প্রতিযোগিতা না করতে শিখিয়েছে। একই সাথে আমাদের চেতনা জাগ্রত করার জন্য এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও সাহায্য প্রার্থনা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা খোদাকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। যারা জ্ঞানী তাদের এতে একটি দুর্দান্ত মূল্যবান শিক্ষা রয়েছে।‘
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় যে কথাগুলো বলেছেন তা আজও প্রাসঙ্গিক। বিশ্ববাসী এ বানী থেকে প্রেরণা নিতে পারে। তিনি বলেন-
‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন বেদন
আসছে নবীন জীবন হারা অসুন্দরের করতে ছেদন।
ঐ ভাঙ্গা গড়া খেলা যে তার কীসের তবে ডর?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখির ঝড়।’
এরপরও কি পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ কিছু শিখবে না?
প্রিয় পৃথিবী, আশার আলো,
তোমাকে এবার একটি দেশের কথা বলি,দক্ষিণ এশিয়ার ছোট এ দেশটির আয়তন ১৪৮৫৬০ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১৭-১৮ কোটি, প্রতি কিলোমিটারে জনঘনত্ব ১১২০ জন,পানি ও নদী দুষণ, শব্দ দুষণ, বায়ু দুষণ, মাটি দুষণ-প্রকৃতির সকল উপাদান দুষণে জর্জরিত দেশটি। কিন্তু করোনার পর গত ৬ মাসে পরিবেশের প্রত্যেকটি উপাদানের উন্নতি ঘটেছে। মানব ও যান চলাচল কমায়, কলকারখানা বন্ধ থাকায় হাসি ফুটেছে প্রকৃতিতে। রাজধানী ঢাকার নিকট তুরাগ নদীতে ৩০ বছর পর শুশুক দেখা গেছে, ২০ বছর পর বোশেখের বৃষ্টির শেষে পুকুরে সোনা ব্যাঙ ডেকেছে, কক্সবাজার সৈকতের বালুতে লাল কাঁকড়ার দল দৌড়াচ্ছে, বালিয়াড়িতে ফুটেছে হরেক রকম ফুল, সমুদ্রে লাফাচ্ছে ডলফিন, দেশের প্রত্যেকটি নদীর পানির মান ভাল হয়েছে, বায়ু ও শব্দ দুষণ কমেছে, ধূলিকণা মুক্ত হয়ে গাছের পাতা সবুজ হয়েছে এবং সাধারণ অনেক রোগ কমে গেছে। এবার উপরোক্ত উপাদানকে যদি অর্থে রূপান্তর করো কত টাকা হবে এর মূল্যমান? পিতামাতার কর্মগত ব্যস্ততার কারণে যে শিশু জন্মের পর তাদের স্নেহ-আদর পায়নি, তারা এসময় তা পেয়েছে পূর্ণরুপে, তার মূল্য কত? প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কাটানো সুখসময়ের ঘন্টা মূল্য কত? এরুপ বহু বিষয়কে সামনে আনা যায় যা তোমার ধৈর্য্যচুতি ঘটাবে বলে বললাম না।
করোনার সবচেয়ে বড় পাওনা মানুষের আত্ন-উপলদ্ধি (Self-Realization)। পৃথিবীতে সে কেন এসেছে, তার দ্বায়িত্ব কি ছিল, অর্পিত দ্বায়িত্ব সে কতটুকু পালন করেছে, কতটুকু পারেনি, কেন তা পারেনি, আর কী করা যেত, সামনে আর কি কী করা যাবে- এরুপ নানা বিষয় তাদের মাথায় এসেছে। এগুলো অনেকে কাজে লাগাবে, কেউ হয়ত কিছুই করবে না।
পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত মানুষ থাকবে, করোনা মানুষের জন্য একটি বার্তা,তারা এটি গ্রহণ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিলে সেটিই হবে সকলের জন্য কল্যাণকর। আর এ মহামারীকে আমলে না নিলে তা হবে আত্নঘাতি। কারণ আমি অর্থাৎ করোনাই পৃথিবীর শেষ ভাইরাস নই- আরো ভয়ংকর ভাইরাস আসতে পারে।
মানুষ করোনার টিকা তৈরি করে একে নিয়ন্ত্রণ করবে যেমন করেছে অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে কিন্তু পৃথিবী থেকে রোগ বা ভাইরাস নির্মূল হয়নি, হবেও না। একটা ভাইরাস মানুষ নিয়ন্ত্রণ করবে, এন্টিজেন-এন্টিবডি তৈরি করবে, জেরোম সিকোয়েন্স করবে কিন্তু অন্যরুপে আরেকটা চলে আসবে।
অতীব কষ্টের বিষয় হলো, মানুষ নিজেদের ভালো করার টিকা আবিস্কার করছে না যেটি মানুষকে দিলে সে কোন অন্যায় করবে না, মিথ্যা কথা বলবে না, ঘুষ খাবে না, লোভী হবে না,ধর্ষণ করবে না। নিজেদের পরিবর্তনের টিকা আবিস্কার ও সেটি নিজেদের উপর প্রয়োগ করেই মানুষ ভালো থাকতে পারে।
পরিশেষে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৃক্ষরোপন সপ্তাহ উদ্বোধনকালে পরিবেশ নিয়ে যে কথাটি বলেছেন তা পৃথিবীর সকল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন-‘ আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য। বঙ্গোপসাগরের যে সুন্দরবনটা রয়েছে এতাই হলো বেরিয়ার। এটা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে একদিন খুলনা,নরিশাল,পটুয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ,এ পর্যন্ত এরিয়া সমুদ্রের মধ্যে চলে যাবে এবং এগুলো সন্দীপের মত আইল্যান্ড হয়ে যাবে। একবার যদি সুন্দরবন শেষ হয়ে যায়- তো সমুদ্র যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করবে সেই ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার উপায় আর নাই ( ১৬ জুলাই ১৯৭২)।’
ধন্যবাদ প্রিয় পৃথিবী, ভালো থাকো, অনেক ভালো।
ইতি-
তোমারই
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)
৬ জুন ২০২০
লেখক:
ড.ডি. এম. ফিরোজ শাহ
সহযোগী অধ্যাপক
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
