নিউজ ডেস্ক ।।
তিন দশক আগে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করা ৬০০ পরিবারকে আশ্রয়ণকেন্দ্রে পুনর্বাসন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত ২০টি ভবনের উদ্বোধন করেন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের মাঝে এসব ভবনের চাবি হস্তান্তর করেন।
খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পকে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণকেন্দ্র উল্লেখ করে প্রকল্পের উপকারভোগীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা এতদিন যেভাবে কষ্টের মধ্যে ছিলেন তা আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। এখন থেকে আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। মনে রাখবেন আজকে যে ঘরবাড়িগুলো করে দেয়া হলো এটা আপনাদের নিজেদেরই। সেভাবে যত্ন নিয়ে ব্যবহার করবেন। সুন্দরভাবে যাতে থাকে সেদিকে দেখবেন।
প্রথম ধাপে উদ্বোধন হওয়া ভবনগুলোতে ফ্ল্যাট পেয়েছে ৬০০টি পরিবার। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম ধাপে নির্মিত পাঁচতলা ২০টি ভবনসহ মোট ১৩৯টি ভবন নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট। সব ভবন নির্মিত হলে উদ্বাস্তু জীবনের অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ ছেড়ে সাজানো পরিপাটি দালানে উঠবে মোট প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবার। ১০০১ টাকা নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডারের সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত ২০টি ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে নদীর কূল ধরে সবুজ বেষ্টনী করে দেয়া হবে, যেন কোনো রকম ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়। আপনারাও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করবেন। পুকুর কেটে দেয়া হয়েছে। জীবন-জীবিকার সুযোগও আমরা সৃষ্টি করে দেব। সেভাবেই সবাইকে পুনর্বাসন করতে চাই। খুরুশকুলে আলাদা একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠবে। সময় পেলে খুরুশকুল দেখতে যাব। শুঁটকি-ভর্তা দিয়ে ভাত খাব।
সারা দেশে গৃহহীনদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু এখানে না, সারা বাংলাদেশেই আমরা গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি, তেমনি যাদের জমি বা ভিটা আছে কিন্তু ঘর নেই তাদের ঘর করে দিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদের ঘর করে দেয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা তহবিল করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে যেকোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে।
বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমরা কিন্তু সব পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটা মানুষকে আমি যেভাবে পারি, গরিবানা হালে হলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেব।
পর্যটন শহর কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার আমাদের পর্যটক এলাকা। কক্সবাজার সৈকতে বিশাল ঝাউবন জাতির পিতার নির্দেশেই করা হয়েছিল, যেন প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস থেকে কক্সবাজার শহরটা রক্ষা করা যায়। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই ।
তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্রসৈকতটা সারা বিশ্বের মধ্যে সব থেকে দীর্ঘ। এত সুন্দর, এত দীর্ঘ বালুময় সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। এত চমত্কার এই সৈকত যেন দেশের মানুষ এবং বিশ্ববাসী উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিই। বিমানবন্দরটাকে এমনভাবে উন্নত করতে চাই, যাতে সারা বিশ্ব থেকে অনেকে আসতে পারে, যত বড় বিশাল বিমান হোক যেন নামতে পারবে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এতদিন বস্তির ঝুপড়ি ঘরে কষ্টের জীবন শেষে দালানে উঠতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। এই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উপকারভোগীরা।
গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। তিনি একটি সংক্ষিপ্ত পটভূমি তুলে ধরেন। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। উদ্বোধন শেষে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এরপর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিনজন উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন। গণভবন প্রান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকল্প এলাকার একটি স্মারক প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন সেনাপ্রধান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
