আয়ারল্যান্ড লিমারিক সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশী আজাদ তালুকদার

বিন-ই-আমিনঃ

আয়ারল্যান্ডের লিমারিক শহরের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন গাজীপুরের কৃতি সন্তান আবুল কালাম আজাদ তালুকদার।  তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ২৭৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে মুল আয়ারল্যান্ডের বাহিরে ইমিগ্রান্টপ্রাপ্ত । মুসলিম অথবা ইমিগ্রান্টদের মধ্য আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে বাংলাদেশী ব্যক্তি হিসেবে সততা,নিষ্ঠা,কর্মদক্ষতার গুনে মুল আইরিশ রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরী করেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের ফরেন মিনিস্টারের চাচাতো ভাইকে পরাজিত করে সেদেশের ইতিহাসে প্রথম নন ইমিগ্রান্ট হিসেবে কান্ট্রি  কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়ে মাত্র এক বছরের কর্মদক্ষতায় ফিনাফল দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বনে যান। তার এ সাফল্যের জন্য তিনি আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ ফিনাফল দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ৩০ জুন তাকে ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ পড়ান মেয়র মাইকেল কলিন্স।
শিক্ষাবার্তা ডটকমকে তিনি আরো জানান,আমার এ বিজয় আমাকে আরো বেশি ভালো কাজে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আমি মুল আয়ারল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশীদের নিয়েও কাজ করতে চাই। আমি চাই আমাকে দেখে বাংলাদেশীরা আরো এগিয়ে আসুক। বাংলাদেশ কমিউনিটির সুনাম বিস্তার লাভ করুক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃত্ব প্রসারিত হোক।          বাংলাদেশ আমার মায়ের মতো আর আয়ারল্যান্ড আমার সন্তান।
আমি আমার সন্তানের জন্য সম্ভব সব কিছু করবো। আমি চাই বাংলাদেশী তরুন ও শিক্ষিতরা আয়ারল্যান্ডের উন্নয়নে অবদান রাখবে। ডেপুটি মেয়র হিসেবে বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য কি কাজ করবেন জানতে চাইলে,জনাব আজাদ বলেন আয়ারল্যান্ডের মুসলিমদের জন্য সতন্ত্র কবরস্থান নির্মানের জন্য ৫০ হাজার ইউরোর তহবিল গঠন করেছি।তবে এ কাজটি সহজে করা সম্ভব হয়নি ।
তিনি যখন প্রস্তাবটি তুলেন তখন অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। পরে তার মেধা,বুদ্ধি,কর্মদক্ষতা ও আত্নবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে দ্বিমত পোষণকারী সকলকে তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে রাজি করাতে সম্মত হন। একটি অমুসলিম দেশে মুসলমানদের জন্য মূল শহরে জায়গা ও তহবিল সংগ্রহের মতো কঠিন কাজটি তিনি সফলভাবে শুরু করেন। তহবিল সংগ্রহ ও বাকি কাজ সম্পন্ন করতে আয়ারল্যান্ড প্রবাসী  বাংলাদেশীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
 আজাদ তালুকদার ২০০০ খ্রি.জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান আয়ারল্যান্ডে। ওয়ার্ক পারমিটে বারম্যান হিসেবে যেই শহরে কাজ শুরু করেন,আজ তিনি সেই শহরের পিতা। তার ২ ভাইও আয়ারল্যান্ড প্রবাসী। ২০০৪ খ্রি.স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে তার সততা,কর্মস্পৃহা,কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্নবিশ্বাসী মনোভাবের কারনে তিনি আজ আয়ারল্যান্ডের ডেপুটি মেয়র। তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন বলে জানান।
এছাড়াও সকল কাউন্সিলে ইন্ট্রিগ্রেশন অফিসার নিয়োগ করে প্রবাসী ডিপার্টমেন্ট তৈরীর আশা ব্যক্ত করেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য বাংলাদেশী হিসেবে এবং “শিক্ষাবার্তা ডটকম” পত্রিকার পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনা রহিল। তার এই ঐতিহাসিক সাফল্যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষাবার্তা ডট কম পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান। আত্নপ্রত্যয়ী এ তরুন নিজের কর্মদক্ষতায় মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন, এ প্রত্যাশা আমাদের।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.