কেউ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়ি, আবার কেউ গিয়েছিলেন সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই। ছুটি আর বাড়েনি, কাল থেকে খুলবে অফিস-আদালত। তাই এখন এক প্রকার লড়াই করেই ঢাকায় ফিরছেন সবাই।
গত কয়েক দিনের মতো গতকালও রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে ছিল ঢাকামুখী যাত্রীর ভিড়। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। দেখা গেছে, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহনে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আমাদের মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নৌযান বন্ধ থাকায় ফেরিতে নদী পার হতে কেউ কেউ মধ্য রাত থেকেই ফেরি ঘাটে অপেক্ষা করছেন। ক্ষমতার তুলনায় যাত্রী বেশি থাকায় প্রচন্ড ভিড় হচ্ছে ঘাটগুলোতে। অধিকাংশ যাত্রীই সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মাদারীপুর : গতকাল ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার ঢাকামুখী মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছেন। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় একমাত্র নৌযান হিসেবে ফেরিতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি ফেরিগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার অব্যাহত রয়েছে। দেখা গেছে, যাত্রীচাপে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির জানান, ঘাট এলাকায় যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যাত্রীরা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফেরিতে ওঠেন, আমরা সে চেষ্টা করছি।
বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুল আলিম বলেন, ঘাটে ১৭টি ফেরির সবই সচল রয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মানুষের ভিড় বেড়েছে। গতকাল ভোর থেকেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাট হয়ে ঈদ শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরা মানুষের প্রচুর চাপ দেখা গেছে। আবার শিমুলিয়া ঘাট হয়ে ফেরি দিয়ে ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গে যাওয়ার মানুষের চাপও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ম্যানেজার মো. ফয়সাল জানান, গতকাল ভোর থেকে ঢাকায় কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে আসা মানুষের প্রচন্ড চাপ রয়েছে। ঘাট দিয়ে লঞ্চ ও সি বোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। মানুষের পাশাপাশি ছোট গাড়ি ও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ রয়েছে।
রাজবাড়ী : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উপেক্ষা করে ঈদ উদযাপন শেষে গতকাল সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। দৌলতদিয়া প্রান্তের বিভিন্ন ফেরিঘাটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত মানুষ ভিড় করেন ফেরিতে নদী পার হতে। গণপরিবহন না থাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রীদের দৌলতদিয়া প্রান্তে আসতে হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সাতটি ফেরি চলাচল করলেও গতকাল সকাল থেকে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকার কারণে নয়টি ফেরি চলাচল করছে। মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষের চাপ বেড়েছে। ঢাকাগামী এসব মানুষ সকাল থেকেই কর্মস্থল ঢাকার দিকে ছুটছেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার লোকজনের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম হলো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ। গতকাল দুপুরে পাটুরিয়া এলাকায় দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা যাওয়ার জন্য যানবাহনের অপেক্ষা করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ট্রাকে করে ঢাকার দিকে ছুটেছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে যানবাহনে চলাচল করছেন যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, ফেরির কোনো সংকট নেই। দুটি ঘাট বন্ধ থাকলেও যানবাহন পারাপারে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এ নৌ-রুট দিয়ে জরুরি কাঁচামালবাহী ট্রাক, লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রী পারাপার হচ্ছে। এই নৌরুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে ৯টি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
