নিউজ ডেস্ক।।
ক্ষুদ্র এক ভাইরাস আমাদের পৃথিবীর গতি হঠাৎ এভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে, তা ছিল কল্পনার বাইরে। পৃথিবীতে দেখা দেওয়া মহামারী ‘করোনা’ শুধু স্বাস্থ্য নিয়েই ভাবাচ্ছে না, ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের জীবনের বৈচিত্র্য নিয়ে। পরিবর্তন করে দিয়েছে জীবনযাত্রার পথ। পৃথিবীর আগামী কর্মপরিকল্পনা, ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের ধরন।
সেই পুরোনো ধ্যান-ধারণার শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয় এখন আর নেই। এখন ঘরে বসে মোবাইলে বা কম্পিউটারেই হয়ে যাচ্ছে একটি ক্লাসরুম, এক সাথে অনেকগুলো ক্লাসরুম নিয়ে তৈরি করা যায় অনলাইন বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীরাও যে ক্লাসে ভালো লাগে সেই ক্লাসেও প্রবেশ করতে পারে খুব সহজে। একটি মোবাইল বা কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে অনেক এডুকেশনাল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনি তৈরি করতে পারেন অনলাইন বিদ্যালয়। জুম তেমনই একটি চমৎকার ওয়েবসাইট। জুম ওয়েবসাইট বিনা মূল্যে ব্যবহার করে একজন শিক্ষক একসাথে ১০০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে পারেন। উত্তর আমেরিকায় জুমের মাধ্যমেই চলছে ক্লাস।
টিচিং টুলস: লার্নিং এনভায়রনমেন্ট নিশ্চিত হলে এখন আসি টিচিং টুলস নিয়ে। মোবাইল, কম্পিউটার থাকলেই শিক্ষার্থীদের আর বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে না। কারণ আপনি অনলাইনেই অসংখ্য টিচিং টুলস পাবেন। অনলাইনে হোয়াইট বোর্ডও পাওয়া যায়। যা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সরাসরি লিখেও দিতে পারেন।
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইগুলো এনসিটিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। শুধু পাঠ্যক্রমই নয় বরং কারিকুলাম, শিক্ষক সহায়ক ও শিক্ষক সংস্করণগুলো পাওয়া যাবে www.nctb.gov.org ওয়েবসাইটে। তাছাড়া আরও যুগোপযোগী ও বিভিন্ন চমৎকার টিচিং টুলস আলোকিত হৃদয় ফাউন্ডেশন, টেনমিনিট স্কুল, ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রাম এবং সরকারে এটুএই প্রোগ্রামে পাবেন। টিচিং টুলস নিয়ে নানা ওয়ার্কশপের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিনিয়ত ফেসবুকে একটু খোঁজ রাখলেই এডুকেশনাল অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।
অনলাইন ক্লাসরুম: এবার আমরা তৈরি করবো অনলাইন ক্লাসরুম। বর্তমানে টিচিং-লার্নি প্রক্রিয়াটি একটি যৌথ কার্যক্রম। কারণ শুধু শিক্ষক পড়াবেন আর শিক্ষার্থীরা শুনবেন- এমন দিন আর নেই। শিক্ষকরা এখন চাইলেই যেকোন তথ্য শেয়ার করা, আদান- প্রদান করা এবং শিক্ষার্থীদের মতামত সরাসরি জানতে পারেন।
শিক্ষকরা অনলাইনে যেসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন- জুম, ইউটিউভ লাইভ, ফেসবুক লাইভ, গুগল ক্লাসরুম এবং মাইক্রোসফট টিম। এ ওয়েবসাইটগুলোর সাহায্যে আপনি নিজের মত করে তৈরি করতে পারবেন আপনার ক্লাসরুম। খুব সহজে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতাও দিচ্ছে ওয়েবসাইটগুলো।
পরীক্ষা ও মূল্যায়ন: এবার আপনি শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করবেন কীভাবে। চাইলে সরাসরি প্রশ্ন করেও মূল্যায়ন করতে পারেন। গুগল ডক, গুগল ফর্ম ও ই-মেইলের গুগল ড্রাইভে শিক্ষার্থীদের বলুন প্রশ্নের উত্তরগুলো আপলোড করতে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা ছবি তুলে আপনাকে পাঠাতে পারেন ইমো কিংবা ম্যাসেঞ্জারে। মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভিডিও কলে ওয়ান টু ওয়ান বা গ্রুপে দিতে পারেন ফিডব্যাক।
গ্রুপ ওয়ার্কের সুযোগ: আমরা সাধারণত বিদ্যালয়ে Professional Learning Community (PLC) করতাম। আবার শিক্ষার্থীদের দলীয় কাজের বিষয়ে উৎসাহিত করতাম। হয়তো ভাবছেন, তাহলে অনলাইনে কি কাজগুলো করা যাবে না? অবশ্যই করা যাবে। শিক্ষার্থীদের আপনি গ্রুপ তৈরি করে দিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা চাইলে নিজেরা নিজেরা গ্রুপে কাজ করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস আপ এবং ইমোতে গ্রুপ তৈরি করলে। শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যেও এ গ্রুপের মাধ্যমে নানা সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
