এইমাত্র পাওয়া

অবশেষে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল

অবশেষে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পদ্ধতির পরীক্ষা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২১) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ফলে এই স্তরের কোনো শিশুকে আর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষায় বসতে হবে না।এই তিন শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হবে।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতি হলো- শ্রেণিশিক্ষক প্রতি মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির মূল্যায়ন রেকর্ড করবেন, প্রতি চার মাস পর রিপোর্ট কার্ড প্রদান করবেন, যাতে অভিভাবকরা তা দেখে সন্তানের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির জন্য গ্রেডিং পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শোনা, বলা, পড়া, কর্মদক্ষতা ও বিষয় জ্ঞান দেখা হবে। ব্যক্তিগত গুণাবলি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার এবং বিশেষ পারদর্শিতার মূল্যায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পাশাপাশি মাধ্যমিক সংযুক্ত সরকারি, বেসরকারি এবং এমপিওভুক্ত স্কুলের ক্ষেত্রেও প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর অংশ হিসাবে চলতি বছর দেশের ১০০টি স্কুলে এই কার্যক্রম পাইলটিং করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয় তা হলো সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতি। নির্দিষ্ট সময় শেষে এই মূল্যায়ন হয়। আগামী বছর থেকে সেটা ধারাবাহিক মূল্যায়নে যাবে। প্রতি দিন পাঠদানের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কাজ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের মূল্যায়ন করবেন যে, ঐ পাঠের বিষয়বস্তু শিশু বুঝেছে কি না। সপ্তাহ শেষে শিক্ষার্থীর ‘শিখন যোগ্যতা’ মূল্যায়ন করে শিক্ষক তার ডায়রিতে লিখে রাখবেন। প্রতি তিন মাস পর শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করে একটি ‘গ্রেড’ দেবেন। এভাবে বছরে তিনটি মূল্যায়নের সমন্বয় করে শিশু পরবর্তী শ্রেণিতে পদোন্নতি পাবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের ওপর চাপ কমানোর বিষয়ে নির্দেশ দেন। তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার না রাখার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত এরপর কাজ‌ শুরু করেন তারা। নানা কারণে দেরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতিতেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তা এত দিন বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার জন্য কাজ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.