আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে বিমোহিত হিলি

আফতাবুজ্জামান তাজ, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ।।

গাছে গাছে মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ, মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পনে দিনাজপুরের হিলির প্রকৃতি সেজেছে অপরুপ সাজে। মনমুগ্ধকর এমন দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে দোলা দিচ্ছে। আমের মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মুকুলের ঘ্রাণ সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। এ যেন মুকুলের স্বর্গরাজ্য। মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ বিমোহিত করছে সকলের মন। শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগে থেকেই মুকুলে মুকুলে শোভা পাচ্ছে পুরো উপজেলার আম গাছগুলো।

ছয় ঋতুর এই বাংলাদেশে পাতাঝড়া ষড়ঋতুর রাজা বসন্ত। আবহমান বাংলার সৌন্দর্যের রাজা বলে পরিচিত গ্রীষ্মকাল। ফাগুনের ছোঁয়ায় পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন রাঙা ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো বাংলার বুক মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত। রঙিন-বন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে।

তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে হাকিমপুর উপজেলার আম বাগানগুলো। আমের মুকুলের ঘ্রাণ সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল।

বাগান মালিক, আমচাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগানে পরিচর্যা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সারিবদ্ধ গাছে ভরপুর আমের মুকুল যেন শোভা ছড়াচ্ছে তার নিজস্ব মহিমায়।

হাকিমপুর উপজেলা ফজলি, খিড়সা, মোহনা, রাজভোগ, রূপালী, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষীরা নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুফলও পেয়েছেন অনেকেই।
এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন জানান, এ উপজেলাতে ৪৭ হেক্টর জমিতে মোট ১৪৫টি আম বাগান রয়েছে। এ উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। আমরা আশাবাদী এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে । কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আম চাষিদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্ষার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.