বাকৃবিতে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে

তানিউল করিম জীম, বাকৃবি প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হলগুলোতে আবাসন-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২য় বর্ষে উঠেও অনেকের জায়গা হচ্ছে গণরুমে। সেখানে পড়াশোনার অসুবিধা ছাড়াও রয়েছে স্বাস্থ্য সমস্যা। এদিকে রবিবার দুপুর ১ টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা ছাত্রীরা তাদের আবাসন সমস্যা নিরসনের দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। এ বিষয়ে প্রশাসন শুধুমাত্র আশ্বাস দেয় ছাত্রীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ ছাত্রী। আর শিক্ষার্থীদের আবসিক ১৩ হলের মাত্র ৪টি হল রয়েছে ছাত্রীদের জন্য। সময়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য আসন সংখ্যা বাড়েনি। এ বছরও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬০৩ জন ছাত্রী এবং ৫০৫ জন ছাত্র। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নতুন ছার্ত্রীদের ওই ৪টি হলের ডাইনিং, গ্রন্থাগার এমনকি হলের নামাজ কক্ষেও রাখা হয়েছে। এতেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষেধক শাখার কক্ষেও প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেগম রোকেয়া হলের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, আবাসন-সংকটের কারণে একক আসন পেতে প্রায় ২-৩ বছর চলে যায়। গণরুমে থাকলে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজন মতো শৌচাগারও না থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নে নেই তেমন কোনো অগ্রগতি।

বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করা এক ছাত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকায় আমাদের জন্য ডাইনিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। প্রতি বেলায়ই বাহিরের খাবার হোটেল থেকে খাবার আনতে হয়। পাশাপাশি খাবার পানি, ওয়াশরুম ও সীমিত জায়গায় গাদাগাদি করে থাকার ফলে পরিবেশ নষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া রোগীদের আসা-যাওয়া এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমারেখা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ইতোমধ্যে ছাত্রীদের জন্য নতুন হল নির্মাণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছাত্রী হলের আবাসন সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সুলতানা রাজিয়া হলের একপাশের বøক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চতুর্থ তলার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। এছাড়া চলতি বছরের মে-জুন মাসের মধ্যেই মেয়েদের জন্য নতুন দুইটি হলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এতে ছাত্রীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত হবে বলে জানান তিনি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.