গাংনীর আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড়

মেহেরপুর প্রতিনিধি,রফিকুল আলম।।
মেহেরপুর গাংনী উপজেলার আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্ক করার অপচেষ্টা করছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আমির উদ্দীন আহমেদ ও তার লোকজন। এমন অভিযোগে বিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকাশ্যেই আমির উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তারা।

অপরদিকে আমির উদ্দীন আহমেদ কখনো প্রতিষ্ঠাতা এবং কখনো তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দাবি করার বিষয়ে এলাকায় বইছে নিন্দা আর প্রতিবাদের ঝড়। স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন দপ্তরে তিনি অভিযোগ দিয়ে বিদ্যালয়েল শিক্ষার পরিবেশ আর এলাকার শান্তি শৃংখলা নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোকাদ্দেস আলী বলেন, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দালিলিক প্রমাণে কোন ব্যক্তির নাম নেই। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর প্রথম সভাপতি ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ছাবদাল হোসেন কালু। তাকে আমরা সবাই প্রতিষ্ঠাকালিন সভাপতি হিসেবে মানি। সাবেক সভাপতি আমির উদ্দীন আহমেদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সভাপতি পদ থেকে ছিটকে পড়েছেন। এখন মনগড়া অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন। যা খুবই দুঃখজনক।

গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিধি মোতাবেক পত্রিকায় নির্বাচনী তফশীল প্রকাশের মাধ্যমে আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও দাখিল করেন। একের অধিক প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী না থাকায় সম্পূর্ণ বিধি মোতাবেক একক প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার মীর হাবিবুল বাসার বলেন, সম্পূর্ণ বিধি মোতাবেক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা প্রাক্তন সেনা সদস্য আব্দুল হান্নানকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাবেক সভাপতি আমির উদ্দীন আহমেদ বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আর সমালোচনার ঝড় বাইছে।

দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সারা বছরই ঢাকায় থাকেন। কালেভদ্রে এলাকায় আসেন বিশেষ কোন কাজে। এর পরও কি কারণে তিনি সভাপতির পদ আকড়ে থাকতে চাইছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার মানুষ।

আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী পাড়ার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, সাবেক সভাপতি আমির উদ্দীন আহমেদ সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যান ২০০৪ সালে। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন বিএনপি-জামায়াত সমর্থীত। এলাকার লোকজনের কাছে আমির উদ্দীন খুব পছন্দের ব্যক্তি নন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিকল্প ধারার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দীতা করেন। জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি নির্বাচনে গোটা গাংনী উপজেলায় ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ৩৪৯ টি।

নিজ গ্রামের কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৪৯টি। এতেই বোঝা যায় এলাকার মানুষ তাকে কতটা পছন্দ করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সাবেক সভাপতি আমির উদ্দীনের একটি টাকারও অবদান নেই। নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্যই তিনি সভাপতির পদটি আকড়ে ধরতে চান। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি জেলা পরিষদের অর্থায়নে, তৃতীয়তলা ভবনটির প্রথম তলা নির্মান হয় সাবেক মহিলা এমপি নুর জাহান বেগম ও বর্তমান এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনের একান্ত প্রচেষ্টায়। এ ভবনটির উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ হয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের সহায়তায়। অথচ তৃতীয়তলা ভবনটি আমির উদ্দীন আহমেদ তার নিজ নামে একাডেমিক ভবনটির নাম করণ করেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। অপরদিকে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব বর্তমান এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনের প্রচেষ্টায় তৈরী হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে আমির উদ্দীন আহমেদের মোবাইলে কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.