আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী নিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বীমা, ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধি এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্যানেল আইনজীবীর মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২ বছর। যাদের পারফরম্যান্স ভালো হবে, তাদের পুনর্নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের কী-পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) নির্ধারণ করতে হবে। কেপিআই অনুসারে নিয়মিত আইনজীবীদের মামলা পরিচালনার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে হবে। যাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হবে না তাদের কমিটির কাছে উপস্থাপন করে প্যানেল থেকে বাদ দিয়ে নতুন আইনজীবী নিয়োগ দিতে হবে।
আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও তাদের পেশাগত দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটে এমন কোনো কাজ প্যানেল আইনজীবী করতে পারবেন না। এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে কমিটির সুপারিশ নিয়ে তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীদের নামের তালিকা ও ফোন নম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, ব্যাংক-বীমাসহ সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিভিন্ন আইনজীবী প্যানেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেয় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, ব্যাংক-বীমাসহ সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও দেওয়ানি আদালতের জন্য বেসরকারি প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ‘তাদের অধিকাংশকে আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি নিয়ে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিয়ে এ নিয়োগ প্রদান করে। তাদের কর্মপন্থা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি কৌঁসুলি ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার্থে মামলা করার জন্য বলা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল চিঠিতে বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশ ২০ থেকে ২৫টি বা তারও অধিকসংখ্যক সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাচ্ছেন। তারা মূলত অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে না পারায় সরকারি মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন শাখাগুলোয় যোগাযোগ রক্ষা করে তারা দীর্ঘদিন এ পদগুলো দখল করে আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্যানেল আইনজীবী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করছে, কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট বার কিংবা বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোয় ভিন্ন রাজনীতি করছে, যাতে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অভিমত হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি, আধাসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও দক্ষতাসম্পন্ন আইনজীবী প্যানেল নিয়োগের জন্য কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখা জরুরি। অ্যাটর্নি জেনারেলের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
